আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ

১১. অধ্যায়ঃ হজ্জ

হাদীস নং: ১৮২৬
অধ্যায়ঃ হজ্জ
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে হজ্জ করে না, তার প্রতি সতর্কবাণী ও ফরয হজ্জ আদায়ের পর মহিলাদের ঘর আঁকড়ে থাকা প্রসঙ্গ
১৮২৬. হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ যে ব্যক্তি এমন পাথেয় ও বাহনের মালিক হল, যা তাকে আল্লাহর পবিত্র ঘরে পৌঁছাতে পারে, অথচ সে হজ্জ আদায় করল না, তার উপর কোন আক্ষেপ নেই, সে ইয়াহুদী হয়ে মৃত্যুবরণ করুক অথবা নাসারা হয়ে। কারণ এই যে, আল্লাহ্ বলেন:
وَلِلَّهِ عَلَى النَّاسِ حِجُّ الْبَيْتِ مَنِ اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلًا
অর্থ: আর এ ঘরের হজ্জ করা হল মানুষের উপর আল্লাহর প্রাপ্য; যে লোকের সামর্থ্য রয়েছে এ পর্যন্ত পৌছার (সূরা আলে-ইমরান, আয়াত নং ৯৭)
(হাদীসটি তিরমিযী ও বায়হাকী হারিস সূত্রে হযরত আলী (রা) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি গরীব। এ সূত্রটি ব্যতীত অন্য কোন সূত্রে আমরা এটি জানি না।)
كتاب الْحَج
ترهيب من قدر على الْحَج فَلم يحجّ وَمَا جَاءَ فِي لُزُوم الْمَرْأَة بَيتهَا بعد قَضَاء فرض الْحَج
1826- رُوِيَ عَن عَليّ رَضِي الله عَنهُ قَالَ قَالَ رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم من ملك زادا وراحلة تبلغه إِلَى بَيت الله الْحَرَام فَلم يحجّ فَلَا عَلَيْهِ أَن يَمُوت يَهُودِيّا أَو نَصْرَانِيّا وَذَلِكَ أَن الله يَقُول {وَللَّه على النَّاس حج الْبَيْت من اسْتَطَاعَ إِلَيْهِ سَبِيلا} آل عمرَان 79

رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَالْبَيْهَقِيّ من رِوَايَة الْحَارِث عَن عَليّ وَقَالَ التِّرْمِذِيّ حَدِيث غَرِيب لَا نعرفه إِلَّا من هَذَا الْوَجْه

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে ঐসব লোকের জন্য কঠোর হুশিয়ারী রয়েছে, যারা হজ্ব করার শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব আদায় করে না। বলা হয়েছে যে, তাদের এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা আর ইয়াহুদী অথবা নাসারা হয়ে মৃত্যুবরণ করা যেন সমান। (নাউযুবিল্লাহ) এটা ঐ ধরনের হুশিয়ারীই, যেমন, নামায পরিত্যাগ করাকে কুফর ও শিরকের কাছাকাছি বিষয় বলা হয়েছে। কুরআন মজীদেও এরশাদ হয়েছে :

وَاَقِیۡمُوا الصَّلٰوۃَ وَلَا تَکُوۡنُوۡا مِنَ الۡمُشۡرِکِیۡن

অর্থাৎ, তোমরা নামায কায়েম কর এবং মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। এর দ্বারা বুঝা যায় যে, নামায ত্যাগ করা একটি মুশরিকসুলভ কাজ।

হজ্ব ফরয হওয়া সত্ত্বেও যারা হজ্ব করে না, তাদেরকে মুশরিকদের সাথে উপমা না দিয়ে ইয়াহুদী ও নাছারাদের সাথে উপমা দেওয়ার রহস্য এই যে, হজ্ব না করা ইয়াহুদী ও নাসারাদের বৈশিষ্ট্য ছিল। কেননা, আরবের মুশরিকরা হজ্ব করত, তবে তারা নামায পড়ত না। এ জন্য নামায ত্যাগ করাকে মুশরিকসুলভ কর্ম বলা হয়েছে।

এ হাদীসে শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ্ব করে না, তাদের জন্য যে হুশিয়ারী উচ্চারিত হয়েছে, এর জন্য সূরা আলে ইমরানের ঐ আয়াতের বরাত উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে হজ্ব ফরয হওয়ার বর্ণনা রয়েছে, অর্থাৎ وَلِلّٰہِ عَلَی النَّاسِ حِجُّ الۡبَیۡتِ مَنِ اسۡتَطَاعَ اِلَیۡہِ سَبِیۡلًا কিন্তু বুঝা যায় যে, বর্ণনাকারী বরাত হিসাবে কেবল আয়াতটির প্রথম অংশই উল্লেখ করেছেন। আসলে আয়াতের যে অংশ দ্বারা হুশিয়ারী বুঝা যায়, সেটা হচ্ছে সামনের অংশ অর্থাৎ وَمَنۡ کَفَرَ فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ যার অর্থ এই যে, এ নির্দেশের পর যে ব্যক্তি কাফের সুলভ নীতি অবলম্বন করবে এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও হজ্ব করবে না, তার ব্যাপারে আল্লাহর কোন পরওয়া নেই, তিনি সকল সৃষ্টিজগত থেকে অমুখাপেক্ষী। এতে শক্তি-সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যারা হজ্ব করে না, তাদের এ কর্মনীতিকে مَنۡ کَفَرَ শব্দ দ্বারা উল্লেখ করা হয়েছে এবং فَاِنَّ اللّٰہَ غَنِیٌّ عَنِ الۡعٰلَمِیۡنَ এর হুশিয়ারী শোনানো হয়েছে। এর মর্ম এটাই হল যে, এমন অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য মানুষ যা কিছুই করুক এবং যে অবস্থায়ই মারা যাক, এতে আল্লাহর কোন পরওয়া নেই।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:তাহকীক চলমান