মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৬২৭
নামাযের অধ্যায়
দুই ঈদের সালাত ও এতদসংশ্লিষ্ট সালাত ও অন্যান্য বিষয়ের পরিচ্ছেদসমূহ

(এক) দুই ঈদ শরীয়াহ্ সম্মত (বিধিবদ্ধ) হওয়ার কারণ, ঈদের সালাত আদায়ের পূর্বে গোসল ও সাজসজ্জা করা এবং ঈদগাহে যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করা মুস্তাহাব হওয়ার পরিচ্ছেদ
(১৬২৩) আবদুল্লাহ ইবনে 'উমর (রা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, 'উমর (রা) একটি নকশি করা রেশমী শাল ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে দেখে রাসূল (ﷺ)-কে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি যদি এ চাদরটি ক্রয় করতেন, তাহলে এটিকে জুমু'আর দিবসে অথবা কোন প্রতিনিধি দল আসলে তাদের সাথে সাক্ষাতের সময় পরিধান করতে পারতেন। এতদশ্রবণে রাসূল (ﷺ) বললেন, এ জাতীয় পোশাক যে দুনিয়াতে পরিধান করবে, পরকালে তার কোন অংশ থাকবে না।
(সহীহুল বুখারী, সহীহ মুসলিম ও অন্যানা।)
كتاب الصلاة
أبواب العيدين وما يتعلق بهما من صلاة وغيرها

(1) باب سبب مشروعيتها واستحباب الغسل والتجمل لهما ومخالفة الطريق
(1627) عن ابن عمر رضى الله عنهما أنَّ عمر رأى حلَّة سيراء (1) أو حريرٍ تباع، فقال للنَّبيِّ (صلى الله عليه وسلم) لو اشتريت هذه تلبسها يوم الجمعة أو للوفود (2) قال إنَّما يلبس هذه من لا خلاق له (1)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীছে জানানো হয়েছে, রেশমী পোশাক পরে এমন ব্যক্তি, আখিরাতে যার কোনও অংশ নেই। অর্থাৎ যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। তার মানে এটা অমুসলিমদের পোশাক। অন্য হাদীছে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরে, সে আখিরাতে রেশমী পোশাক পরবে না। আর এ কারণে মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়েছে। সারমর্ম হল- রেশমি পোশাক দুনিয়ায় অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য দুনিয়ায়। এটা পরা জায়েয নয়। তা সত্ত্বেও কোনও মুসলিম ব্যক্তি যদি রেশমী পোশাক পরে, তবে আখিরাতে সে এ পোশাক পরতে পারবে না। অর্থাৎ এ হুকুম অমান্য করার কারণে সে শুরুতে জান্নাতে যেতে পারবে না। জান্নাতের পোশাক রেশমী পোশাক। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
‘সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের’ (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৩)

কাজেই 'দুনিয়ায় যে মুমিন রেশমী পোশাক পরে, আখিরাতে সে তা পরবে না' দ্বারা বোঝানো হয়েছে সে প্রথমে জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথমে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঈমানের বদৌলতে সে জান্নাত লাভ করবে। জান্নাত লাভ করার পর জান্নাতের অপরাপর নি'আমতের মতো রেশমী পোশাকও সে পাবে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়ায় যে মুমিন ব্যক্তি রেশমী পোশাক পরবে, সে জান্নাত লাভ করলেও জান্নাতের অন্যান্য নি'আমত ঠিকই পাবে, কিন্তু রেশমী পোশাক পাবে না।

প্রশ্ন দাঁড়ায়, তবে তো তার মনে রেশমী পোশাক না পাওয়ার কষ্ট থেকে যাবে, অথচ জান্নাত কষ্টের জায়গা নয়?
এর উত্তর হল, জান্নাতে এমন ব্যক্তির অন্তর থেকে রেশমী পোশাকের চাহিদাই দূর করে দেওয়া হবে। অন্তরে যখন এ পোশাকের চাহিদা থাকবে না, তখন না পাওয়ার দরুন কোনও কষ্টও সে পাবে না, যেমন সাধারণ স্তরের জান্নাতীগণ উচ্চস্তরের জান্নাতবাসীগণের মতো মর্যাদা না পাওয়ার কারণে কোনও কষ্ট বোধ করবে না।

হাদীছের মূল বার্তা হল মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করা, যাতে তারা এটা না পরে। কেননা এটা পরলে শরী'আতের হুকুম অমান্য করা হবে। পরিণামে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, যদি না আল্লাহ তা'আলা মাফ করেন।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিমদেরকে অবশ্যই এ পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে।

খ. রেশমী পোশাক পরিধান করলে আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

গ. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরিধান করলে জান্নাতে এ নি'আমত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান