মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩৫৩
নামাযের অধ্যায়
(৪) অনুচ্ছেদ: দূরের মসজিদ এবং মসজিদের দিকে বেশী পদক্ষেপের ফযীলত প্রসঙ্গে
(১৩৪৯) আবূ যুবায়ের থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি জাবিরকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কি রাসূল (ﷺ)-কে কোন ব্যক্তির মসজিদের দিকে বেশী পদক্ষেপের ব্যাপারে কিছু বলতে শুনেছেন? তিনি বলেন, আমরা আমাদের বাড়ি থেকে মদীনায় মসজিদের নিকটে বাড়ি করার জন্য স্থান পরিবর্তন করতে চাইতাম। তখন রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে ধমকের স্বরে নিষেধ করলেন এবং বললেন, তোমরা মদীনাকে বিরাণ করে দিও না। কেননা যাদের বাড়ি মসজিদের নিকটে তাদের চেয়ে তোমাদের জন্য প্রতি পদক্ষেপের বিনিময়ে রয়েছে একটা করে ফযীলত (সাওয়াব)।
দ্বিতীয় এক সূত্রে আবূ নাদরা জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মসজিদের পার্শ্বের স্থান শুন্য হল তখন বনু সালামা মসজিদের নিকটে তাদের বাড়ী ঘর নিয়ে আসার ইচ্ছা করল। ব্যাপারটা রাসূল (ﷺ) অবগত হলেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমার কাছে সংবাদ এসেছে যে, তোমরা তোমরা বাড়ীঘর মসজিদের নিকটবর্তী নিয়ে আসতে চাও? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা এমনটি ইচ্ছা পোষণ করেছি। রাসূল (ﷺ) বললেন, হে বনু সালামা, তোমাদের বাড়ীঘর থেকেই তোমাদের পদক্ষেপ লেখা হবে। তোমাদের বাড়ী হতেই তোমাদের পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হবে।
(হাদীসটির প্রথম সনদে ইবন লাহিয়া আছে। ইমাম মুসলিমও অত্র হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয় সূত্রের হাদীসটি মুসলিম ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন।)
দ্বিতীয় এক সূত্রে আবূ নাদরা জাবির (রা) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, মসজিদের পার্শ্বের স্থান শুন্য হল তখন বনু সালামা মসজিদের নিকটে তাদের বাড়ী ঘর নিয়ে আসার ইচ্ছা করল। ব্যাপারটা রাসূল (ﷺ) অবগত হলেন। তিনি তাঁদেরকে বললেন, আমার কাছে সংবাদ এসেছে যে, তোমরা তোমরা বাড়ীঘর মসজিদের নিকটবর্তী নিয়ে আসতে চাও? তাঁরা বললেন, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা এমনটি ইচ্ছা পোষণ করেছি। রাসূল (ﷺ) বললেন, হে বনু সালামা, তোমাদের বাড়ীঘর থেকেই তোমাদের পদক্ষেপ লেখা হবে। তোমাদের বাড়ী হতেই তোমাদের পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হবে।
(হাদীসটির প্রথম সনদে ইবন লাহিয়া আছে। ইমাম মুসলিমও অত্র হাদীসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন। আর দ্বিতীয় সূত্রের হাদীসটি মুসলিম ইত্যাদি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب الصلاة
(4) باب فضل المسجد الابعد وكثرة الخطا الى المساجد
(1353) عن أبى الزُّبير قال سألت جابرًا سميع النَّبيَّ صلى الله عليه وسلم يقول في كثرة خطا الرَّجل إلى المسجد شيئًا؟ فقال هممنا أن ننتقل من دورنا إلى المدينة لقرب المسجد فزجرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ذلك، وقال لا تعروا المدينة، فإنَّ لكم فضيلةً على من عند المسجد بكلِّ خطوةٍ درجة (ومن طريقٍ ثانٍ) عن أبى نضرة عن جابر قال خلت البقاع حول المسجد فأراد بنو سلمة أن ينتقلوا قرب المسجد فبلغ ذلك رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم فقال لهم إنَّه بلغنى أنَّكم تريدون أن تنتقلوا قرب المسجد؟ قالوا نعم يا رسول الله أردنا ذلك، فقال يا بنى سلمة دياركم تكتب آثاركم دياركم تكتب آثاركم
হাদীসের ব্যাখ্যা:
বনু সালিমার লোকজন মসজিদে নববীর কাছে চলে আসতে চেয়েছিলেন নেক উদ্দেশ্যেই। তারা মনে করেছিলেন মসজিদের কাছে থাকলে জামাত ধরা সহজ হবে এবং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছ থেকে দীনী ইলম শেখারও সুযোগ বেশি পাবেন। তা সত্ত্বেও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে তাদের এলাকা ছেড়ে আসতে নিষেধ করলেন। নিষেধ করলেন এ কারণে যে, যদিও কাছে আসার ভালো কিছু দিক রয়েছে, কিন্তু দূর থেকে আসার যে স্বতন্ত্র ফযীলত আছে তা তো পাবে না। সে ফযীলত যে কত গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝানোর জন্য তিনি দু'-দু'বার বললেন- “তোমরা আপন বাসভূমিতেই থাক। তোমাদের পদক্ষেপসমূহ লেখা হবে। তোমরা আপন বাসভূমিতেই থাক। তোমাদের পদক্ষেপসমূহ লেখা হবে”।
অর্থাৎ মসজিদ থেকে দূরে থাকায় তোমাদের বেশি পথ হাঁটতে হবে। তাতে তোমাদের পদক্ষেপ-সংখ্যা অনেক বেশি হবে। যত পদক্ষেপ তত ছাওয়াব। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَ أَثَارَهُمْ
অর্থ : আমি লিখে রাখি তারা (আখিরাতের জন্য) যা অগ্রিম পাঠায় এবং তাদের পদক্ষেপসমূহ। সূরা ইয়াসীন, আয়াত ১২
অর্থাৎ নেক আমলের জন্য পথ চলতে গিয়ে যত কদম ফেলা হয় তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে ছাওয়াব লেখা হয়। বলাবাহুল্য, মসজিদে যাতায়াত করা অনেক বড় নেক আমল। তাই এর প্রত্যেকটি কদমের বিনিময়েও ছাওয়াব লেখা হয়ে থাকে। যেমন অপর এক হাদীছে আছে, প্রত্যেক কদমে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কাজেই দূর থেকে মসজিদে আসতে যেহেতু তোমাদের অনেক বেশি কদম পড়বে, সেহেতু তোমাদের গুনাহও অনেক বেশি মাফ হবে এবং মর্যাদাও অনেক বেশি উঁচু হবে। এমন ফযীলত তোমরা ছাড়বে কেন? কাছে চলে আসলে তো এটা পাবে না। তাই আপন জায়গায়ই থাক। সুতরাং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরামর্শ মোতাবেক তারা বাসস্থান পরিবর্তনের ইচ্ছা ত্যাগ করে আগের জায়গায়ই থেকে গেলেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছ দ্বারা জানা গেল কারও বাড়ি মসজিদ থেকে দূরে হওয়া দোষের নয়, যদি উদ্দেশ্য থাকে দূর থেকে মসজিদে আসার ছাওয়াব হাসিল করা।
খ. মসজিদে পায়ে হেঁটে আসা উত্তম। তাতে প্রত্যেক কদমে গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বাড়ে।
গ. এ হাদীছ দ্বারা শিক্ষা পাওয়া যায় দীনী বিষয়ে 'উলামায়ে কিরামের পরামর্শ মেনে চলা বাঞ্ছনীয় ।
ঘ. দীনী মুরুব্বীর কর্তব্য তার অনুসারীকে দীনের ব্যাপারে উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টতর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া।
অর্থাৎ মসজিদ থেকে দূরে থাকায় তোমাদের বেশি পথ হাঁটতে হবে। তাতে তোমাদের পদক্ষেপ-সংখ্যা অনেক বেশি হবে। যত পদক্ষেপ তত ছাওয়াব। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَنَكْتُبُ مَا قَدَّمُوا وَ أَثَارَهُمْ
অর্থ : আমি লিখে রাখি তারা (আখিরাতের জন্য) যা অগ্রিম পাঠায় এবং তাদের পদক্ষেপসমূহ। সূরা ইয়াসীন, আয়াত ১২
অর্থাৎ নেক আমলের জন্য পথ চলতে গিয়ে যত কদম ফেলা হয় তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে ছাওয়াব লেখা হয়। বলাবাহুল্য, মসজিদে যাতায়াত করা অনেক বড় নেক আমল। তাই এর প্রত্যেকটি কদমের বিনিময়েও ছাওয়াব লেখা হয়ে থাকে। যেমন অপর এক হাদীছে আছে, প্রত্যেক কদমে একটি গুনাহ মাফ হয় এবং একটি মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। কাজেই দূর থেকে মসজিদে আসতে যেহেতু তোমাদের অনেক বেশি কদম পড়বে, সেহেতু তোমাদের গুনাহও অনেক বেশি মাফ হবে এবং মর্যাদাও অনেক বেশি উঁচু হবে। এমন ফযীলত তোমরা ছাড়বে কেন? কাছে চলে আসলে তো এটা পাবে না। তাই আপন জায়গায়ই থাক। সুতরাং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরামর্শ মোতাবেক তারা বাসস্থান পরিবর্তনের ইচ্ছা ত্যাগ করে আগের জায়গায়ই থেকে গেলেন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. এ হাদীছ দ্বারা জানা গেল কারও বাড়ি মসজিদ থেকে দূরে হওয়া দোষের নয়, যদি উদ্দেশ্য থাকে দূর থেকে মসজিদে আসার ছাওয়াব হাসিল করা।
খ. মসজিদে পায়ে হেঁটে আসা উত্তম। তাতে প্রত্যেক কদমে গুনাহ মাফ হয় ও মর্যাদা বাড়ে।
গ. এ হাদীছ দ্বারা শিক্ষা পাওয়া যায় দীনী বিষয়ে 'উলামায়ে কিরামের পরামর্শ মেনে চলা বাঞ্ছনীয় ।
ঘ. দীনী মুরুব্বীর কর্তব্য তার অনুসারীকে দীনের ব্যাপারে উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টতর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)