মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬৭৯
নামাযের অধ্যায়
(এগার) তাশরীকের দিবসসমূহ যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ এবং দু'ঈদের দিবসে আল্লাহর যিকির করা, তাঁর আনুগত্য-ইবাদত এবং তাকবীর বলার ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানের প্রাসঙ্গিক পরিচ্ছেদ
(১৬৭৫) আবূ হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ঈদুল আযহার পরবর্তী তিনদিন (তাশরীক দিবসসমূহ) হচ্ছে খাদ্য-খাবার গ্রহণ ও মহান আল্লাহকে স্মরণ করার দিন। অন্যত্র তিনি বলেন, এসব দিবস হচ্ছে পানাহারের দিবস।
(সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীসটির সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
(11) باب الحث على الذكر والطاعة والتكبير للعيدين وفى أيام العشر وأيام التشريق
(1679) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله (صلى الله عليه وسلم) أيَّام التَّشريق (2) أيَّام طعمٍ (3) وذكر الله تعالى، وقال مرَّة أيَّام أكلٍ وشربٍ

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবূ সাঈদ খুদরী, হযরত আবু হুরায়রা ও হযরত উমর রাযি.-এর হাদীসগুলোতে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোযা রাখতে স্পষ্ট নিষেধ করা হয়েছে। হযরত উমর রাযি.-এর বক্তব্যে এদিকেও ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈদুল ফিতরের দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, আল্লাহ তা'আলা এ দিনটিকে রমযানের পর 'ইফতারের দিন' অর্থাৎ, রোযা না রেখে পানাহার করার দিন বানিয়েছেন। এই কারণে এ দিন রোযা রাখাতে আল্লাহর অভিপ্রায়ের বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। আর কুরবানীর দিন রোযা রাখা এজন্য নিষেধ যে, এটা হচ্ছে কুরবানীর গোশত খাওয়ার দিন। আল্লাহর অভিপ্রায় যেন এই যে, এ দিন আল্লাহর নামে যেসব কুরবানী করা হয়, আল্লাহর বান্দারা যেন এগুলোর গোশত আল্লাহর মেহমানী মনে করে এবং তার দুয়ারের ভিখারী সেজে শুকরিয়ার সাথে খেয়ে নেয়। নিঃসন্দেহে ঐ বান্দা খুবই অহংকারী ও অকৃতজ্ঞ বিবেচিত হবে, যে আল্লাহর এই আম মেহমানীর দিন জেনে শুনে রোযা রাখে। তথা পানাহার বর্জন করে আর যিলহজ্বের ১১ ও ১২ তারিখও যেহেতু কুরবানীর দিন, সুতরাং এগুলোর বিধানও তাই হবে। অর্থাৎ, এ দু'দিনও রোযা রাখা যাবে না। নুবাইশা হুযালীর হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) আইয়ামে তাশরীকের সবকটি দিনকেই পানাহার অর্থাৎ, আল্লাহর মেহমানীর দিন বলেছেন, যার মধ্যে ১৩ই যিলহজ্বও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাই ১০ ই যিলহজ্ব থেকে ১৩ ই যিলহজ্ব পর্যন্ত ৪ দিনই রোযা রাখা নিষিদ্ধ সাব্যস্ত করা হয়েছে। অতএব, এ দিনগুলোতে রোযা রাখা আর ইবাদত হবে না; বরং গুনাহর কাজ হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান