কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৫. হজ্ব আদায়ের নিয়মাবলীর বিবরণ
হাদীস নং: ১৭৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৭৬৫
হজ্ব আদায়ের নিয়মাবলীর বিবরণ
১৭. কুরবানীর পশু গণ্তব্যে (মক্কা) পৌঁছার পূর্বেই অবসন্ন হয়ে পড়লে।
১৭৬৫. ইবরাহীম ইবনে মুসা (রাহঃ) ..... আব্দুল্লাহ্ ইবনে কুরত (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নবী করীম (ﷺ) বলেন, দিনগুলোর মধ্যে আল্লাহর নিকট সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হল, নাহরের (কুরবানীর) দিন। এরপর এর পরবর্তী দিন (কুরবানীর দ্বিতীয় দিন)। রাবী বলেন, ঐ দিন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর নিকট পাঁচটি বা ছয়টি (রাবীর সন্দেহ) কুরবানীর উট পেশ করা হয়। প্রতিটি উট তাঁর সামনে আসতে থাকে যে, তিনি কোনটি আগে কুরবানী করবেন (এটা মহানবী (ﷺ) এর একটি মু‘জিযা যে, পশুরাও তাঁর অনুগত হয়ে তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ করে।) এরপর এগুলো যখন পার্শ্বের উপর (নাহরের পর) পড়ে যায় তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অস্পষ্ট স্বরে এমন কিছু বলেন যা আমি বুঝতে পারিনি। জিজ্ঞাসা করলে জানতে পারি যে, তিনি বলেছেন, কেউ (খাওয়ার জন্য) চাইলে এর গোশত কেটে নিতে পারে।
كتاب المناسك
باب فِي الْهَدْىِ إِذَا عَطِبَ قَبْلَ أَنْ يَبْلُغَ
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ مُوسَى الرَّازِيُّ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، ح وَحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، أَخْبَرَنَا عِيسَى، - وَهَذَا لَفْظُ إِبْرَاهِيمَ - عَنْ ثَوْرٍ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ لُحَىٍّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُرْطٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِنَّ أَعْظَمَ الأَيَّامِ عِنْدَ اللَّهِ تَبَارَكَ وَتَعَالَى يَوْمُ النَّحْرِ ثُمَّ يَوْمُ الْقَرِّ " . قَالَ عِيسَى قَالَ ثَوْرٌ وَهُوَ الْيَوْمُ الثَّانِي . قَالَ وَقُرِّبَ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَدَنَاتٌ خَمْسٌ أَوْ سِتٌّ فَطَفِقْنَ يَزْدَلِفْنَ إِلَيْهِ بِأَيَّتِهِنَّ يَبْدَأُ فَلَمَّا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا - قَالَ فَتَكَلَّمَ بِكَلِمَةٍ خَفِيَّةٍ لَمْ أَفْهَمْهَا فَقُلْتُ مَا قَالَ - قَالَ " مَنْ شَاءَ اقْتَطَعَ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আল্লাহ্ তা'আলার এ কুদরত ও শক্তি রয়েছে যে, তিনি পশুদের মধ্যে এমনকি মাটি, পাথর ইত্যাদি প্রাণহীন বস্তুর মধ্যেও বাস্তবতার অনুভূতি সৃষ্টি করে দিতে পারেন। এই যে, ৫/৬টি উট, যেগুলো কুরবানীর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর খেদমতে নিয়ে আসা হয়েছিল, এগুলোর মধ্যে আল্লাহ তা'আলা ঐ সময় এ অনুভূতি ও জ্ঞান পয়দা করে দিয়েছিলেন যে, আল্লাহর রাহে এবং তাঁর প্রিয়তম রাসূল মুহাম্মদ (ﷺ)-এর হাতে তাদের কুরবানী হওয়া কত বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার। এ জন্য এগুলোর মধ্য থেকে প্রত্যেকটিই এ আকাঙ্ক্ষা নিয়ে হুযুর (ﷺ)-এর কাছে এসে ঘেঁষতে লাগল যে, প্রথমে যেন আমাকেই যাবাহ করা হয়।
কবির ভাষায়:
ہمہ آہوانِ صحرا سرِ خود نہادہ بر کف بہ اُمید آنکہ روزے بہ شکار خواہی آمد
মরুর হরিণগুলো নিজের মস্তক হাতের মুঠোয় করে এ আশায় দাঁড়িয়ে আছে যে, একদিন আমার প্রিয়তম আমাকে শিকার করতে আসবে।
কবির ভাষায়:
ہمہ آہوانِ صحرا سرِ خود نہادہ بر کف بہ اُمید آنکہ روزے بہ شکار خواہی آمد
মরুর হরিণগুলো নিজের মস্তক হাতের মুঠোয় করে এ আশায় দাঁড়িয়ে আছে যে, একদিন আমার প্রিয়তম আমাকে শিকার করতে আসবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)