আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২৩. অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
হাদীস নং: ৪৮৫২
অধ্যায়ঃ তাওবা ও যুহদ
দারিদ্র্যও স্বল্পসামগ্রীর প্রতি উৎসাহ প্রদান এবং ফকীর-মিসকীন ও দুর্বলদের মর্যাদা এবং তাদেরকে ভালবাসা ও তাদের সাথে উঠাবসা করা
৪৮৫২. হযরত আনাস (রা) থেকে বর্ণিত। নবী (ﷺ) বলেছেন, হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে নিঃস্বরূপে জীবিত রাখ, নিঃস্বরূপে মৃত্যুদান কর এবং কিয়ামতের দিন নিঃস্বদের দলে আমাকে সমবেত কর।
আয়েশা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) তা কেন? তিনি বললেনঃ তারা ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা। কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে (কিছু দান না করে) ফিরিয়ে দিও না। যদি এক টুকরো খেজুর ও হয়, (দাও)। হে আয়েশা। নিঃস্বদেরকে ভালবাসবে এবং তাদেরকে কাছে স্থান দিবে। তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে কিয়ামতের দিন নিকটে স্থান দেবেন।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন। এটা গরীব পর্যায়ের হাদীস।
জামা‘আতে সালাত আদায় অধ্যায়ে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত ইবন আব্বাস (রা)-এর হাদীস উল্লিখিত হয়েছে। তাতে তিনি বলেন: আজ রাত্রে আমার নিকট আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক আগমনকারী আগমণ করেছে। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, 'আমার প্রতিপালক এক উত্তম সূরতে এসেছেন।" অতঃপর হাদীসটি বর্ণনা করে অবশেষে বলেনঃ তিনি (আগমনকারী) বললেন, হে মুহাম্মদ, আমি বললাম, “লাব্বায়কা ওয়া সা'দায়কা"। তখন তিনি বললেন, তুমি যখন সালাত আদায় কর, তখন বলবে, হে আল্লাহ্। আমি তোমার কাছে উত্তম কাজ করা, মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালবাসা রাখার প্রার্থনা করছি এবং যখন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা কর, তখন আমাকে পরীক্ষা ব্যতিরেকেই তোমার কাছে তুলে নিও।
তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে একে হাসান সাব্যস্ত করেছেন।)
আয়েশা (রা) বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ (ﷺ) তা কেন? তিনি বললেনঃ তারা ধনীদের চল্লিশ বছর পূর্বে জান্নাতে প্রবেশ করবে। হে আয়েশা। কোন নিঃস্ব ব্যক্তিকে (কিছু দান না করে) ফিরিয়ে দিও না। যদি এক টুকরো খেজুর ও হয়, (দাও)। হে আয়েশা। নিঃস্বদেরকে ভালবাসবে এবং তাদেরকে কাছে স্থান দিবে। তাহলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে কিয়ামতের দিন নিকটে স্থান দেবেন।
(তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন। এটা গরীব পর্যায়ের হাদীস।
জামা‘আতে সালাত আদায় অধ্যায়ে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত ইবন আব্বাস (রা)-এর হাদীস উল্লিখিত হয়েছে। তাতে তিনি বলেন: আজ রাত্রে আমার নিকট আমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক আগমনকারী আগমণ করেছে। অপর এক রিওয়ায়েতে আছে, 'আমার প্রতিপালক এক উত্তম সূরতে এসেছেন।" অতঃপর হাদীসটি বর্ণনা করে অবশেষে বলেনঃ তিনি (আগমনকারী) বললেন, হে মুহাম্মদ, আমি বললাম, “লাব্বায়কা ওয়া সা'দায়কা"। তখন তিনি বললেন, তুমি যখন সালাত আদায় কর, তখন বলবে, হে আল্লাহ্। আমি তোমার কাছে উত্তম কাজ করা, মন্দ কাজ থেকে বেঁচে থাকা এবং দরিদ্রদের প্রতি ভালবাসা রাখার প্রার্থনা করছি এবং যখন তুমি তোমার বান্দাদেরকে পরীক্ষা করতে ইচ্ছা কর, তখন আমাকে পরীক্ষা ব্যতিরেকেই তোমার কাছে তুলে নিও।
তিরমিযী (র) হাদীসটি বর্ণনা করে একে হাসান সাব্যস্ত করেছেন।)
كتاب التوبة والزهد
التَّرْغِيب فِي الْفقر وَقلة ذَات الْيَد وَمَا جَاءَ فِي فضل الْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِين وَالْمُسْتَضْعَفِينَ وحبهم ومجالستهم
4852- وَرُوِيَ عَن أنس رَضِي الله عَنهُ أَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ اللَّهُمَّ أحيني مِسْكينا وأمتني مِسْكينا واحشرني فِي زمرة الْمَسَاكِين يَوْم الْقِيَامَة فَقَالَت عَائِشَة لم يَا رَسُول الله قَالَ إِنَّهُم يدْخلُونَ الْجنَّة قبل أغنيائهم بِأَرْبَعِينَ خَرِيفًا يَا عَائِشَة لَا تردي
مِسْكينا وَلَو بشق تَمْرَة
يَا عَائِشَة حبي الْمَسَاكِين وقربيهم فَإِن الله يقربك يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
وَتقدم فِي صَلَاة الْجَمَاعَة حَدِيث ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَتَانِي اللَّيْلَة آتٍ من رَبِّي وَفِي رِوَايَة رَبِّي فِي أحسن صُورَة
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ قَالَ يَا مُحَمَّد
قلت لبيْك وَسَعْديك
فَقَالَ إِذا صليت قل اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك فعل الْخيرَات وَترك الْمُنْكَرَات وَحب الْمَسَاكِين وَإِذا أردْت بعبادك فتْنَة فاقبضني إِلَيْك غير مفتون
الحَدِيث رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه
مِسْكينا وَلَو بشق تَمْرَة
يَا عَائِشَة حبي الْمَسَاكِين وقربيهم فَإِن الله يقربك يَوْم الْقِيَامَة
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
وَتقدم فِي صَلَاة الْجَمَاعَة حَدِيث ابْن عَبَّاس عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ أَتَانِي اللَّيْلَة آتٍ من رَبِّي وَفِي رِوَايَة رَبِّي فِي أحسن صُورَة
فَذكر الحَدِيث إِلَى أَن قَالَ قَالَ يَا مُحَمَّد
قلت لبيْك وَسَعْديك
فَقَالَ إِذا صليت قل اللَّهُمَّ إِنِّي أَسأَلك فعل الْخيرَات وَترك الْمُنْكَرَات وَحب الْمَسَاكِين وَإِذا أردْت بعبادك فتْنَة فاقبضني إِلَيْك غير مفتون
الحَدِيث رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَحسنه
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জানিয়েছেন যে, গরীবেরা ধনীদের চল্লিশ বৎসর আগে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এর কারণ, হিসাব-নিকাশের জন্য ধনীদের আটকে রাখা হবে। তারা কোন পথে সম্পদ অর্জন করেছিল এবং কোন কোন খাতে ব্যয় করেছিল সে সম্পর্কে তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে। গরীবদের তো সে বালাই নেই।
হযরত মালিক ইবন দীনার রহ. এক সফরে নদীর এক পার থেকে অপর পারে গেলেন। ওপারে যেতেই কর আদায়কারীগণ ধরল। তোমার মালামালের কর দিয়ে যাও। তিনি দু'হাত উঁচু করে বললেন, দেখ কী আছে, নিয়ে নাও। তারা দেখল সঙ্গে মালামাল বলতে কিছুই নেই। তাদের তো ব্যস্ততা। শুধু শুধু কথা বলে সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই। তাড়া দিয়ে বলল, যাও যাও! তিনি কতদূর এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, ওহে দীনারের পুত্র মালিক। আখিরাতের বিষয়টি তো এমনই হবে। অর্থাৎ মাল নেই তো হিসাবও নেই। মাল থাকলে হিসাব দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।
এর দ্বারা বোঝা গেল ধনী দীনদার অপেক্ষা গরীব দীনদারের আখিরাতে পার হওয়া সহজ হবে। দীনদার ব্যক্তি ধনী হলে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার একটা ব্যাপার যেহেতু আছে, তাই তার কিছু না কিছু বিলম্ব অবশ্যই হবে। হাঁ, আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে বিনা হিসেবে পার করে দেবেন তাদের কথা আলাদা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. গরীবানা অবস্থা বাহ্যদৃষ্টিতে কষ্টকর হলেও আখিরাতের পক্ষে কল্যাণকর। তাই গরীবদের উচিত অভাব-অনটনের জন্য আক্ষেপ না করে ধৈর্য ও সহ্যের সঙ্গে দুনিয়ার জীবন পার করা।
খ. বিষয়টা যেহেতু জান্নাতে প্রবেশের, তাই দীনদারীর শর্ত অবশ্যই আছে। সুতরাং কেবল গরীবানা অবস্থার উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। নিজ দীন ও ঈমানেরও যত্ন নিতে হবে।
গ. বিলম্বে হলেও দীনদার ধনী ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে যাবে। তাই ধনী ব্যক্তিরও নিজ দ্বীনদারীর পরিচর্যা করা অবশ্যকর্তব্য।
হযরত মালিক ইবন দীনার রহ. এক সফরে নদীর এক পার থেকে অপর পারে গেলেন। ওপারে যেতেই কর আদায়কারীগণ ধরল। তোমার মালামালের কর দিয়ে যাও। তিনি দু'হাত উঁচু করে বললেন, দেখ কী আছে, নিয়ে নাও। তারা দেখল সঙ্গে মালামাল বলতে কিছুই নেই। তাদের তো ব্যস্ততা। শুধু শুধু কথা বলে সময় নষ্ট করার অবকাশ নেই। তাড়া দিয়ে বলল, যাও যাও! তিনি কতদূর এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন। তারপর নিজেকে সম্বোধন করে বললেন, ওহে দীনারের পুত্র মালিক। আখিরাতের বিষয়টি তো এমনই হবে। অর্থাৎ মাল নেই তো হিসাবও নেই। মাল থাকলে হিসাব দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে থাকো।
এর দ্বারা বোঝা গেল ধনী দীনদার অপেক্ষা গরীব দীনদারের আখিরাতে পার হওয়া সহজ হবে। দীনদার ব্যক্তি ধনী হলে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার একটা ব্যাপার যেহেতু আছে, তাই তার কিছু না কিছু বিলম্ব অবশ্যই হবে। হাঁ, আল্লাহ তা'আলা যাদেরকে বিনা হিসেবে পার করে দেবেন তাদের কথা আলাদা।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. গরীবানা অবস্থা বাহ্যদৃষ্টিতে কষ্টকর হলেও আখিরাতের পক্ষে কল্যাণকর। তাই গরীবদের উচিত অভাব-অনটনের জন্য আক্ষেপ না করে ধৈর্য ও সহ্যের সঙ্গে দুনিয়ার জীবন পার করা।
খ. বিষয়টা যেহেতু জান্নাতে প্রবেশের, তাই দীনদারীর শর্ত অবশ্যই আছে। সুতরাং কেবল গরীবানা অবস্থার উপর নির্ভর করার সুযোগ নেই। নিজ দীন ও ঈমানেরও যত্ন নিতে হবে।
গ. বিলম্বে হলেও দীনদার ধনী ব্যক্তি অবশ্যই জান্নাতে যাবে। তাই ধনী ব্যক্তিরও নিজ দ্বীনদারীর পরিচর্যা করা অবশ্যকর্তব্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)