মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৩৩৭
নামাযের অধ্যায়
জামা'আতে সালাত আদায়ের জন্য নারীদের মসজিদে যাওয়া সংক্রান্ত অনুচ্ছেদসমূহ

(১) অনুচ্ছেদ: নারীদের জামা'আতে শামিল হওয়ার অনুমতি দান প্রসঙ্গে
(১৩৩৩) আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের নারীদেরকে মসজিদে যাওয়াকে বাধা দিও না। অবশ্য (সালাতের জন্য) তাদের গৃহই তাদের জন্য উত্তম। রাবী বলেন, তখন আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমরের কোন ছেলে তাঁকে বললো- হ্যাঁ, আল্লাহর কসম, আমরা অবশ্যই তাদেরকে মসজিদে যেতে বাধা দিব। একথা শুনে আব্দুল্লাহ ইবন উমর বললেন- তুমি শুনছ যে, আমি রাসূল (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করছি। তারপরও তুমি যাচ্ছে তাই বলছো।
(আবু দাউদ, বায়হাকী, ইবনে খুযাইমা ও তবারানী। এর কিছু অংশ মুসলিমেও রয়েছে। এর সনদ উত্তম।)
كتاب الصلاة
أبواب خروج النساء الى المساجد للجماعة

(1) باب الأذن لهن بالخروج لذلك
(1337) عن حبيب بن أبى ثابتٍ عن ابن عمر رضى الله عنهما أنَّ رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لا تمنعوا نساءكم المساجد وبيوتهنَّ خيرٌ لهنَّ قال فقال ابنٌ لعبد الله بن عمر بلى والله لنمنعهنَّ، فقال ابن عمر تسمعنى أحدِّث عن رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم وتقول ما تقول

হাদীসের ব্যাখ্যা:

রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁর জীবনকালে যখন মসজিদে নববীতে দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের ইমামতি করতেন, তখন তিনি একথা পরিষ্কার করে বলেছেন: মহিলাদের নিজ ঘরে সালাত আদায় করা উত্তম এবং তাতে অনেক সাওয়াব রয়েছে। বহু সংখ্যক সতী সাধবী নারী একান্তভাবেই আগ্রহী ছিলেন যে, তাঁরা কমপক্ষে তাঁর পিছনে এশা ও ফজরের সালাত জামা'আতের সাথে আদায় করবেন। কিন্তু কিছু সংখ্যক লোক তাদের স্ত্রীদের অনুমতি দিচ্ছিলেন না। তবে তাঁদের অনুমতি না দেওয়ার পেছন কোন ফিতনা কিংবা কু-ধারণা নিহিত ছিল না। কারণ তখন পুরো সমাজ ইসলামী ভাবধারা অবগাহিত ছিল। বরং শরী'আত পরিপন্থী একটি চেতনাই নিষেধের ভিত্তি ছিল। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের স্ত্রীদের মধ্যে যারা রাতের সালাত জামা'আতের সাথে আদায়ে আগ্রহী, তোমরা তাদের অনুমতি দিবে। কিন্তু তিনি নারীদের সর্বদা একথা বুঝাতে চেষ্টা করেছেন যে, নিজ ঘরে সালাত আদায়ে তোমাদের জন্য রয়েছে অনেক সাওয়াব।

মহিলাদের মসজিদের সালাত আদায়ের ব্যাপারে বিভিন্ন পর্যায়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ বাণী প্রদান করেছেন। কিন্তু মহিলাদের মনে ঘরে সালাত আদায়ে অনেক সাওয়াব হওয়ার বিষয়টি স্থান পেলেও তাঁরা এতটুকু আবেগপ্রবণ হয়েছিলেন যে, কমপক্ষে তাঁরা রাতে মসজিদে গিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর পেছনে সালাত আদায় করবেন।

এ আবেগের মূলে ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রতি তাদের ঈমানী ভালবাসা। কারণ সে যুগে কোন ধরনের ফিতনার আশংকা ছিল না। তাই রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: তোমাদের স্ত্রীরা রাতের সালাত আদায়ের লক্ষ্যে মসজিদে যাবার অনুমতি চাইলে তোমরা তাদের অনুমতি দিবে। বলাবাহুল্য, মহিলাদের মসজিদে যাবার অনুমতি তখন কার্যকর ছিল, যখন কোন প্রকার ফিতনার আশংকা ছিল না। কোন কোন সাহাবী নিজ চিন্তা-চেতনার বশবর্তী হয়ে নিজ স্ত্রীদের মসজিদে যেতে বারণ করতেন। তারপর নারী পুরুষ উভয় মহলে যখন দ্রুত অবস্থার পরিবর্তন ঘটে এবং ফিতনার তীব্র আশংকা সৃষ্টি হয় তখন হযরত আয়েশা (রা) (যিনি মহিলাদের ভেতর-বাইর সর্ববিধ বিষয়ে এবং রাসূলুল্লাহ ﷺ এর মেযাজ মরযি সম্পর্কে সর্বাধিক জ্ঞাত ছিলেন) বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ যদি বর্তমানকালের মহিলাদের দেখতেন, তবে তিনি স্বয়ং তাদের মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন, যেমনিভাবে-বনী ইসরাঈলের মহিলাদের (এসব কারণে) মসজিদে আসতে বারণ করা হয়েছিল। (বুখারী ও মুসলিম)

এ ভাষ্য হযরত আয়েশা (রা) এর। তিনি অধিকাংশ সাহাবীর বরাতে বলেন, বর্তমান যুগে মহিলাদের মসজিদে না যাওয়া উচিত। এরপর সমাজ ব্যবস্থায় যে আমূল পরিবর্তন ঘটেছে তাতে একথা স্পষ্ট যে, বর্তমান যুগে মহিলাদেরকে মসজিদে যাওয়ার অনুমতি দানের প্রশ্নই উঠে না।

(আলোচ্য হাদীসসমূহের ব্যাখ্যায় যা লেখা হয়েছে তা মূলত হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ্ (র) প্রণীত হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা থেকে সংগৃহীত। (২য় খণ্ড, পৃ. ২৬))
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান