মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)
৭. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৮৩৮
নামাযের অধ্যায়
(৬) অনুচ্ছেদ: পেশাব-পায়খানার বেগ নিয়ে, খাবার উপস্থিত রেখে ও তন্দ্রা রোধ করে সালাত আদায় করা মাকরূহ
(৮৩৪) আয়েশা (রা) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা) বলেছেন: তোমাদের যার সালাতে তন্দ্রা পেল সে যেন ঘুমিয়ে নেয় যতক্ষণ না তার ঘুম বিদূরিত হয়ে যায়। কেননা তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় সে যদি সালাত আদায় করতে থাকে তাহলে হয়তো ইস্তিগফার করতে গিয়ে তন্দ্রাচ্ছলে নিজেকেই গালি দিয়ে বসবে।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
6 - باب كراهة الصلاة وهو حاقن وبحضرة الطعام وبمدافعة النعاس
(838) عن عائشة رضي الله عنها قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إذا نعس (3) أحدكم في الصلاة فليرقد حتى يذهب عنه النوم، فإنه إذا صلى وهو ينعس لعله يذهب يستغفر فيسب نفسه (1).
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছে নামায পড়া অবস্থায় ঘুমের চাপ দেখা দিলে শুয়ে পড়তে বলা হয়েছে। এর কারণ- যদি ঘুমের চাপ খুব বেশি দেখা দেয় এবং এমন তন্দ্রাগ্রস্ত হয়ে পড়ে যে, নিজের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তখন নামায পড়তে থাকলে অনেক বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এক তো শারীরিক দুর্ঘটনা যে, তন্দ্রার প্রকোপে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলবে এবং পড়ে গিয়ে কঠিন ব্যাথা পাবে। আরেক হচ্ছে ঈমান-আমল সম্পর্কিত দুর্ঘটনা। তন্দ্রাগ্রস্ত হয়ে পড়ার কারণে অনেক সময়ই বোধ-অনুভব এমন আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে যে, তখন কী বলা হয় নিজেই বুঝতে পারে না। বলতে চায় একটা, বলে ফেলে আরেকটা। নামাযে এমন হলে হয়তো সূরা পড়তে গিয়ে বলে ফেলবে অন্যকিছু, ইস্তিগফার করতে গিয়ে করে বসবে গালাগালি, আল্লাহর কাছে চাবে জান্নাত কিন্তু চেয়ে বসবে জাহান্নাম এবং চাওয়ার ইচ্ছা হিদায়াত কিন্তু চেয়ে ফেলবে গোমরাহী। এটা তো শারীরিক দুর্ঘটনা অপেক্ষাও বেশি বিপজ্জনক। এ কারণেই তন্দ্রা অবস্থায় সংক্ষেপে নামায শেষ করে শুয়ে পড়তে বলা হয়েছে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় নামায পড়া ঠিক নয়।
খ. নফল ইবাদতে এত বেশি বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়, যাতে শরীরের হক নষ্ট হয়। ঘুমও শরীরের একটা হক।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় নামায পড়া ঠিক নয়।
খ. নফল ইবাদতে এত বেশি বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়, যাতে শরীরের হক নষ্ট হয়। ঘুমও শরীরের একটা হক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)