আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৬. অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
হাদীস নং: ৫৫৬৪
অধ্যায়ঃ জান্নাত ও জাহান্নামের বর্ণনা
জাহান্নাম থেকে ভীতি প্রদর্শন, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর ফযল ও করমে আমাদেরকে তা থেকে রক্ষা করুন।
৫৫৬৪. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, আমি জাহান্নামের মত কিছু দেখিনি, যার থেকে পলায়নকারী ঘুমিয়ে রয়েছে এবং জান্নাতের মত কিছু দেখিনি, যার তলবকারী ঘুমিয়ে রয়েছে।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনাকারী বলেন, এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন মাওহিব তায়মীর রিওয়ায়েতে বর্ণিত বলে জানি।
[হাফিয (র) বলেন], আব্দুল্লাহ্ ইবন শারীক তাঁর পিতার সূত্রে মুহাম্মদ আনসারী থেকে সুদ্দী তাঁর পিতার সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী প্রমুখ হাদীসটি সংকলন করেছেন।)
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনাকারী বলেন, এ হাদীসটি ইয়াহইয়া ইবন উবায়দুল্লাহ ইবন মাওহিব তায়মীর রিওয়ায়েতে বর্ণিত বলে জানি।
[হাফিয (র) বলেন], আব্দুল্লাহ্ ইবন শারীক তাঁর পিতার সূত্রে মুহাম্মদ আনসারী থেকে সুদ্দী তাঁর পিতার সূত্রে আবূ হুরায়রা (রা) থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী প্রমুখ হাদীসটি সংকলন করেছেন।)
كتاب صفة الجنة والنار
التَّرْهِيب من النَّار أعاذنا الله مِنْهَا بمنه وَكَرمه
5564- وَرُوِيَ عَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مَا رَأَيْت مثل النَّار نَام هَارِبهَا وَلَا مثل الْجنَّة نَام طالبها
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ هَذَا حَدِيث إِنَّمَا نعرفه من حَدِيث يحيى بن عبيد الله يَعْنِي ابْن موهب التَّيْمِيّ
قَالَ الْحَافِظ قد رَوَاهُ عبد الله بن شريك عَن أَبِيه عَن مُحَمَّد الْأنْصَارِيّ وَالسُّديّ عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَغَيره
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ هَذَا حَدِيث إِنَّمَا نعرفه من حَدِيث يحيى بن عبيد الله يَعْنِي ابْن موهب التَّيْمِيّ
قَالَ الْحَافِظ قد رَوَاهُ عبد الله بن شريك عَن أَبِيه عَن مُحَمَّد الْأنْصَارِيّ وَالسُّديّ عَن أَبِيه عَن أبي هُرَيْرَة أخرجه الْبَيْهَقِيّ وَغَيره
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এটা হল মানুষের প্রকৃতি যে, যখন মানুষ কোন হিংস্র প্রাণী বা শক্তিশালী যালিম শত্রুর সম্মুখীন হয় তখন সে এমন ভাবে পালিয়ে যেতে চায় যে তার নিরাপত্তাবোধ না হওয়া পর্যন্ত সে ঘুমাতেও পারে না এবং আরামও করতে পারে না। অনুরূপভাবে মানুষ যখন তার প্রিয় এবং পছন্দনীয় জিনিস অর্জন করার জন্য চেষ্টা সাধনা করে তখন সে তার আহার নিদ্রা এবং বিশ্রাম পরিহার করে প্রচেষ্টা চালায়। কিন্তু জাহান্নাম এবং জান্নাতের ব্যাপারে মানুষের আচরণ খুবই অদ্ভুত। জাহান্নামের চেয়ে ভয়ঙ্কর কোন বালা-মুসিবত নেই এবং যা থেকে পরিত্রাণ লাভ করার জন্য মানুষের পালিয়ে যাওয়া উচিত। অথচ মানুষ এ সম্পর্কে মারাত্মকভাবে উদাসীন। অনুরূপভাবে জান্নাত এমন এক অতুলনীয় সম্পদ যা অর্জন করার জন্য মানুষের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার প্রয়োজন অথচ এ বিষয়েও মানুষ পরিপূর্ণভাবে উদাসীন।
মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা দাবী করে যে, দোযখের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে নাযাত লাভের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করবে এবং জান্নাতের প্রাচুর্য লাভ করার জন্য বে-ইনতেহা মেহনত করবে। কারণ দোযখ থেকে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কোন জিনিস এবং জান্নাতের চেয়ে সুন্দর ও মহান কোন জিনিস আল্লাহ্ রাব্বুল ইযযত তৈরী করেন নি। এ বাস্তব জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষ তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উক্ত হাদীসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
মানুষের বুদ্ধি বিবেচনা দাবী করে যে, দোযখের ভয়ঙ্কর আযাব থেকে নাযাত লাভের জন্য দিনরাত পরিশ্রম করবে এবং জান্নাতের প্রাচুর্য লাভ করার জন্য বে-ইনতেহা মেহনত করবে। কারণ দোযখ থেকে ভয়ঙ্কর ও ভয়াবহ কোন জিনিস এবং জান্নাতের চেয়ে সুন্দর ও মহান কোন জিনিস আল্লাহ্ রাব্বুল ইযযত তৈরী করেন নি। এ বাস্তব জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও নির্বোধ মানুষ তার প্রতি গুরুত্ব আরোপ না করার কারণে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উক্ত হাদীসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)