আত্-তারগীব ওয়াত্-তারহীব- ইমাম মুনযিরী রহঃ
৪. অধ্যায়ঃ পবিত্রতা
হাদীস নং: ৩৫৯
অধ্যায়ঃ পবিত্রতা
উযু করার পর দুই রাক'আত সালাত আদায়ের প্রতি উৎসাহ দান
৩৫৯. হযরত উসমান ইবন আফ্ফান (রা)-এর ক্রীতদাস হযরত হুমরান (রা) থেকে বর্ণিত। সে দেখল যে, হযরত উসমান (রা) উযূর পানি চাইলেন। এরপর তিনি পাত্র থেকে হাতে পানি নিলেন এবং হাত দুটো তিনবার করে ধৌত করলেন। এরপর তিনি তাঁর ডান হাত পাত্রের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলেন এবং কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন এবং নাক ঝাড়লেন। এরপর তিনবার চেহারা ধৌত করলেন এবং তিনবার কনুই পর্যন্ত উভয় হাত ধৌত করলেন। পরে তিনি তাঁর মাথা মাসেহ করলেন এবং তারপর উভয় পা তিনবার ধুলেন। এরপর বললেনঃ আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে আমার এ উযূর ন্যায় উযূ করতে দেখেছি। তারপর তিনি বললেন: যে ব্যক্তি আমার ন্যায় উযূ করে দুই রাক'আত সালাত আদায় করবে এবং সে সময় তার মনে অন্য কোন কল্পনা থাকবে না, সে ব্যক্তির পূর্বের (সগীরা) গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হবে।
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।)
(বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে।)
كتاب الطَّهَارَة
التَّرْغِيب فِي رَكْعَتَيْنِ بعد الْوضُوء
359 - وَعَن حمْرَان مولى عُثْمَان بن عَفَّان رَضِي الله عَنهُ أَنه رأى عُثْمَان بن عَفَّان رَضِي
الله عَنهُ دَعَا بِوضُوء فأفرغ على يَدَيْهِ من إنائه فغسلهما ثَلَاث مَرَّات ثمَّ أَدخل يَمِينه فِي الْوضُوء ثمَّ تمضمض واستنشق واستنثر ثمَّ غسل وَجهه ثَلَاثًا وَيَديه إِلَى الْمرْفقين ثَلَاثًا ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ ثمَّ غسل رجلَيْهِ ثَلَاثًا ثمَّ قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يتَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا ثمَّ قَالَ من تَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا ثمَّ صلى رَكْعَتَيْنِ لَا يحدث فيهمَا نَفسه غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا
الله عَنهُ دَعَا بِوضُوء فأفرغ على يَدَيْهِ من إنائه فغسلهما ثَلَاث مَرَّات ثمَّ أَدخل يَمِينه فِي الْوضُوء ثمَّ تمضمض واستنشق واستنثر ثمَّ غسل وَجهه ثَلَاثًا وَيَديه إِلَى الْمرْفقين ثَلَاثًا ثمَّ مسح بِرَأْسِهِ ثمَّ غسل رجلَيْهِ ثَلَاثًا ثمَّ قَالَ رَأَيْت رَسُول الله صلى الله عَلَيْهِ وَسلم يتَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا ثمَّ قَالَ من تَوَضَّأ نَحْو وضوئي هَذَا ثمَّ صلى رَكْعَتَيْنِ لَا يحدث فيهمَا نَفسه غفر لَهُ مَا تقدم من ذَنبه
رَوَاهُ البُخَارِيّ وَمُسلم وَغَيرهمَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত উসমান (রা) আলোচ্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উযূর যে নিয়ম কার্যত দেখালেন তাই মূলতঃ উযূর উত্তম সুন্নাত নিয়ম। নবী কারীম ﷺ কয়বার কুলি, মুখ এবং পানি দ্বারা নাক পরিষ্কার করেছিলেন, এ হাদীসে তার উল্লেখ নেই। কিন্তু অপরাপর বর্ণনা দ্বারা তিনবারের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
এ হাদীসে একাগ্রতা ও বিনয় নম্রতার সাথে যে দু'রাক'আত সালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে তা নফল সালাত নাও হতে পারে। কাজেই বলা যায়, কেউ যদি মাসনূন পদ্ধতিতে উযূ করে ফরয কিংবা সুন্নাত সালাত আদায় করে এবং তাতে পূর্ণ একাগ্রতা থাকে সেও আল্লাহ্ চাহেত প্রতিশ্রুত মাগফিরাত লাভে ধন্য হবে।
হাদীস ভাষ্যকার ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের মতে, মনে যদি এদিক সেদিকের খেয়াল চেপে বসে তবে তাই হচ্ছে বিক্ষিপ্ত চিন্তা। কিন্তু যদি কোন খেয়াল অন্তরে বদ্ধমূল না হয় এবং তা দূরীকরণের চেষ্টা করা হয় তবে কোন ক্ষতি নেই। কারণ এসব বিষয় কামিল মু'মিনদের সামনেও ভেসে ওঠে।
এ হাদীসে একাগ্রতা ও বিনয় নম্রতার সাথে যে দু'রাক'আত সালাত আদায়ের কথা বলা হয়েছে তা নফল সালাত নাও হতে পারে। কাজেই বলা যায়, কেউ যদি মাসনূন পদ্ধতিতে উযূ করে ফরয কিংবা সুন্নাত সালাত আদায় করে এবং তাতে পূর্ণ একাগ্রতা থাকে সেও আল্লাহ্ চাহেত প্রতিশ্রুত মাগফিরাত লাভে ধন্য হবে।
হাদীস ভাষ্যকার ও আধ্যাত্মিক ব্যক্তিবর্গের মতে, মনে যদি এদিক সেদিকের খেয়াল চেপে বসে তবে তাই হচ্ছে বিক্ষিপ্ত চিন্তা। কিন্তু যদি কোন খেয়াল অন্তরে বদ্ধমূল না হয় এবং তা দূরীকরণের চেষ্টা করা হয় তবে কোন ক্ষতি নেই। কারণ এসব বিষয় কামিল মু'মিনদের সামনেও ভেসে ওঠে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: