মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫৯৬
নামাযের অধ্যায়
১১. অনুচ্ছেদ: জুমু'আর দিন দুই খুতবা প্রদান, খুতবা প্রদানের পদ্ধতি, খুতবার আদব ও উভয়ের মাঝে বসা
১৫৯২. (য) জাবির ইবনে সামুরা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ﷺ)-এর সাথে নামায পড়েছি। তাঁর নামায ও খুতবা ছিল নাতিদীর্ঘ। তিনি আরো বলেন, রাসূল (ﷺ) দু'টি খুতবা দিতেন, উভয় খুতবার মাঝখানে বসতেন। তিনি (খুতবায়) কুরআন পড়তেন এবং জনগণকে উপদেশ দিতেন।
(মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ।)
كتاب الصلاة
(11) باب ما جاء في الخطبتين يوم الجمعة وهيئاتهما وآدابهما والجلوس بينهما
(1596) ز عن جابر بن سمرة رضي الله عنه قال صلَّيت مع النَّبيِّ (صلى الله عليه وسلم) فكانت صلاته قصدًا وخطبته قصدًا (3) وبهذا الإسناد قال كانت لرسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم خطبتان يجلس بينهما يقرأ القرآن ويذكِّر النَّاس (4)

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ বর্ণনায় হযরত জাবির ইবন সামুরা রাযি. নিজ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পেছনে অনেক নামায পড়েছেন এবং তাঁর অনেক খুতবা শুনেছেন। তাঁর সে নামায ও খুতবা কেমন হত, খুব বেশি লম্বা না বেশি খাটো, না অন্যকিছু? তিনি জানাচ্ছেন, তা হত মাঝামাঝি পরিমাণ, বেশি লম্বাও না এবং বেশি খাটোও না।

নামায বেশি লম্বা না করার অর্থ এই নয় যে, নামায পূর্ণাঙ্গ করা হত না। ফরয- ওয়াজিবের পাশাপাশি যেসব সুন্নত-মুস্তাহাব আছে তাও তিনি রক্ষা করতেন, যেমন তাঁর নামায সম্পর্কিত হাদীছসমূহ দ্বারা জানা যায়।

তবে সুন্নত-মুস্তাহাব রক্ষার পর ইমামের উচিত নামায বেশি লম্বা না করা, যাতে বৃদ্ধ, অসুস্থ ও অন্যান্য জরুরত ব্যস্ত মুক্তাদীদের কষ্ট না হয়। কোনও কোনও হাদীছে যে ইমামকে নামায সংক্ষেপ করতে বলা হয়েছে তার অর্থ এটাই। অর্থাৎ সুন্নত-মুস্তাহাবের পর বেশি দীর্ঘ না করা। উদাহরণত "ইশা ও আসরের নামাযে যে কিরাআত পড়া মুস্তাহাব তাকে 'আওসাতে মুফাসসাল' বলে। সূরা বুরূজ থেকে বায়্যিনাহ পর্যন্ত সূরাসমূহ। এর আগের সূরা হুজুরাত থেকে বুরূজ পর্যন্ত সূরাসমূহকে তিওয়ালে মুফাসসাল' বলে। এসব সূরা ফজর ও যোহরের নামাযে পড়া মুস্তাহাব। ইমামের উচিত সাধারণভাবে এ নিয়ম রক্ষা করা। যদি ‘ইশার নামাযে তিওয়ালে মুফাসসাল থেকে পড়ে আর তাতে মুসল্লীগণের কষ্ট হয়, তবে তা পড়া সমীচীন হবে না। হযরত মু'আয ইবন জাবাল রাযি. কিছুদিন এরূপ করেছিলেন। তাতে এক মুসল্লীর কষ্ট হয় এবং তিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এ ব্যাপারে নালিশ করেন। তা শুনে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত মু'আয রাযি.-এর প্রতি অত্যন্ত রাগ করেন এবং তাঁকে আওসাতে মুফাসসাল থেকে পড়তে বলে দেন। এর দ্বারা বোঝা গেল ইমাম সুন্নত-মুস্তাহাবের দিকে লক্ষ করে নামায পড়াবেন। মুসল্লীদের কষ্ট হয় বলে সুন্নত-মুস্তাহাবও ছেড়ে দিয়ে নামায সংক্ষেপ করবে, সে কথা বলা হয়নি।

এমনিভাবে তাঁর খুতবা দীর্ঘ না হলেও এত সংক্ষেপও হত না যে, বক্তব্য বিষয় অস্পষ্ট থেকে যেত। খুতবার উদ্দেশ্য তো মানুষকে দীনী কথা বোঝানো। যে সংক্ষেপের কারণে তা বুঝতে কষ্ট হয় সে সংক্ষেপ দূষণীয়। খুতবায় তা পসন্দনীয় নয়। তাই নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের খুতবা দীর্ঘ না হলেও অতি সংক্ষিপ্তও হত না; বরং মাঝামাঝি পর্যায়ের হত, যা দ্বারা তাঁর বক্তব্য শ্রোতাগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারত।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. এ হাদীছ দ্বারাও 'ইবাদত-বন্দেগীতে মধ্যপন্থা রক্ষার গুরুত্ব বোঝা যায়।

খ. ইমামের কর্তব্য সুন্নত-মুস্তাহাব রক্ষার পর নামায অতি দীর্ঘ না করা।

গ. জুমু'আর খুতবাও বেশি লম্বা না করা বাঞ্ছনীয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ - হাদীস নং ১৫৯৬ | মুসলিম বাংলা