আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার

হাদীস নং: ৪২৫৫
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
অনির্দিষ্ট অথবা কোন ব্যক্তি বিশেষকে অথবা কোন প্রাণী বা অন্য কিছুকে উল্লেখ করে কাউকে গালি দেওয়া অথবা লা'নত দেয়া এবং মোরগ, বিচ্ছু ও বাতাসকে গালি ও লা'নত দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং সতী-সাধ্বী ও দাস-দাসীর প্রতি অপবাদ দেয়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৪২৫৫. হযরত আবু হুরায়রা (রা) সূত্রে নবী (ﷺ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: তোমরা সাতটি ধাংসাত্মক কাজ থেকে বেঁচে থাকবে। সাহাবায়ে কিরাম বলেন: ইয়া রাসুলাল্লাহ। সেগুলো কি কি? তিনি বলেন: তা হল ১. আল্লাহর সাথে শরীক করা, ২. আল্লাহ যাকে হত্যা করা হারাম করেছেন, এমন ব্যক্তিকে অন্যায়ভাবে হত্যা করা, ৪. সুদ খাওয়া, ৫. ইয়াতীমের সম্পদ ভক্ষণ করা, ৬. জিহাদের ময়দান থেকে পালিয়ে আসা এবং ৭. সরলমতি সতী-সাধ্বী মু'মিন নারীর প্রতি ব্যভিচারের অপবাদ দেওয়া।
(বুখারী ও মুসলিম বর্ণিত।)
كتاب الأدب
الترهيب من السباب واللعن لا سيما لمعين آدميا كان أو دابة وغيرهما وبعض ما جاء في النهي عن سب الديك والبرغوث والريح والترهيب من قذف المحصنة والمملوك
4255- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ عَن النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ اجتنبوا السَّبع الموبقات
قَالُوا يَا رَسُول الله وَمَا هن قَالَ الشّرك بِاللَّه وَالسحر وَقتل النَّفس الَّتِي حرم الله إِلَّا بِالْحَقِّ وَأكل الرِّبَا وَأكل مَال الْيَتِيم والتولي يَوْم الزَّحْف وَقذف الْمُحْصنَات الْغَافِلَات الْمُؤْمِنَات

رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে যে সব গুনাহ থেকে বাঁচার তাগিদ করেছেন সেগুলো অত্যন্ত মন্দ ও অশ্লীলতম কবীরা গুনাহ। এগুলোকে রাসূলুল্লাহ ﷺ ধ্বংসকারী বলেছেন। (অর্থাৎ মানুষ ও তার ঈমানের প্রাণ সত্তা ধ্বংসকারক)। এগুলোর মধ্যে তিনি শিরক, জাদু ও অন্যায় হত্যার পর সুদ খাওয়া (সুদ-গ্রহণ ও খাওয়া)-এর উল্লেখ করেছেন। আর এগুলোকে ঈমানের সজীবতা হত্যাকারী ও ধ্বংসকারী বলেছেন। যেভাবে ডাক্তার ও কবিরাজ নিজেদের বিদ্যার আলোকে ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে জগতে যমিন হতে উৎপন্ন দ্রব্যাদি, ঔষধ ও খাদ্য ইত্যাদির বিশেষণ বর্ণনা করেন যে, অমুক জিনিসে অমুক গুণ ও প্রভাব রয়েছে আর এটা মানুষের অমুক রোগের জন্য উপকারী কিংবা ক্ষতিকর, অনুরূপভাবে নবীগণ আল্লাহ তা'আলা কর্তৃক প্রদত্ত জ্ঞানের ভিত্তিতে মানুষের আকীদা ও চিন্তা, আমল ও চরিত্রের বিশেষত্ব ও পরিণাম বর্ণনা করেন যে, অমুক ঈমানী আকীদা, অমুক নেক কর্ম ও অমুক উত্তম স্বভাব-এর পরিণতি হচ্ছে আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টি, আখিরাতে জান্নাতের নিয়ামত এবং আত্মা ও প্রাণের শান্তিদায়ক। আর অমুক কুফরী ও শিরকী আকীদা, অমুক যুলুম ও অবাধ্যতার পরিনতি হচ্ছে- আল্লাহর লা'নত, দোযখের আযাব ও দুনিয়ায় রকমারী পেরেশানী ও অশান্তি। পার্থক্য এতটুকু যে, কবিরাজ ও ডাক্তারদের গবেষণা ও নিশ্চয়তার মধ্যে ভুলের সম্ভাবনা এবং কখনো কখনো ভুলের শিকার হয়ে যান। কিন্তু আম্বিয়া কিরামের ইলমের ভিত্তি জগত স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ আল্লাহ তা'আলার ওহীর প্রেক্ষিতে হয়ে থাকে। এতে কোন প্রকার ভুল-ভ্রান্তি অথবা ভুলের সম্ভাবনা এবং কোন সন্দেহের অবকাশই নেই। তবে আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- কবিরাজ ও ডাক্তারদের প্রেসক্রিপশনকৃত ঔষধগুলোকে সবাই বিনা বাক্যব্যয়ে তাদের প্রতি আস্থার কারণে ব্যবহার করে। নিষেধের ব্যাপারে তারা যে নির্দেশ দেন তাও যথানিয়মে পালন করা অবশ্য কর্তব্য মনে করা হয়। আর এটাকেই বুদ্ধির দাবী মনে করা হয়। কোন রোগীর এ অধিকার সমর্থন করা হয় না যে, সে বলবে, আমি এ ঔষধ তখনই ব্যবহার করব যখন এর প্রভাবের দর্শন আমাকে বুঝান হবে। অথচ আল্লাহ তা'আলার কিতাব কুরআন মজীদ আর তাঁর সত্য রাসূল খাতিমুন্নাবিয়িন ﷺ যেমন সুদের ব্যাপারে বলেছেন, এটা শক্ত গর্হিত কবীরা গুনাহ ও ধ্বংসকারকদের মধ্যে একটি, আল্লাহর অভিশাপ ও ক্রোধের কারণ এবং ঈমানের প্রাণ সংহারক, সুদখোরদের জন্য আখিরাতে ভয়ঙ্কর শাস্তি রয়েছে। তখন বহু বুদ্ধিমান ও ঈমানের দাবিদারদের জন্য এটা যথেষ্ট হয়নি, তারা এ নিষেধের দর্শন জানা আবশ্যক মনে করে বসে। আল্লাহ তা'আলা অন্তরসমূহকে ঈমান ও ইয়াকীন দান করুন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান
আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব - হাদীস নং ৪২৫৫ | মুসলিম বাংলা