আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১৪. অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ

হাদীস নং: ২৫৫৭
অধ্যায়ঃ যিকির ও দু‘আ
সিজদা অবস্থায়, নামাযের পর ও রাতের শেষ প্রহরে দু'আ করার প্রতি উৎসাহ দান
২৫৫৭. হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের প্রতিপালক প্রতি রাত্রের তৃতীয় প্রহরে এই নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেন। কে আমাকে আহ্বান করবে, আমি যার আহ্বানে সাড়া দিব? কে আমার কাছে প্রার্থনা করবে যে, আমি যাকে দান করব? কে আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি যাকে ক্ষমা করে দিব?
(হাদীসটি মালিক, বুখারী, মুসলিম ও তিরমিযী প্রমুখ বর্ণনা করেছেন।
মুসলিমের অপর এক বর্ণনায় রয়েছেঃ রাতের অর্ধেক অথবা দুই-তৃতীয়াংশ যখন কেটে যায়, তখন মহান আল্লাহ পৃথিবীর নিকটতম আসমানে অবতরণ করেন এবং বলতে থাকেনঃ কোন যাচ্ঞাকারী আছে কি, যাকে দান করা হবে? কোন দু'আকারী আছে কি, যার দু'আ কবুল করা হবে, কোন মার্জনা প্রার্থনাকারী আছে কি যাকে মার্জনা করে দেয়া হবে? এ আহ্বান সুবহে সাদিক বা ফজর পর্যন্ত চলতে থাকে।)
كتاب الذّكر وَالدُّعَاء
التَّرْغِيب فِي الدُّعَاء فِي السُّجُود ودبر الصَّلَوَات وجوف اللَّيْل الْأَخير
2557- وَعَن أبي هُرَيْرَة رَضِي الله عَنهُ أَن رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم قَالَ ينزل رَبنَا كل لَيْلَة إِلَى سَمَاء الدُّنْيَا حِين يبْقى ثلث اللَّيْل الآخر فَيَقُول من يدعوني فأستجيب لَهُ من يسألني فَأعْطِيه من يستغفرني فَأغْفِر لَهُ

رَوَاهُ مَالك وَالْبُخَارِيّ وَمُسلم وَالتِّرْمِذِيّ وَغَيرهم

وَفِي رِوَايَة لمُسلم إِذا مضى شطر اللَّيْل أَو ثُلُثَاهُ ينزل الله تبَارك وَتَعَالَى إِلَى السَّمَاء الدُّنْيَا فَيَقُول هَل من سَائل فَيعْطى هَل من دَاع فيستجاب لَهُ هَل من مُسْتَغْفِر يغْفر لَهُ حَتَّى ينفجر الصُّبْح

হাদীসের ব্যাখ্যা:

আলোচ্য হাদীসে দুনিয়ার নিকটবর্তী আসমানে আল্লাহর অবতরণ সম্পর্কে যে বক্তব্য গুণাবলী ও কর্মের বহিঃপ্রকাশ, যার হাকীকত সম্পর্কে আমরা অবহিত নই। যেমনিভাবে আমরা ইয়াদুল্লাহ, ওয়াজহুল্লাহ্, ইস্তাওয়া আলাল আরশ্ ইত্যাদি গুণাবলী ও কর্মের হাকীকত সম্পর্কে অবহিত নই। আল্লাহর সত্তা, গুণাবলী ও কর্মকাণ্ডের হাকীকত ও অবস্থার জ্ঞান সম্পর্কে অজ্ঞতার স্বীকৃতিই জ্ঞানের পরিচায়ক। পূর্ববর্তী আলিমগণের অভিমত এই যে, তাঁর সম্পর্কে নিজ অজ্ঞতা প্রকাশই যথার্থ কাজ এবং এ গুলোর হাকীকতের বিষয় অপরাপর দুর্বোধ্য বিষয়ের ন্যায় আল্লাহর দিকে সোপর্দ করা চাই। একথা মেনে নেয়া ও কর্তব্য যে, এগুলোর হাকীকত যা রয়েছে তা-ই সত্য।

কিন্তু আলোচ্য হাদীসের এই ভাষ্য পরিষ্কার যে, রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকার সময় আল্লাহ্ তাঁর বান্দাদের প্রতি নিজ দয়ায় বিশেষ অবস্থাসহ মনোনিবেশ করেন এবং তিনি স্বয়ং তাদেরকে দু'আ প্রার্থনা ও ক্ষমা চেয়ে নেয়ার জন্য আহবান জানাতে থাকেন। যে ব্যক্তি এই হাকীকতে দৃঢ় বিশ্বাসী তার জন্য ঐ সময় বিছানায় নিদ্রা বিভোর থাকা মূলত কষ্টকর যেমনিভাবে এ সম্পর্কে অজ্ঞ ব্যক্তির শয্যাত্যাগ করে সালাতে দাঁড়িয়ে যাওয়া কষ্টকর। আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজ দয়ায় এই হাকীকতের এমন বিশ্বাস আমাদের নসীব করুন যাতে আমরা ঐ সময়ে ব্যাকুল হয়ে তাঁর মহান দরবারে হাযিরী, দু'আ, প্রার্থনা ও ক্ষমা চেয়ে নেয়ার লক্ষ্যে সালাতে দাঁড়িয়ে যেতে পারি।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান