আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৮. অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
হাদীস নং: ৩২৯০
অধ্যায়ঃ পানাহার সংশ্লিষ্ট বিষয়
আহারের পূর্বে ও পরে হাত ধোয়ার প্রতি অনুপ্রেরণা এবং হাতে খানার ঘ্রাণ না ধুয়ে ঘুমিয়ে পাড়ার প্রতি ভীতি প্রদর্শন
৩২৯০. হযরত সালমান (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি তাওরাতে পড়েছি: আহারের পরে (হাত) ধোয়ার মধ্যে রয়েছে খানার বরকত। এ বিষয়টি আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট আলোচনা করি এবং আমি তাওরাতে যা পড়েছি সে বিষয়ে অবহিত করি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন: আহারের পূর্বে ও পরে (হাত) ধোয়ার মধ্যে রয়েছে খানার বরকত।
(আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, এই হাদীসটি কায়স ইবনে রাবীর সূত্র ব্যতীত জানা যায় না। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কায়স একজন দুর্বল রাবী।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): কায়স ইবনে রাবী একজন বিশ্বস্ত রাবী। তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনার সূত্র হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। সুফিয়ান সাওরী (র) আহারের পূর্বে উযূ করা অপসন্দ করতেন। ইমাম বায়হাকী (র) বলেন, অনুরূপ মালিক ইবনে আনাস (রা)ও অপসন্দ করতেন। অনুরূপ ইমাম শাফিঈ (র)-এর মাযহারের ইমামগণ তা বর্জন করা পসন্দ করতেন এবং তারা এই হাদীস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন: আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি প্রকৃতির কাজ সেরে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর নিকট খানা পরিবেশন করা হয়। তাঁকে বলা হয়, আপনি কি উযূ করবেন না? তিনি বললেন: আমি তো সালাত আদায় করব না যে উযূ করব?
মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাঁরা দু'জনে বলেনঃ আমি যখন সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াই, তখনই কেবল উযু করে নেয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।)
(আবু দাউদ, তিরমিযী বর্ণিত। ইমাম তিরমিযী (র) বলেন, এই হাদীসটি কায়স ইবনে রাবীর সূত্র ব্যতীত জানা যায় না। হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কায়স একজন দুর্বল রাবী।
[হাফিয মুনযিরী (র) বলেন): কায়স ইবনে রাবী একজন বিশ্বস্ত রাবী। তবে তাঁর স্মৃতিশক্তি ত্রুটিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও তাঁর বর্ণনার সূত্র হাসান পর্যায়ের অন্তর্ভুক্ত। সুফিয়ান সাওরী (র) আহারের পূর্বে উযূ করা অপসন্দ করতেন। ইমাম বায়হাকী (র) বলেন, অনুরূপ মালিক ইবনে আনাস (রা)ও অপসন্দ করতেন। অনুরূপ ইমাম শাফিঈ (র)-এর মাযহারের ইমামগণ তা বর্জন করা পসন্দ করতেন এবং তারা এই হাদীস প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করেন। অর্থাৎ ইবনে আব্বাস (রা) বলেছেন: আমরা নবী (ﷺ)-এর নিকট ছিলাম। তিনি প্রকৃতির কাজ সেরে ফিরে আসেন। এরপর তাঁর নিকট খানা পরিবেশন করা হয়। তাঁকে বলা হয়, আপনি কি উযূ করবেন না? তিনি বললেন: আমি তো সালাত আদায় করব না যে উযূ করব?
মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে তাঁরা দু'জনে বলেনঃ আমি যখন সালাত আদায়ের জন্য দাঁড়াই, তখনই কেবল উযু করে নেয়ার জন্য আদিষ্ট হয়েছি।)
كتاب الطعام
التَّرْغِيب فِي غسل الْيَد قبل الطَّعَام إِن صَحَّ الْخَبَر وَبعده والترهيب أَن ينَام وَفِي يَده ريح الطَّعَام لَا يغسلهَا
3290- عَن سلمَان رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَرَأت فِي التَّوْرَاة إِن بركَة الطَّعَام الْوضُوء بعده فَذكرت ذَلِك للنَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وأخبرته بِمَا قَرَأت فِي التَّوْرَاة
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بركَة الطَّعَام الْوضُوء قبله وَالْوُضُوء بعده
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ لَا يعرف هَذَا الحَدِيث إِلَّا من حَدِيث قيس بن الرّبيع وَقيس يضعف فِي الحَدِيث
انْتهى
قَالَ الْحَافِظ قيس بن الرّبيع صَدُوق وَفِيه كَلَام لسوء حفظه لَا يخرج الْإِسْنَاد عَن حد الْحسن وَقد كَانَ سُفْيَان يكره الْوضُوء قبل الطَّعَام
قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَكَذَلِكَ مَالك بن أنس كرهه وَكَذَلِكَ صاحبنا الشَّافِعِي اسْتحبَّ تَركه وَاحْتج بِالْحَدِيثِ يَعْنِي حَدِيث ابْن عَبَّاس قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأتى الْخَلَاء ثمَّ إِنَّه رَجَعَ فَأتي بِالطَّعَامِ فَقيل أَلا تتوضأ قَالَ لم أصل فأتوضأ
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِنَحْوِهِ إِلَّا أَنَّهُمَا قَالَا فَقَالَ إِنَّمَا أمرت بِالْوضُوءِ إِذا قُمْت إِلَى الصَّلَاة
فَقَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بركَة الطَّعَام الْوضُوء قبله وَالْوُضُوء بعده
رَوَاهُ أَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ وَقَالَ لَا يعرف هَذَا الحَدِيث إِلَّا من حَدِيث قيس بن الرّبيع وَقيس يضعف فِي الحَدِيث
انْتهى
قَالَ الْحَافِظ قيس بن الرّبيع صَدُوق وَفِيه كَلَام لسوء حفظه لَا يخرج الْإِسْنَاد عَن حد الْحسن وَقد كَانَ سُفْيَان يكره الْوضُوء قبل الطَّعَام
قَالَ الْبَيْهَقِيّ وَكَذَلِكَ مَالك بن أنس كرهه وَكَذَلِكَ صاحبنا الشَّافِعِي اسْتحبَّ تَركه وَاحْتج بِالْحَدِيثِ يَعْنِي حَدِيث ابْن عَبَّاس قَالَ كُنَّا عِنْد النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فَأتى الْخَلَاء ثمَّ إِنَّه رَجَعَ فَأتي بِالطَّعَامِ فَقيل أَلا تتوضأ قَالَ لم أصل فأتوضأ
رَوَاهُ مُسلم وَأَبُو دَاوُد وَالتِّرْمِذِيّ بِنَحْوِهِ إِلَّا أَنَّهُمَا قَالَا فَقَالَ إِنَّمَا أمرت بِالْوضُوءِ إِذا قُمْت إِلَى الصَّلَاة
হাদীসের ব্যাখ্যা:
কুরআন পাক থেকে জানা যায় যে, যে শিক্ষা ও উপদেশ পূর্ববর্তী নবীদের মাধ্যমে এসেছিল, আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর আখেরী নবী হযরত মুহাম্মদ (ﷺ) এর মাধ্যমে এর পূর্ণতা দান করেছেন। যেমন এরশাদ হয়েছে: اليوم أكملت لكم دينكم অর্থাৎ, আজ আমি তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণতা দান করলাম। এর আলোকে হাদীসের মর্ম এই হয় যে, তাওরাতে পানাহারের আদব প্রসঙ্গে কেবল খাওয়ার পর হাত ধোয়াকে বরকতের কারণ বলা হয়েছিল এবং এর প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছিল। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মাধ্যমে খাওয়ার আগেও হাতমুখ ধোয়ার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আর তিনি বলেছেন যে, এটাও বরকতের কারণ হয়।
বরকত একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে এ হাদীস এবং খাওয়ার মধ্যে বরকত সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু হাদীসের বরাত দিয়ে যা কিছু লিখেছেন, এর সারকথা এই যে, কোন খাবার জিনিসে বরকত হওয়ার অর্থ এটাও হয় যে, খাদ্যের আসল উদ্দেশ্য যা থাকে, সেটা ভালোভাবে অর্জিত হয়, খানা স্বাদ ও তৃপ্তির সাথে খাওয়া হয়, মন পরিতৃপ্ত হয়, অন্তর খুশী হয়, স্বস্তি আসে, অল্প পরিমাণই যথেষ্ট হয়ে যায়। এর দ্বারা ভালো রক্ত, পুষ্টি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়ে শরীর গঠন হয়, এর উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এর দ্বারা নফসের অবাধ্যতা ও উদাসীনতা সৃষ্টি হয় না; বরং আল্লাহর শোকর ও আনুগত্যের তাওফীক লাভ হয়।
প্রকৃতপক্ষে এসব ঐ বাস্তবতারই লক্ষণ, যাকে হাদীসে বরকত বলা হয়েছে। 'কানযুল উম্মালে' তাবারানীর বরাতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধোয়া দারিদ্র বিদূরণকারী ও নবীদের তরীকা। তাছাড়া একথাও স্পষ্ট যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দাবীও এটাই যে, হাত ও মুখ যেগুলো খাদ্য গ্রহণের যন্ত্র- এগুলোকে খাওয়ার পূর্বেও ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া চাই এবং খাবার শেষেও পরিষ্কার করে নেওয়া চাই।
হযরত সালমান ফারসীর এ হাদীসে; বরং এ ধারার অন্যান্য হাদীসেও হাত মুখ ধোয়ার জন্য 'ওযু' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এর দ্বারা ঐ ওযু উদ্দেশ্য নয়, যা নামাযের জন্য করা হয়; বরং কেবল হাতমুখ ধোয়াই উদ্দেশ্য। অন্যকথায় এভাবেও বলা যায় যে, নামাযের ওযু তো সেটাই, যা সর্বজন বিদিত। আর খাওয়ার ওযু কেবল এই যে, হাত ও মুখ যা খাবার গ্রহণে ব্যবহৃত হয়- এগুলো ধুয়ে নেওয়া হবে এবং ভালোরূপে পরিষ্কার করে নেওয়া হবে। কোন কোন হাদীসে স্পষ্টভাবেও একথা উল্লেখিত হয়েছে।
বরকত একটি ব্যাপক অর্থবোধক শব্দ। হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (রহ) 'হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে এ হাদীস এবং খাওয়ার মধ্যে বরকত সংক্রান্ত অন্যান্য কিছু হাদীসের বরাত দিয়ে যা কিছু লিখেছেন, এর সারকথা এই যে, কোন খাবার জিনিসে বরকত হওয়ার অর্থ এটাও হয় যে, খাদ্যের আসল উদ্দেশ্য যা থাকে, সেটা ভালোভাবে অর্জিত হয়, খানা স্বাদ ও তৃপ্তির সাথে খাওয়া হয়, মন পরিতৃপ্ত হয়, অন্তর খুশী হয়, স্বস্তি আসে, অল্প পরিমাণই যথেষ্ট হয়ে যায়। এর দ্বারা ভালো রক্ত, পুষ্টি ইত্যাদি সৃষ্টি হয়ে শরীর গঠন হয়, এর উপকারিতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, এর দ্বারা নফসের অবাধ্যতা ও উদাসীনতা সৃষ্টি হয় না; বরং আল্লাহর শোকর ও আনুগত্যের তাওফীক লাভ হয়।
প্রকৃতপক্ষে এসব ঐ বাস্তবতারই লক্ষণ, যাকে হাদীসে বরকত বলা হয়েছে। 'কানযুল উম্মালে' তাবারানীর বরাতে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-এর বর্ণনায় এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: খাওয়ার পূর্বে ও পরে হাত ধোয়া দারিদ্র বিদূরণকারী ও নবীদের তরীকা। তাছাড়া একথাও স্পষ্ট যে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধির দাবীও এটাই যে, হাত ও মুখ যেগুলো খাদ্য গ্রহণের যন্ত্র- এগুলোকে খাওয়ার পূর্বেও ধুয়ে পরিষ্কার করে নেওয়া চাই এবং খাবার শেষেও পরিষ্কার করে নেওয়া চাই।
হযরত সালমান ফারসীর এ হাদীসে; বরং এ ধারার অন্যান্য হাদীসেও হাত মুখ ধোয়ার জন্য 'ওযু' শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। তবে এর দ্বারা ঐ ওযু উদ্দেশ্য নয়, যা নামাযের জন্য করা হয়; বরং কেবল হাতমুখ ধোয়াই উদ্দেশ্য। অন্যকথায় এভাবেও বলা যায় যে, নামাযের ওযু তো সেটাই, যা সর্বজন বিদিত। আর খাওয়ার ওযু কেবল এই যে, হাত ও মুখ যা খাবার গ্রহণে ব্যবহৃত হয়- এগুলো ধুয়ে নেওয়া হবে এবং ভালোরূপে পরিষ্কার করে নেওয়া হবে। কোন কোন হাদীসে স্পষ্টভাবেও একথা উল্লেখিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)