আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৭. অধ্যায়ঃ পোশাক-পরিচ্ছদ

হাদীস নং: ৩১৩২
অধ্যায়ঃ পোশাক-পরিচ্ছদ
পুরুষের রেশমের পোশাক পরা তার উপর বসা ও স্বর্ণের অলংকার ব্যবহারের প্রতি ভীতি প্রদর্শন এবং উপরোক্ত দু'টি মহিলাদের বর্জনের প্রতি অনুপ্রেরণা
৩১৩২. হযরত আবু রুকায়্যা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাসলামা ইবনে মাখলাদ (রা)-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে লোকের উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ হে মানবমণ্ডলী! রেশমী কাপড় বাদ দিয়ে আসবে এবং কাতান কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়। এই ব্যক্তি (নিকটের এক বাক্তির প্রতি লক্ষ্য করে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি বলেনঃ হে উকবা! তুমি দাঁড়াও। উকবা ইবনে আমির (রা) দাঁড়ালেন। (রাবী বলেন) আমি তার বর্ণনা শুনেছি। তিনি বলেছেন: আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি। যে ব্যক্তি আমার প্রতি স্বেচ্ছায় মিথ্যারোপ করবে, সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে তৈরী করে নেয়। আর আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রেশমী কাপড় পরিধান করবে, আখিরাতে আল্লাহ তাকে রেশমী কাপড় পরা থেকে বঞ্চিত করবেন।
(ইবনে হিব্বান তার সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
العصب - এক প্রকার শীতল চাদর।)
كتاب اللباس
ترهيب الرِّجَال من لبسهم الْحَرِير وجلوسهم عَلَيْهِ والتحلي بِالذَّهَب وترغيب النِّسَاء فِي تَركهمَا
3132- وَعَن أبي رقية رَضِي الله عَنهُ قَالَ سَمِعت مسلمة بن مخلد وَهُوَ على الْمِنْبَر يخْطب النَّاس يَقُول يَا أَيهَا النَّاس أما لكم فِي العصب والكتان مَا يغنيكم عَن الْحَرِير وَهَذَا رجل يخبر عَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قُم يَا عقبَة فَقَامَ عقبَة بن عَامر وَأَنا أسمع فَقَالَ إِنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من كذب عَليّ مُتَعَمدا فَليَتَبَوَّأ مَقْعَده من النَّار وَأشْهد أَنِّي سَمِعت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول من لبس الْحَرِير فِي الدُّنْيَا حرمه أَن يلْبسهُ فِي الْآخِرَة

رَوَاهُ ابْن حبَان فِي صَحِيحه
العصب بِفَتْح الْعين وَسُكُون الصَّاد مهملتين هُوَ ضرب من البرود

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হাদীছে জানানো হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরে, সে আখিরাতে রেশমী পোশাক পরবে না। আর এ কারণে মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক পরতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য হাদীছে বলা হয়েছে, রেশমী পোশাক পরে এমন ব্যক্তি, আখিরাতে যার কোনও অংশ নেই। অর্থাৎ যে ব্যক্তি জান্নাতে যাবে না। তার মানে এটা অমুসলিমদের পোশাক। সারমর্ম হল- রেশমি পোশাক দুনিয়ায় অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিম ব্যক্তির জন্য দুনিয়ায়। এটা পরা জায়েয নয়। তা সত্ত্বেও কোনও মুসলিম ব্যক্তি যদি রেশমী পোশাক পরে, তবে আখিরাতে সে এ পোশাক পরতে পারবে না। অর্থাৎ এ হুকুম অমান্য করার কারণে সে শুরুতে জান্নাতে যেতে পারবে না। জান্নাতের পোশাক রেশমী পোশাক। কুরআন মাজীদে ইরশাদ হয়েছে-
وَلِبَاسُهُمْ فِيهَا حَرِيرٌ
‘সেখানে তাদের পোশাক হবে রেশমের’ (সূরা ফাতির, আয়াত ৩৩)

কাজেই 'দুনিয়ায় যে মুমিন রেশমী পোশাক পরে, আখিরাতে সে তা পরবে না' দ্বারা বোঝানো হয়েছে সে প্রথমে জান্নাতে যেতে পারবে না। প্রথমে তাকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে। শাস্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঈমানের বদৌলতে সে জান্নাত লাভ করবে। জান্নাত লাভ করার পর জান্নাতের অপরাপর নি'আমতের মতো রেশমী পোশাকও সে পাবে। কেউ কেউ বলেন, দুনিয়ায় যে মুমিন ব্যক্তি রেশমী পোশাক পরবে, সে জান্নাত লাভ করলেও জান্নাতের অন্যান্য নি'আমত ঠিকই পাবে, কিন্তু রেশমী পোশাক পাবে না।

প্রশ্ন দাঁড়ায়, তবে তো তার মনে রেশমী পোশাক না পাওয়ার কষ্ট থেকে যাবে, অথচ জান্নাত কষ্টের জায়গা নয়?
এর উত্তর হল, জান্নাতে এমন ব্যক্তির অন্তর থেকে রেশমী পোশাকের চাহিদাই দূর করে দেওয়া হবে। অন্তরে যখন এ পোশাকের চাহিদা থাকবে না, তখন না পাওয়ার দরুন কোনও কষ্টও সে পাবে না, যেমন সাধারণ স্তরের জান্নাতীগণ উচ্চস্তরের জান্নাতবাসীগণের মতো মর্যাদা না পাওয়ার কারণে কোনও কষ্ট বোধ করবে না।

হাদীছের মূল বার্তা হল মুমিনদেরকে রেশমী পোশাক সম্পর্কে সতর্ক করা, যাতে তারা এটা না পরে। কেননা এটা পরলে শরী'আতের হুকুম অমান্য করা হবে। পরিণামে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে, যদি না আল্লাহ তা'আলা মাফ করেন।

হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ

ক. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক অমুসলিমদের পোশাক। তাই মুসলিমদেরকে অবশ্যই এ পোশাক পরিধান করা হতে বিরত থাকতে হবে।

খ. রেশমী পোশাক পরিধান করলে আখিরাতে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে হবে।

গ. দুনিয়ায় রেশমী পোশাক পরিধান করলে জান্নাতে এ নি'আমত থেকে বঞ্চিত থাকতে হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান