আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
১৩. অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
হাদীস নং: ২১৯৮
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
অধ্যায়ঃ কুরআন পাঠ
সালাত ও এর বাইরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান, কুরআন শিক্ষা ও এর শিক্ষাদানের ফযীলত এবং সিজদা-ই-তিলাওয়াত আদায়ের প্রতি উৎসাহ দান প্রসঙ্গে
সালাত ও এর বাইরে কুরআন পাঠের প্রতি উৎসাহ দান, কুরআন শিক্ষা ও এর শিক্ষাদানের ফযীলত এবং সিজদা-ই-তিলাওয়াত আদায়ের প্রতি উৎসাহ দান প্রসঙ্গে
২১৯৮. হযরত আবূ সাঈদ (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তিকে কুরআন আমার কাছে কোন কিছু প্রার্থনা করা থেকে ব্যস্ত রাখল, আমি প্রার্থনাকারীদেরকে যা দান করি, এর চেয়ে উত্তম বস্তু তাকে দান করব। আর সকল বাণীর উপর আল্লাহর বাণীর মর্যাদা এরূপ, যেরূপ আল্লাহর মর্যাদা তাঁর সকল সৃষ্টি জগতের উপর।
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব।)
(হাদীসটি তিরমিযী বর্ণনা করেছেন এবং তিনি বলেছেনঃ হাদীসটি গরীব।)
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
كتاب قِرَاءَة الْقُرْآن
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة الْقُرْآن فِي الصَّلَاة وَغَيرهَا وَفضل تعلمه وتعليمه وَالتَّرْغِيب فِي سُجُود التِّلَاوَة
التَّرْغِيب فِي قِرَاءَة الْقُرْآن فِي الصَّلَاة وَغَيرهَا وَفضل تعلمه وتعليمه وَالتَّرْغِيب فِي سُجُود التِّلَاوَة
2198- وَعَن أبي سعيد رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يَقُول الرب تبَارك وَتَعَالَى من شغله الْقُرْآن عَن مَسْأَلَتي أَعْطيته أفضل مَا أعطي السَّائِلين وَفضل كَلَام الله على سَائِر الْكَلَام كفضل الله على خلقه
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَقَالَ حَدِيث غَرِيب
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যখন কোন হাদীসে রসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা'আলার বরাতে কোন কথা বলেন অথচ তা' কুরআন মজীদে না থাকে, হাদীসের পরিভাষায় এরূপ হাদীসকে হাদীসে কুদসী বলা হয়ে থাকে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) বর্ণিত এ হাদীসও এধরনের হাদীসে কুদসী।
এ হাদীসে দু'টি কথা বলা হয়েছে:
এক. আল্লাহর যে বান্দা কুরআন নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে যে, দিন-রাত তার ঐ একটিই ব্যস্ততা অর্থাৎ কুরআনের তিলাওয়াত কুরআন মুখস্থ করা তার চিন্তা-গবেষণা বা পঠন-পাঠনে ইখলাসের সাথে মশগুল-বিভোর থাকে যে, কুরআনের এ চর্চা বন্ধ করে সে আল্লাহর হামদ-তসবীহ করার বা তাঁর দরবারে দু'আ করার পর্যন্ত অবসর করে উঠতে পারে না, সে যেন মনে না করে যে, তার বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। কেননা, আল্লাহর তাআ'লা যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে যা দান করবেন তার চেয়ে অনেকগুণ উত্তম তাকে দান করবেন। অন্য কথায়, সে আল্লাহর দরবার থেকে যে মহাদান লাভ করবে, যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীরা তা কল্পনাও করতে পারবে না। রাসূলূল্লাহ ﷺ বলেন, এটা আল্লাহর তা'আলার অকাট্য ফয়সালা, আমি আমার এমন বান্দাকে তা থেকে অধিক ও উত্তম দান করবো, যা আমি কোন যিকিরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে দান করে থাকি।
দ্বিতীয় যে কথাটি এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে তা হলো, আল্লাহর কালাম অন্যদের কালাম থেকে ঠিক তেমনি মর্যাদাপূর্ণ, যেমন মর্যাদাপূর্ণ স্বয়ং তিনি তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকুলের তুলনায়। আর তার কারণও এটাই যে, কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম এবং তাঁর অবিচ্ছিন্ন গুণ বিশেষ, যা' তাঁরই সত্তার মত অবিনশ্বর।
এ হাদীসে দু'টি কথা বলা হয়েছে:
এক. আল্লাহর যে বান্দা কুরআন নিয়ে এতই ব্যস্ত থাকে যে, দিন-রাত তার ঐ একটিই ব্যস্ততা অর্থাৎ কুরআনের তিলাওয়াত কুরআন মুখস্থ করা তার চিন্তা-গবেষণা বা পঠন-পাঠনে ইখলাসের সাথে মশগুল-বিভোর থাকে যে, কুরআনের এ চর্চা বন্ধ করে সে আল্লাহর হামদ-তসবীহ করার বা তাঁর দরবারে দু'আ করার পর্যন্ত অবসর করে উঠতে পারে না, সে যেন মনে না করে যে, তার বিরাট ক্ষতি হয়ে গেল। কেননা, আল্লাহর তাআ'লা যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে যা দান করবেন তার চেয়ে অনেকগুণ উত্তম তাকে দান করবেন। অন্য কথায়, সে আল্লাহর দরবার থেকে যে মহাদান লাভ করবে, যিকরকারী ও যাচ্ঞাকারীরা তা কল্পনাও করতে পারবে না। রাসূলূল্লাহ ﷺ বলেন, এটা আল্লাহর তা'আলার অকাট্য ফয়সালা, আমি আমার এমন বান্দাকে তা থেকে অধিক ও উত্তম দান করবো, যা আমি কোন যিকিরকারী ও যাচ্ঞাকারীকে দান করে থাকি।
দ্বিতীয় যে কথাটি এ হাদীসে বিবৃত হয়েছে তা হলো, আল্লাহর কালাম অন্যদের কালাম থেকে ঠিক তেমনি মর্যাদাপূর্ণ, যেমন মর্যাদাপূর্ণ স্বয়ং তিনি তাঁর সমগ্র সৃষ্টিকুলের তুলনায়। আর তার কারণও এটাই যে, কুরআন আল্লাহ তা'আলার কালাম এবং তাঁর অবিচ্ছিন্ন গুণ বিশেষ, যা' তাঁরই সত্তার মত অবিনশ্বর।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)