আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪৩২৯
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
গীবত, অপবাদ এবং এ সম্পর্কীয় কার্যাবলীর প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং এতদুভয় কাজ থেকে বিরত থাকার প্রতি অনুপ্রেরণা
৪৩২৯. হযরত আবু উমামা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: একবার রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বাকীউল গারকাদে এসে দু'জন ধনবান ব্যক্তির কবরের কাছে দাঁড়ান এবং জিজ্ঞেস করেন। তোমরা কি অমুক অমুককে এখানে দাফন করেছ অথবা তিনি বলেছেন: এই কি অমুক অমুক? সাহাবায়ে কিরাম বলেন: হাঁ। ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তখন তিনি বলেনঃ এই মাত্র অমুক ব্যক্তিকে বসানো হয়েছে এবং তাকে প্রহার করা হচ্ছে। এরপর তিনি বলেন: ঐ মহান সত্তার শপথ, যাঁর হাতে আমার জীবন! তাকে এমন জোরে আঘাত করা হচ্ছে যে, তার শরীরের সমস্ত অঙ্গ-প্রতঙ্গ ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তার কবর আগুনে ভরে গেছে। সে এমনভাবে চিৎকার দিচ্ছে যে, কেবলমাত্র জিন-ইনসান ব্যতীত সবাই তা শুনতে পাচ্ছে। যদি তোমাদের অন্তর বিগড়ে যাওয়ার সম্ভবনা না থাকত এবং তোমাদের কথার পরিমাণ কম হত, তবে আমি যা শুনি তোমরাও তা শুনতে। তখন সাহাবায়ে কিরাম বলেন: ইয়া রাসূলাল্লাহ্। তাদের কী অপরাধ ছিল? তিনি বলেন: তাদের একজন পেশাব থেকে ঠিকমত পবিত্র হত না এবং অপর জন মানুষের গোশত খেত।
(ইবন জারীর তাবারী (র) আলী ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি কাসিম (র) থেকে বর্ণনা করেন। আর আহমাদ (র) উপরোক্ত শব্দমালা ব্যতীত বর্ণনা করেন। তবে তার শব্দমালা এরূপ সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কতদিন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে? তিনি বলেনঃ এতো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তার শব্দমালা চোগলখুরী শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: উক্ত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে বিভিন্ন সহীহ্ ও অন্যান্য গ্রন্থে একদল সাহাবা থেকে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, তাদেরকে চোগলখুরী ও পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। হাদীসের প্রকাশ্য মর্ম হল এইঃ ঘটনাক্রমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) একবার কবরের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করেন। তাদের একজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। অপর একদিন দু'টি কবরের নিকট দিয়ে গমন করেন, যাদের একজনকে গীবতের কারণে এবং অপরজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
(ইবন জারীর তাবারী (র) আলী ইবন ইয়াযীদ থেকে, তিনি কাসিম (র) থেকে বর্ণনা করেন। আর আহমাদ (র) উপরোক্ত শব্দমালা ব্যতীত বর্ণনা করেন। তবে তার শব্দমালা এরূপ সাহাবায়ে কিরাম বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্। কতদিন তাদের শাস্তি দেওয়া হবে? তিনি বলেনঃ এতো অদৃশ্যের সংবাদ, যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। তার শব্দমালা চোগলখুরী শীর্ষক অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন: উক্ত হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বিশুদ্ধ সনদে বিভিন্ন সহীহ্ ও অন্যান্য গ্রন্থে একদল সাহাবা থেকে বর্ণিত হয়েছে। অধিকাংশ বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে যে, তাদেরকে চোগলখুরী ও পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। হাদীসের প্রকাশ্য মর্ম হল এইঃ ঘটনাক্রমে রাসুলুল্লাহ (ﷺ) একবার কবরের নিকট দিয়ে পথ অতিক্রম করেন। তাদের একজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। অপর একদিন দু'টি কবরের নিকট দিয়ে গমন করেন, যাদের একজনকে গীবতের কারণে এবং অপরজনকে পেশাবের কারণে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। আল্লাহ সর্বজ্ঞ।)
كتاب الأدب
التَّرْهِيب من الْغَيْبَة والبهت وبيانهما وَالتَّرْغِيب فِي ردهما
4329- وَعَن أبي أُمَامَة رَضِي الله عَنهُ قَالَ أَتَى رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بَقِيع الْغَرْقَد فَوقف على قبرين ثريين فَقَالَ أدفنتم فلَانا وفلانة أَو قَالَ فلَانا وَفُلَانًا قَالُوا نعم يَا رَسُول الله
قَالَ قد أقعد فلَان الْآن فَضرب
ثمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لقد ضرب ضَرْبَة مَا بَقِي مِنْهُ عُضْو إِلَّا انْقَطع وَلَقَد تطاير قَبره نَارا وَلَقَد صرخَ صرخة سَمعهَا الْخَلَائق إِلَّا الثقلَيْن الْإِنْس وَالْجِنّ وَلَوْلَا تمريج قُلُوبكُمْ وتزيدكم فِي الحَدِيث لسمعتم مَا أسمع
ثمَّ قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا ذنبهما قَالَ أما فلَان فَإِنَّهُ كَانَ لَا يستبرىء من الْبَوْل وَأما فلَان أَو فُلَانَة فَإِنَّهُ كَانَ يَأْكُل لُحُوم النَّاس
رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ من طَرِيق عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَنهُ وَرَوَاهُ من هَذِه الطَّرِيق أَحْمد بِغَيْر هَذَا اللَّفْظ وَزَاد فِيهِ قَالُوا يَا نَبِي الله حَتَّى مَتى هما يعذبان قَالَ غيب لَا يُعلمهُ إِلَّا الله
وَتقدم لَفظه فِي النميمة
قَالَ الْحَافِظ وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث من طرق كَثِيرَة مَشْهُورَة فِي الصِّحَاح وَغَيرهَا عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة رَضِي الله عَنْهُم وَفِي أَكْثَرهَا أَنَّهُمَا يعذبان فِي النميمة وَالْبَوْل وَالظَّاهِر أَنه اتّفق مروره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مرّة بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي النميمة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَمرَّة أُخْرَى بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي الْغَيْبَة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَالله أعلم
قَالَ قد أقعد فلَان الْآن فَضرب
ثمَّ قَالَ وَالَّذِي نَفسِي بِيَدِهِ لقد ضرب ضَرْبَة مَا بَقِي مِنْهُ عُضْو إِلَّا انْقَطع وَلَقَد تطاير قَبره نَارا وَلَقَد صرخَ صرخة سَمعهَا الْخَلَائق إِلَّا الثقلَيْن الْإِنْس وَالْجِنّ وَلَوْلَا تمريج قُلُوبكُمْ وتزيدكم فِي الحَدِيث لسمعتم مَا أسمع
ثمَّ قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا ذنبهما قَالَ أما فلَان فَإِنَّهُ كَانَ لَا يستبرىء من الْبَوْل وَأما فلَان أَو فُلَانَة فَإِنَّهُ كَانَ يَأْكُل لُحُوم النَّاس
رَوَاهُ ابْن جرير الطَّبَرِيّ من طَرِيق عَليّ بن يزِيد عَن الْقَاسِم عَنهُ وَرَوَاهُ من هَذِه الطَّرِيق أَحْمد بِغَيْر هَذَا اللَّفْظ وَزَاد فِيهِ قَالُوا يَا نَبِي الله حَتَّى مَتى هما يعذبان قَالَ غيب لَا يُعلمهُ إِلَّا الله
وَتقدم لَفظه فِي النميمة
قَالَ الْحَافِظ وَقد رُوِيَ هَذَا الحَدِيث من طرق كَثِيرَة مَشْهُورَة فِي الصِّحَاح وَغَيرهَا عَن جمَاعَة من الصَّحَابَة رَضِي الله عَنْهُم وَفِي أَكْثَرهَا أَنَّهُمَا يعذبان فِي النميمة وَالْبَوْل وَالظَّاهِر أَنه اتّفق مروره صلى الله عَلَيْهِ وَسلم مرّة بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي النميمة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَمرَّة أُخْرَى بقبرين يعذب أَحدهمَا فِي الْغَيْبَة وَالْآخر فِي الْبَوْل وَالله أعلم