মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৩১৫
নামাযের অধ্যায়
৪। অনুচ্ছেদ: জামা'আতের সালাত বিশেষত ইশা এবং ফজরের জামা'আতে অংশগ্রহণে বিমুখ ব্যক্তির ওপর কঠোরতা আরোপ প্রসঙ্গে
(১৩১১) আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ﷺ) বলেছেন, আমার ইচ্ছা হয় যে, আমি আমার যুবকদেরকে কাঠ সংগ্রহের নির্দেশ দেই। অতঃপর একজনকে ইমামতির নির্দেশ দিয়ে আমি বেরিয়ে পড়ি তাদের খোঁজে যারা (সালাতে) হাযির হয় নি এবং তাদের বাড়িঘরগুলো জ্বালিয়ে দেই। আল্লাহর কসম! তারা যদি জানত যে, তথায় উপস্থিত হলে সামান্য গোশত অথবা ছাগলের পায়ের খুড়া পাওয়া যাবে তবে অবশ্যই তারা সেখানে হাযির হত। তারা যদি জানতো, জামাতে কী (ফযীলত) আছে, তবে অবশ্যই তাতে শামিল হত, হামাগুড়ি দিয়ে হলেও।
(বুখারী, মুসলিম এবং চার সুনানে বর্ণিত।)
(বুখারী, মুসলিম এবং চার সুনানে বর্ণিত।)
كتاب الصلاة
(4) باب ما جاء فى التشديد على من تخلف عن الجماعة خصوصا العشاء والفجر
(1315) عن أبى هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلَّى الله عليه وعلى آله وصحبه وسلَّم لقد هممت أن آمر فتياني فيجمعوا حطبًا، ثمَّ آمر رجلًا يومُّ النَّاس ثمَّ أخالف إلى رجالٍ يتخلَّفون عن الصلّاة فأحرِّق عليهم بيوتهم وايم الله لو يعلم أحدهم أنَّ له بشهودها عرقًا سمينًا أو مر ماتين لشهدها ولو يعلمون ما فيها لأتوها ولو حبوًا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহু আকবার! রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যামানায় যে সকল লোক জামা'আতে সালাত আদায় করত না, তিনি তাদের বিরুদ্ধে কী কঠিন সতর্ক বাণী ও ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এ বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর প্রভাবময়ী বাণী আরো স্পষ্টরূপে হযরত উসামা (রা) থেকে ইবনে মাজাহ শরীফে বর্ণিত আছে। এতে ইরশাদ হয়েছে: "লোকদের জামা'আত বর্জন করা থেকে বিরত থাকা উচিত নতুবা অবশ্যই আমি তাদের ঘর জ্বালিয়ে ছারখার করে দেব।" (কানযুল উম্মাল, ইবনে মাজার বরাতে) রাসূলুল্লাহ ﷺ সে সকল জামা'আত বর্জনকারীদের ব্যাপারে এহেন কঠিন ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, তারা হয়ত আকীদার দিক থেকে ছিল মুনাফিক নতুবা কার্যের দিক থেকে ছিল (বে-আমল) মুনাফিক। জামা'আত বর্জন কারীদের সম্পর্কেই ছিল তাঁর এহেন ধমক ও ভীতি প্রদর্শন। এই কথার ভিত্তিতে কিছু সংখ্যক ইমাম (এ যাঁদের মধ্যে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (র)ও রয়েছেন) বলেন, সক্ষম ব্যক্তিদের জামা'আতে সালাত আদায় করা ফরয। অর্থাৎ তাঁদের মতে সালাত যেমন ফরয, তদ্রূপ জামা'আতে সালাত আদায়ও একটি পৃথক ফরয এবং জামা'আত বর্জনকারী একটি ফরযে আঈনের বর্জনকারী। কিন্তু প্রাজ্ঞ হানাফী আলিমগণ জামা'আত সংক্রান্ত সকল হাদীস সামনে রেখে এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন যে, জামা'আতে সালাত আদায় করা ওয়াজিব এবং তার বর্জনকারী একজন গুনাহগার। উপরে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর ভাষণে মূলত এক ধরনের সতর্কবাণী ও ধমক দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)