আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
২২. অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৪১৩৬
অধ্যায়ঃ শিষ্টাচার
মুসাফাহা (করমর্দন) করার প্রতি অনুপ্রেরণা, ইশারায় সালাম দানের প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং কাফিরকে সালাম দান প্রসঙ্গে
৪১৩৬. হযরত ইমাম আবু দাউদ (র)-এর অন্য বর্ণনায় আছে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যখন দু'জন মুসলমান পরস্পর সাক্ষাৎ করে মুসাফাহা করে, আল্লাহর প্রশংসা করে ও তাঁর (আল্লাহর) কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তখন তাদের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।
হাফিয মুনযিরী (র) বলেনঃ এই বর্ণনাতে আবু বালাজ নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার প্রকৃত নাম ইয়াহইয়া ইবনে সুলায়ম। কারো কারো মতে: ইয়াহইয়া ইবনে আবুল আসওয়াদ। তার সমালোচনামূলক বিবরণ সামনে আসবে। আজলাহ-এর নাম ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আর হাজাবা আল-কিন্দী। এই হাদীসের সনদসূত্র মুযতারাব অর্থাৎ দ্বিধাযুক্ত।
হাফিয মুনযিরী (র) বলেনঃ এই বর্ণনাতে আবু বালাজ নামে একজন বর্ণনাকারী রয়েছেন। তার প্রকৃত নাম ইয়াহইয়া ইবনে সুলায়ম। কারো কারো মতে: ইয়াহইয়া ইবনে আবুল আসওয়াদ। তার সমালোচনামূলক বিবরণ সামনে আসবে। আজলাহ-এর নাম ইয়াহইয়া ইবনে আবদুল্লাহ আর হাজাবা আল-কিন্দী। এই হাদীসের সনদসূত্র মুযতারাব অর্থাৎ দ্বিধাযুক্ত।
كتاب الأدب
التَّرْغِيب فِي المصافحة والترهيب من الْإِشَارَة فِي السَّلَام وَمَا جَاءَ فِي السَّلَام على الْكفَّار
4136- وَفِي رِوَايَة لأبي دَاوُد قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم إِذا التقى المسلمان فتصافحا وحمدا الله واستغفراه غفر لَهما
قَالَ الْحَافِظ وَفِي هَذِه الرِّوَايَة أَبُو بلج بِفَتْح الْبَاء وَسُكُون اللَّام بعْدهَا جِيم واسْمه يحيى بن سليم وَيُقَال يحيى بن أبي الْأسود وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ وعَلى الْأَجْلَح واسْمه يحيى بن عبد الله أَبُو حجبة الْكِنْدِيّ وَإسْنَاد هَذَا الحَدِيث فِيهِ اضْطِرَاب
قَالَ الْحَافِظ وَفِي هَذِه الرِّوَايَة أَبُو بلج بِفَتْح الْبَاء وَسُكُون اللَّام بعْدهَا جِيم واسْمه يحيى بن سليم وَيُقَال يحيى بن أبي الْأسود وَيَأْتِي الْكَلَام عَلَيْهِ وعَلى الْأَجْلَح واسْمه يحيى بن عبد الله أَبُو حجبة الْكِنْدِيّ وَإسْنَاد هَذَا الحَدِيث فِيهِ اضْطِرَاب
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটি দ্বারা মুসাফাহা করার ফযীলত জানা গেল। মুসাফাহা করার দ্বারা কেবল পারস্পরিক মহব্বতেরই প্রকাশ ঘটে না, পাপরাশিও মোচন হয়ে যায়। অপর এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن المؤمن إذا صافح أخاه تحات خطاياهما كما تتحات ورق الشجر
'কোনও মুমিন ব্যক্তি যখন তার ভাইয়ের সঙ্গে মুসাফাহা করে, তখন তাদের পাপরাশি ঝড়ে যায়, যেমন ঝড়ে যায় গাছের পাতা’। (মুসনাদুল বাযযার: ৮৩৩৫)
অপর এক হাদীছে আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن المؤمن إذا لقي المؤمن فسلم عليه، وأخذ بيده، فصافحه، تناثرت خطاياهما، كما يتناثر ورق الشجر
'মুমিন ব্যক্তি যখন অপর মুমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং সালাম দিয়ে তার হাত ধরে ও মুসাফাহা করে, তখন গাছের পাতা যেমন ঝড়ে যায়, তেমনি তাদের গুনাহসমূহও ঝড়ে যায়’। (আল-মু'জামুল আওসাত: ২৪৫)
অপর এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ما من عبدين متحابين في الله يستقبل أحدهما صاحبه فيتصافحان و يصليان على النبي صلى الله عليه وسلم إلا لم يتفرقا حتى تغفر ذنوبهما ما تقدم وما تأخر
'একে অন্যকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এমন যে-কোনও দুই বান্দা যখন একে অন্যের সামনা-সামনি হয়, তারপর তারা একে অন্যের সঙ্গে মুসাফাহা করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পড়ে, তখন তারা একে অন্যের থেকে আলাদা হওয়ার আগেই তাদের আগের ও পরের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়’। (বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান: ৮৫৪৩)
উল্লেখ্য, মুসাফাহা কেবল একজন পুরুষ অপর পুরুষের সঙ্গে এবং একজন নারী অপর নারীর সঙ্গেই করতে পারে। হাঁ, পুরুষ তার মাহরাম নারীর সঙ্গেও মুসাফাহা করতে পারে, যেমন স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে, ভাই তার বোনের সঙ্গে, ছেলে তার মায়ের সঙ্গে। এমনিভাবে অন্যান্য মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যেও মুসাফাহার বৈধতা আছে। কিন্তু গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে মুসাফাহার কোনও বৈধতা নেই। কোনও অজুহাতেই কোনও পুরুষ গায়রে মাহরাম নারীর হাত কিংবা কোনও নারী গায়রে মাহরাম পুরুষের হাত ধরতে পারবে না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পুরুষদের বায়'আত গ্রহণ করতেন, তখন তো তাদের হাত ধরতেন। কিন্তু কোনও নারীর বায়'আতকালে তিনি তার হাত স্পর্শ করতেন না। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন-
وَاللَّهِ مَا مَسَّتْ يَدُهُ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ فِي المُبَايَعَةِ، وَمَا بَايَعَهُنَّ إِلَّا بِقَوْلِهِ
'আল্লাহর কসম! বায়'আত গ্রহণের সময় তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) হাত কখনও কোনও নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি তাদের বায়'আত গ্রহণ করতেন কেবল তাঁর কথা দ্বারা’। (সহীহ বুখারী: ২৭১১; মুসনাদুল বাযযার: ১১০; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ১৮৮৩৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৭৪৮)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
মুসাফাহার দ্বারা মুসলিম ব্যক্তির পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। কাজেই আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশায় মুসাফাহা করা উচিত।
إن المؤمن إذا صافح أخاه تحات خطاياهما كما تتحات ورق الشجر
'কোনও মুমিন ব্যক্তি যখন তার ভাইয়ের সঙ্গে মুসাফাহা করে, তখন তাদের পাপরাশি ঝড়ে যায়, যেমন ঝড়ে যায় গাছের পাতা’। (মুসনাদুল বাযযার: ৮৩৩৫)
অপর এক হাদীছে আছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
إن المؤمن إذا لقي المؤمن فسلم عليه، وأخذ بيده، فصافحه، تناثرت خطاياهما، كما يتناثر ورق الشجر
'মুমিন ব্যক্তি যখন অপর মুমিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এবং সালাম দিয়ে তার হাত ধরে ও মুসাফাহা করে, তখন গাছের পাতা যেমন ঝড়ে যায়, তেমনি তাদের গুনাহসমূহও ঝড়ে যায়’। (আল-মু'জামুল আওসাত: ২৪৫)
অপর এক হাদীছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
ما من عبدين متحابين في الله يستقبل أحدهما صاحبه فيتصافحان و يصليان على النبي صلى الله عليه وسلم إلا لم يتفرقا حتى تغفر ذنوبهما ما تقدم وما تأخر
'একে অন্যকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে এমন যে-কোনও দুই বান্দা যখন একে অন্যের সামনা-সামনি হয়, তারপর তারা একে অন্যের সঙ্গে মুসাফাহা করে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দরূদ পড়ে, তখন তারা একে অন্যের থেকে আলাদা হওয়ার আগেই তাদের আগের ও পরের গুনাহসমূহ মাফ করে দেওয়া হয়’। (বায়হাকী, শু'আবুল ঈমান: ৮৫৪৩)
উল্লেখ্য, মুসাফাহা কেবল একজন পুরুষ অপর পুরুষের সঙ্গে এবং একজন নারী অপর নারীর সঙ্গেই করতে পারে। হাঁ, পুরুষ তার মাহরাম নারীর সঙ্গেও মুসাফাহা করতে পারে, যেমন স্বামী তার স্ত্রীর সঙ্গে, ভাই তার বোনের সঙ্গে, ছেলে তার মায়ের সঙ্গে। এমনিভাবে অন্যান্য মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যেও মুসাফাহার বৈধতা আছে। কিন্তু গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষের মধ্যে মুসাফাহার কোনও বৈধতা নেই। কোনও অজুহাতেই কোনও পুরুষ গায়রে মাহরাম নারীর হাত কিংবা কোনও নারী গায়রে মাহরাম পুরুষের হাত ধরতে পারবে না। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন পুরুষদের বায়'আত গ্রহণ করতেন, তখন তো তাদের হাত ধরতেন। কিন্তু কোনও নারীর বায়'আতকালে তিনি তার হাত স্পর্শ করতেন না। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দীকা রাযি. বলেন-
وَاللَّهِ مَا مَسَّتْ يَدُهُ يَدَ امْرَأَةٍ قَطُّ فِي المُبَايَعَةِ، وَمَا بَايَعَهُنَّ إِلَّا بِقَوْلِهِ
'আল্লাহর কসম! বায়'আত গ্রহণের সময় তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) হাত কখনও কোনও নারীর হাত স্পর্শ করেনি। তিনি তাদের বায়'আত গ্রহণ করতেন কেবল তাঁর কথা দ্বারা’। (সহীহ বুখারী: ২৭১১; মুসনাদুল বাযযার: ১১০; বায়হাকী, আস সুনানুল কুবরা : ১৮৮৩৩; বাগাবী, শারহুস সুন্নাহ: ২৭৪৮)
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
মুসাফাহার দ্বারা মুসলিম ব্যক্তির পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। কাজেই আল্লাহ তা'আলার কাছে ক্ষমা পাওয়ার আশায় মুসাফাহা করা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)