মুসনাদে আহমদ- ইমাম আহমদ রহঃ (আল-ফাতহুর রব্বানী)

৭. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৭৩১
নামাযের অধ্যায়
(৩) পরিচ্ছেদঃ শেষ তাশাহহুদের পর নবী করীম (সা) ও তাঁর পরিজনদের উপর দরূদ পাঠ প্রসঙ্গে বর্ণিত হাদীসসমূহ
(৭২৭) আবূ মাসউদ থেকেই আরও বর্ণিত যে, তিনি বলেন, একদা রাসুলুল্লাহ (সা) আমাদের নিকট আসলেন। আমরা তখন সা'দ ইবন উবাদা (রা)-এর মজলিসে ছিলাম। তখন বিশর ইবন সা'দ (রা) তাঁকে জিজ্ঞাসা করলেন, হে রাসূল! আল্লাহ আমাদেরকে আপনার উপর দরূদ পাঠ করার আদেশ দিয়েছেন। আমরা কিভাবে আপনার উপর দরূদ পাঠ করব? আবু মাসউদ বলেন, তখন রাসুলুল্লাহ্ (সা) চুপ রইলেন। এমনকি আমরা কামনা করতে লাগলাম যে, তাঁকে যদি এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা না হত। (তাহলে খুবই ভাল হত।) অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, তোমরা বলবে-
اللَّهُمَّ صَلَّ عَلَى مُحَمَّدٍ وَعَلَى آلِ مُحَمَّدٍ كَمَا صَلَّيْتَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ، وَبَارِكْ عَلَى مُحَمَّدٍ كَمَا بَارَكْتَ وَ عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ فِي العَالَمِينَ إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
আর সালাম প্রেরণের নিয়ম তো তোমাদের জানাই আছে।
(মুসলিম ও অন্যান্য।)
كتاب الصلاة
3 - باب ما جاء في الصلاة على النبي صلى الله عليه وسلم عقب التشهد الأخير وكذا آله
(731) - وعنه أيضًا قال: أتانا رسول الله صلى الله عليه وسلم في مجلس سعد بن عبادة فقال له بشر بن سعد: أمرنا الله أن نصلي عليك (1) يا رسول الله فكيف نصلي عليك؟ قال: فسكت رسول الله صلى الله عليه وسلم حتى تمنينا أنه لم يسأله، ثم قال: قولوا: اللهم صل على محمد وعلى آل محمد، كما صليت على إبراهيم (2)، وبارك على محمد كما باركت على آل إبراهيم في العالمين، إنك حميد مجيد، والسلام كما قد علمتم.

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আবূ মাসউদ আনসারী (রা) বর্ণিত এ হাদীছের তাবারীর রিওয়ায়াতে এতটুকু বাড়তি আছে যে, যখন বশীর ইবনে সা'আদ (রা) রাসূলুল্লাহ (স)-কে প্রশ্ন করলেন যে, আমরা আপনার প্রতি কিভাবে সালাত প্রেরণ করবো, তখন রাসূলুল্লাহ ﷺ কিছুক্ষণ নিরুত্তর রইলেন। এমন কি তাঁর প্রতি ওহী অবতীর্ণ হলো: (فسكت حتى جاءه الوحي) তারপর তিনি উক্তরূপ দরূদ শিক্ষা দেন। এ বাড়তি অংশ দ্বারা জানা গেল যে, তাঁর চুপ থাকাটা ওহীর অপেক্ষায় ছিল। আর এটাও জানা গেল যে, দরূদ শরীফের কালিমাসমূহ তাঁকে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছিল। উপরন্তু উক্ত হাদীস থেকে এও জানা গেল যে, দরূদ সংক্রান্ত এ প্রশ্নটি সর্বপ্রথম তাঁকে হযরত সা'আদ ইবনে উবাদার মজলিসেই করা হয়েছিল, যার জবাবের জন্যে তাঁকে ওহীর অপেক্ষা করতে হয়েছিল। অন্যান্য কোন কোন সাহাবী (কা'আব ইব্‌ন উজরা এবং আবূ হুমায়দ সায়েদী প্রমুখ) গণের রিওয়ায়াতে এরূপ যে সব প্রশ্নের উল্লেখ রয়েছে, তা হয় এ মজলিসেরই ঘটনার বিবরণ, না হয় বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে এ প্রশ্ন করে থাকবেন এবং তিনি জবাবে তাঁদেরকে দরূদ শরীফের সে সব কালিমা শিক্ষা দিয়েছেন, যা তাঁদের রিওয়ায়াতে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ হাদীসের পূর্বাপর দৃষ্টে এবং তাঁদের বর্ণিত শব্দমালার তারতম্য দেখে মনে হয় এই দ্বিতীয়োক্ত সম্ভাবনাই বেশি। আল্লাহই সমধিক জ্ঞাত।

হযরত আবূ সাঈদ আনসারীর এ হাদীসের ইমাম আহমদ, ইব্‌ন খুযায়মা, হাকিম প্রমুখের রিওয়ায়াতে একটি বাড়তি ব্যাপার হচ্ছে এই যে, বশীর ইবনে সা'আদ (রা) দরূদ প্রেরণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে গিয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বলেছিলেন:
كَيْفَ نُصَلِّي عَلَيْكَ إِذَا نَحْنُ صَلَّيْنَا عَلَيْكَ فِي صَلَوَاتِنَا
"আমরা সালাত আদায়কালে আপনার প্রতি কিভাবে দরূদ পাঠ করবো।"
এর দ্বারা জানা গেল যে, বিশেষত সালাত আদায়কালীন দরূদ পাঠ সম্পর্কেই তাঁকে প্রশ্নটি করা হয়েছিল এবং এ দরূদে ইবরাহীমই বিশেষত সালাতের মধ্যে পাঠের উদ্দেশ্যেই রাসূলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা দিয়েছিলেন।

হযরত আবূ মাসউদ আনসারীর এ রিওয়ায়াতেও আবূ হুমায়দ সায়েদী (রা)-এর মত كَمَا صَلَّيْتَ كَمَا بَارَكْتَ এর পর কেবল عَلَى آلِ إِبْرَاهِيمَ রিওয়ায়াত করা হয়েছে এবং সর্বশেষে إِنَّكَ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ এর পূর্বে فِي الْعَالَمِينَ শব্দের বাড়তি সংযোজন রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান