মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৭১৫
নামাযের অধ্যায়
এ পরিচ্ছেদটিতে সে ব্যক্তি সম্পর্কীত আলোচনা রয়েছে, যে ব্যক্তি মানুষকে ওয়াজ-নসীহত করতেন এবং তাদেরকে দান-সাদকাহ্, যিকর, দু'আ এবং তাকবীর বলার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদান করতেন
(১৭১২) উম্মুল মু'মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সালাতে (সালাতুল কুসূফ) রাসূল (ﷺ)-এর দীর্ঘ কিয়াম দু'রাক'আত সালাতে প্রতি রাক'আতে দু'টি করে রুকু ইত্যাদি বর্ণনা করেন, যেমনটি তাঁর বর্ণিত পূর্ববর্তী হাদীসসমূহে উল্লেখ রয়েছে। তিনি আরো বলেন, রাসূল (ﷺ) যখন সালাত শেষ করলেন তখন সূর্য আলোকোজ্জ্বল হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি খুৎবা দিতে দাঁড়িয়ে প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই চন্দ্র ও সূর্য মহান আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত। চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ ব্যক্তি বিশেষের জন্ম বা মৃত্যুর কারণে ঘটে না। যখনই তোমরা চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ লাগতে দেখবে তখন তাকবীর বলবে এবং আল্লাহর কাছে দু'আ করবে। সালাত আদায় ও দান-সাদকাহ করবে। অতঃপর বললেন, হে মুহাম্মদের উম্মত, কেউই মহান আল্লাহর চেয়ে অন্যায়ের প্রতি অধিকতর ক্রোধ বিরক্তিসম্পন্ন নয়, যে তার দাস বা তার দাসী ব্যভিচার করবে। হে মুহাম্মদের উম্মত, আমরা যা জ্ঞাত রয়েছি তোমরা যদি তা জ্ঞাত হতে, তাহলে অবশ্যই তোমরা বেশী কাঁদতে আর কমই হাসতে। হে শ্রোতামণ্ডলী! আমি কি (ওহীর বাণী) পৌছিয়েছি।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম, মুয়াত্তা মালিক, সুনান আন-নাসায়ী।)
كتاب الصلاة
فصل منه في وعظ الناس وحثهم على الصدقة والذكر والدعاء والتكبير
(1715) عن عائشة رضي الله عنها "تصف صلاة رسول الله صلى الله عليه وسلم في الكسوف بطول القيام؛ وأنَّه صلَّاها ركعتين في كلِّ ركعةٍ ركوعان كما تقدَّم في أحاديثها السَّابقة وفيه قالت "فانصرف رسول الله صلى الله عليه وسلم وقد تجلَّت الشَّمس فخطب النَّاس فحمد الله عزَّ وجلَّ وأثنى عليه ثمَّ قال إنَّ الشَّمس والقمر من آيات الله، وإنَّهما لا يخسفان لموت أحدٍ ولالحياته، فإذا رأيتموهما فكبِّروا وادعوا الله عزَّ وجلَّ صلُّوا وتصدَّقوا، يا أمَّة محمَّدٍ ما من أحدٍ أغير من الله عزَّ وجلَّ أن يزني عبده أو تزني أمته، يا أمَّة محمَّدٍ والله لو تعلمون ما أعلم لبكيتم كثيرًا ولضحكتم قليلًا، ألا هل بلَّغت؟

হাদীসের ব্যাখ্যা:

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বেশি হাসাহাসি পসন্দ করতেন না। বেশি হাসিতে অন্তরে উদাসীনতা জন্ম নেয়। এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন لا تكثر الضحك، فإن كثرة الضحك تميت القلب "বেশি হাসবে না। কেননা হাসির আধিক্য অন্তরের মৃত্যু ঘটায়।”

একবার তিনি সাহাবায়ে কেরামের উদ্দেশ্যে এক হৃদয়গ্রাহী ভাষণ দেন। তাতে তিনি এই বলে তাদের উপদেশ দিয়েছিলেন যে (তোমরা যদি জানতে যা আমি জানি, তবে অবশ্যই তোমরা কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে)। অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা পাপীদের জন্য কী কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রেখেছেন, কী কঠিন কিয়ামতের বিভীষিকা এবং কত কঠিন হাশরের ময়দানের পরিস্থিতি, তা আমি যেমনটা জানি তেমনি তোমরাও যদি জানতে, তবে অবশ্যই কম হাসতে এবং বেশি কাঁদতে। এক বর্ণনায় এরপর আছে
ولما ساغ لكم الطعام ولا الشراب، ولما نمتم على الفرش ولهجرتم النساء، ولخرجتم إلى الصعدات تجأرون
"তোমাদের কাছে পানাহার ভালো লাগত না। তোমরা বিছানায় ঘুমাতে পারতে না। তোমরা নারীদের থেকে দূরে থাকতে। তোমরা চিৎকার করতে করতে রাস্তাঘাটে বের হয়ে পড়তে।

হাদীছটি দ্বারা প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে পার্থিব জীবনযাপন সম্পর্কে এ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন যে, দুনিয়া আনন্দে মেতে থাকার জায়গা নয়। তা থাকা উচিতও নয়। তার সামনে আখিরাত আছে। সেখানকার পরিস্থিতি বড় কঠিন। সে কঠিন পরিস্থিতির ব্যাপারে চিন্তিত থাকা উচিত। মনে ভয় রাখা উচিত। উচিত আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি কাঁদা, যাতে তিনি সেখানে নাজাত দান করেন। যেন তিনি নিজ রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দান করেন।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. ওয়াজ-নসীহতে হাসানো নয়; বরং কাঁদানোই প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের তরিকা।

খ. অল্প হাসি দোষের নয়, যদি অন্তরে আখিরাতের ভয় থাকে এবং সে ভয়ে ক্রন্দনও করা হয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান