আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৫. অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
হাদীস নং: ২৮০৯
অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
ধনী ব্যক্তির পক্ষে পাওনা আদায়ে টালবাহানা করা থেকে ভীতি প্রদর্শন এবং পাওনাদারকে খুশি করার প্রতি উৎসাহ দান
২৮০৯. উক্ত হযরত খাওলা বিন্ত কায়স (রা) থেকেই বর্ণিত। তিনি বলেন, বনু সায়িদাহ গোত্রের জনৈক ব্যক্তির রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) -এর নিকট এক ওসাক খেজুর পাওনা ছিল। লোকটি তাঁর কাছে এর তাগাদা দিতে আসল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জনৈক আনসারী ব্যক্তিকে তার পাওনাটি আদায় করে দিতে বললেন। আনসারী লোকটি তার পাওনা খেজুরের চেয়ে নিম্নমানের খেজুর দিয়ে তা আদায় করতে চাইল, কিন্তু সে তা গ্রহণ করতে অস্বীকার করল। আনসারী লোকটি তখন বলে উঠলঃ তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর জিনিসটি প্রত্যাখ্যান করছ? সে বলল, হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর চেয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ আর কে আছেন? এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ এর চক্ষুদ্বয় অশ্রু সজল হয়ে উঠল। তিনি বললেন, লোকটি যথার্থই বলেছে। আমার চেয়ে অধিক ন্যায়পরায়ণ আর কে হবে? আল্লাহ ঐ উম্মতকে পবিত্র করবেন না, যার দুর্বলগণ শক্তিশালীদের নিকট থেকে তাদের অধিকার আদায় করতে পারবে না এবং তাদের উপর চাপ প্রয়োগও করতে পারবে না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে খাওলা। তুমি সঠিক পরিমাপে পূর্ণরূপে তাকে তার পাওনা চুকিয়ে দাও। কেননা কোন পাওনাদার যখন তার পাওনা নিয়ে খুশি মনে বেরিয়ে যায়, তখন পৃথিবীর সকল প্রাণী এবং সাগরের মাছ পর্যন্ত তার জন্য দু'আ করতে থাকে। আর সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে বান্দা তার পাওনাদারকে বার বার ফিরিয়ে দেয়, আল্লাহ্ প্রতিদিন এবং প্রতি রাতে তার আমলনামায় গুনাহ্ লিখতে থাকেন।
(হাদীসটি তাবারানী তাঁর আওসাতে ও কবীরে হিব্বান ইবন আলী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য হিব্বানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম আহমদ এটি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপই হযরত আয়েশা (রা)-এর হাদীস হিসেবে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
(হাদীসটি তাবারানী তাঁর আওসাতে ও কবীরে হিব্বান ইবন আলী সূত্রে বর্ণনা করেছেন। অবশ্য হিব্বানের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। ইমাম আহমদ এটি উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপই হযরত আয়েশা (রা)-এর হাদীস হিসেবে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।)
كتاب البيوع
التَّرْهِيب من مطل الْغَنِيّ وَالتَّرْغِيب فِي إرضاء صَاحب الدّين
2809- وعنها رَضِي الله عَنْهَا قَالَت كَانَ على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم وسق من تمر لرجل من بني سَاعِدَة فَأَتَاهُ يَقْتَضِيهِ فَأمر رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم رجلا من الْأَنْصَار أَن يَقْضِيه فقضاه تَمرا دون تمره فَأبى أَن يقبله فَقَالَ أترد على رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ نعم وَمن أَحَق بِالْعَدْلِ من رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم فاكتحلت عينا رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم بدموعه ثمَّ قَالَ صدق وَمن أَحَق بِالْعَدْلِ مني لَا قدس الله أمة لَا يَأْخُذ ضعيفها حَقه من شديدها وَلَا يتعتعه ثمَّ قَالَ يَا خَوْلَة عديه واقضيه فَإِنَّهُ لَيْسَ من غَرِيم يخرج من عِنْد غَرِيمه رَاضِيا إِلَّا صلت عَلَيْهِ دَوَاب
الأَرْض وَنون الْبحار وَلَيْسَ من عبد يلوي غَرِيمه وَهُوَ يجد إِلَّا كتب الله عَلَيْهِ فِي كل يَوْم وَلَيْلَة إِثْمًا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالْكَبِير من رِوَايَة حبَان بن عَليّ وَاخْتلف فِي توثيقه وَرَوَاهُ بِنَحْوِهِ الإِمَام أَحْمد من حَدِيث عَائِشَة بِإِسْنَاد جيد قوي
الأَرْض وَنون الْبحار وَلَيْسَ من عبد يلوي غَرِيمه وَهُوَ يجد إِلَّا كتب الله عَلَيْهِ فِي كل يَوْم وَلَيْلَة إِثْمًا
رَوَاهُ الطَّبَرَانِيّ فِي الْأَوْسَط وَالْكَبِير من رِوَايَة حبَان بن عَليّ وَاخْتلف فِي توثيقه وَرَوَاهُ بِنَحْوِهِ الإِمَام أَحْمد من حَدِيث عَائِشَة بِإِسْنَاد جيد قوي
হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):
تعتعه بتاءين مثناتين فَوق وعينين مهملتين أَي أقلقه وأتعبه بِكَثْرَة ترداده إِلَيْهِ ومطله إِيَّاه
وَنون الْبحار حوتها
وَقَوله يلوي غَرِيمه أَي يمطله ويسوفه
وَنون الْبحار حوتها
وَقَوله يلوي غَرِيمه أَي يمطله ويسوفه