আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৫. অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
হাদীস নং: ২৭৪৬
অধ্যায়ঃ ক্রয়-বিক্রয়
খাদ্য মজুতদারীর ব্যাপারে সাবধান বাণী
২৭৪৬. হযরত ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মুল্য বৃদ্ধির আশায় চল্লিশ রাত পর্যন্ত খাদ্য গুদামজাত করে রাখল, সে আল্লাহর দায়িত্ব থেকে বের হয়ে গেল এবং আল্লাহও তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত হয়ে গেলেন। আর যে জনপদের মধ্যে কোন ব্যক্তি ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত্রিযাপন করে, সেই জনপদবাসীর উপর থেকে আল্লাহর দায়িত্ব উঠে যায়।
(হাদীসটি আহমদ, আবু ইয়ালা, বাযযার এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটির পাঠ গরীব। অবশ্য এর কোন কোন সনদ উত্তম। রযীন এ হাদীসের প্রথম অংশটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর সংকলিত 'উসুল' গ্রন্থে আমি এটি দেখিনি।)
(হাদীসটি আহমদ, আবু ইয়ালা, বাযযার এবং হাকিম বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটির পাঠ গরীব। অবশ্য এর কোন কোন সনদ উত্তম। রযীন এ হাদীসের প্রথম অংশটি বর্ণনা করেছেন। তবে তাঁর সংকলিত 'উসুল' গ্রন্থে আমি এটি দেখিনি।)
كتاب البيوع
التَّرْهِيب من الاحتكار
2746- وَعَن ابْن عمر رَضِي الله عَنْهُمَا قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من احتكر طَعَاما أَرْبَعِينَ لَيْلَة فقد برىء من الله وبرىء مِنْهُ وَأَيّمَا أهل عَرصَة أصبح فيهم امْرُؤ جائعا فقد بَرِئت مِنْهُم ذمَّة الله تبَارك وَتَعَالَى
رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى وَالْبَزَّار وَالْحَاكِم وَفِي هَذَا الْمَتْن غرابة وَبَعض أسانيده جيد وَقد ذكر رزين شطره الأول وَلم أره فِي شَيْء من الْأُصُول الَّتِي جمعهَا
رَوَاهُ أَحْمد وَأَبُو يعلى وَالْبَزَّار وَالْحَاكِم وَفِي هَذَا الْمَتْن غرابة وَبَعض أسانيده جيد وَقد ذكر رزين شطره الأول وَلم أره فِي شَيْء من الْأُصُول الَّتِي جمعهَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যে ভাবে আমাদের যুগে অনেক ব্যবসায়ী খাদ্যশস্য ইত্যাদি প্রায়োজনীয় দ্রব্যাদি মওজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে, ফলে দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি ও দুষ্প্রাপ্যতা বেড়ে চলে যা সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ায় ও তাদের জন্য জীবন যাপন কঠিন হয়ে পড়ে, অনুরূপ ভাবে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগেও কতক ব্যবসায়ী এরূপ করত (সম্ভবত এতে কোন দোষ মনে করত না) কিন্তু রাসূলুল্লাহ ﷺ এটা কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। আরবী ভাষায় এটাকে احتکار বলে।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও তার নিয়ে আসা শরীয়তের ঝোঁক প্রবণতা হচ্ছে এই যে, সামাজিক রীতি-নীতি এরূপ হবে, যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র অর্থাৎ স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন যাপন করা কষ্টকর না হয়। ব্যবসায়ী মহল ও ধনিক শ্রেণীর বেশি লাভ ও আপন মাল বৃদ্ধির পরিবর্তে জনসাধারণের সুবিধা দৃষ্টিতে রাখবে। এই মহৎ লক্ষ্যে অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত ও আখিরাতের প্রতিদান গ্রহণ করবে। যদি ঈমানের সৌভাগ্য লাভ হয় তবে নিঃসন্দেহে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক।
রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা ও তার নিয়ে আসা শরীয়তের ঝোঁক প্রবণতা হচ্ছে এই যে, সামাজিক রীতি-নীতি এরূপ হবে, যাতে জনসাধারণ বিশেষ করে দরিদ্র অর্থাৎ স্বল্প আয়ের লোকজনের জীবন যাপন করা কষ্টকর না হয়। ব্যবসায়ী মহল ও ধনিক শ্রেণীর বেশি লাভ ও আপন মাল বৃদ্ধির পরিবর্তে জনসাধারণের সুবিধা দৃষ্টিতে রাখবে। এই মহৎ লক্ষ্যে অল্প লাভে সন্তুষ্ট থেকে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও রহমত ও আখিরাতের প্রতিদান গ্রহণ করবে। যদি ঈমানের সৌভাগ্য লাভ হয় তবে নিঃসন্দেহে এ ব্যবসা খুবই লাভজনক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)