আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৯১২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দুনিয়ার প্রতি অনাসক্তি ও দুনিয়ার স্বল্পতায় তুষ্ট থাকার জন্য উৎসাহ দান এবং দুনিয়ার প্রতি ভালবাসা ও তজ্জন্য প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে সতর্কীকরণ এবং পানাহার ও লেবাস পোষাক ইত্যাদিতে নবী (ﷺ)-এর জীবন-যাপন পদ্ধতি সম্পর্কিত কতিপয় হাদীস
৪৯১২. হযরত আবূ হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি, হে আল্লাহ্। তুমি মুহাম্মদের পরিবারকে প্রাণ রক্ষা পরিমাণ রিযক দান করো। অপর রিওয়ায়েতে আছে, "প্রয়োজন মাফিক।"
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও ইব্ন মাজা (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
(বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী ও ইব্ন মাজা (র) হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الزّهْد فِي الدُّنْيَا والاكتفاء مِنْهَا بِالْقَلِيلِ والترهيب من حبها وَالتَّكَاثُر فِيهَا والتنافس وَبَعض مَا جَاءَ فِي عَيْش النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فِي المأكل والملبس وَالْمشْرَب وَنَحْو ذَلِك
4912- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول اللَّهُمَّ اجْعَل رزق آل مُحَمَّد قوتا
وَفِي رِوَايَة كفافا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
وَفِي رِوَايَة كفافا
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَابْن مَاجَه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মানুষের জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুকেই রিযিক বলে, তা খাদ্য, পানীয়, পোশাক যাই হোক না কেন। তবে এ হাদীছে বিশেষভাবে খাদ্য বোঝানো হয়েছে।
قوت বলা হয় ক্ষুধা নিবারণ পরিমাণ খাদ্যকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারবর্গের জন্য দু'আ করেছেন যেন আল্লাহ তা'আলা তাঁদেরকে এ পরিমাণ খাদ্য দান করেন। অর্থাৎ তাঁরা যেন ক্ষুধায় কষ্টও না পায়, আবার ঐশ্বর্যেরও অধিকারী না হয়। ক্ষুধার কষ্ট যেমন মানুষের ঈমান-আমলের পক্ষে ঝুঁকি, তেমনি ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যও আমল-আখলাকের পক্ষে বিপজ্জনক। নিজ পরিবারবর্গ ও বংশধরগণ যাতে এ উভয় রকম ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়, সে লক্ষ্যে দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের জন্য মাঝামাঝি অবস্থার দু'আ করেছেন।
কারও মতে এ হাদীছে ال বলে অনুসারী বোঝানো হয়েছে। এ অর্থেও শব্দটির ব্যবহার আছে। এ হিসেবে তিনি তাঁর প্রিয় উম্মত, যারা তাঁর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শের যথাযথ অনুসরণ করে, তাদের সকলের জন্য দু'আ করেছেন।
প্রকাশ থাকে যে, এর দ্বারা ধনীদের নিন্দা করা হয়নি এবং ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্য সন্ধানকেও নাজায়েয বলা হয়নি। যদি কেউ ধন-সম্পদের শর'ঈ হকসমূহ আদায়ে সক্ষম হয়, তবে সে ধন তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের পক্ষে কল্যাণকর বটে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
যারা কোনওরকম জীবনধারণের মত জীবিকার মধ্য দিয়ে চলছে, না সেজন্য কোনও আক্ষেপ আছে আর না ধন-সম্পদের জন্য লালায়িত, তারা বড় ভাগ্যবান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দু'আর মধ্যে তাদের জন্য স্বস্তি ও সান্ত্বনার বাণী রয়েছে।
قوت বলা হয় ক্ষুধা নিবারণ পরিমাণ খাদ্যকে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর পরিবারবর্গের জন্য দু'আ করেছেন যেন আল্লাহ তা'আলা তাঁদেরকে এ পরিমাণ খাদ্য দান করেন। অর্থাৎ তাঁরা যেন ক্ষুধায় কষ্টও না পায়, আবার ঐশ্বর্যেরও অধিকারী না হয়। ক্ষুধার কষ্ট যেমন মানুষের ঈমান-আমলের পক্ষে ঝুঁকি, তেমনি ঐশ্বর্য ও প্রাচুর্যও আমল-আখলাকের পক্ষে বিপজ্জনক। নিজ পরিবারবর্গ ও বংশধরগণ যাতে এ উভয় রকম ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়, সে লক্ষ্যে দয়াল নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁদের জন্য মাঝামাঝি অবস্থার দু'আ করেছেন।
কারও মতে এ হাদীছে ال বলে অনুসারী বোঝানো হয়েছে। এ অর্থেও শব্দটির ব্যবহার আছে। এ হিসেবে তিনি তাঁর প্রিয় উম্মত, যারা তাঁর সুন্নাহ ও জীবনাদর্শের যথাযথ অনুসরণ করে, তাদের সকলের জন্য দু'আ করেছেন।
প্রকাশ থাকে যে, এর দ্বারা ধনীদের নিন্দা করা হয়নি এবং ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্য সন্ধানকেও নাজায়েয বলা হয়নি। যদি কেউ ধন-সম্পদের শর'ঈ হকসমূহ আদায়ে সক্ষম হয়, তবে সে ধন তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জগতের পক্ষে কল্যাণকর বটে।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
যারা কোনওরকম জীবনধারণের মত জীবিকার মধ্য দিয়ে চলছে, না সেজন্য কোনও আক্ষেপ আছে আর না ধন-সম্পদের জন্য লালায়িত, তারা বড় ভাগ্যবান। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ দু'আর মধ্যে তাদের জন্য স্বস্তি ও সান্ত্বনার বাণী রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)