কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
৩. যাকাতের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৫৬৪
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬৪
যাকাতের অধ্যায়
৩. গচ্ছিত ধনের এবং অলংকারের যাকাত।
১৫৬৪. মুহাম্মাদ ইবনে ঈসা (রাহঃ) ...... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি স্বর্ণালংকার ব্যবহার করতাম। একদা আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার এই অলংকার “কানয” হিসেবে গণ্য হবে কী? তিনি বলেনঃ যে মালের পরিমাণ এতটা হবে যার উপর যাকাত ধার্য হয়, তার যাকাত দিতে হবে, তা (ভূগর্ভে) গচ্ছিত ধন নয়।*
*জমীনের অভ্যন্তরে প্রোথিত সম্পদকে ‘কান্য’ বলে। তা সাধারণ সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে গণ্য।
*জমীনের অভ্যন্তরে প্রোথিত সম্পদকে ‘কান্য’ বলে। তা সাধারণ সঞ্চিত সম্পদ হিসেবে গণ্য।
كتاب الزكاة
باب الْكَنْزِ مَا هُوَ وَزَكَاةِ الْحُلِيِّ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عِيسَى، حَدَّثَنَا عَتَّابٌ، - يَعْنِي ابْنَ بَشِيرٍ - عَنْ ثَابِتِ بْنِ عَجْلاَنَ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَلْبَسُ أَوْضَاحًا مِنْ ذَهَبٍ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَكَنْزٌ هُوَ فَقَالَ " مَا بَلَغَ أَنْ تُؤَدَّى زَكَاتُهُ فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
১. হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস রাযি. থেকে বর্ণিত, এক মহিলা তার এক মেয়েকে নিয়ে নবী করীম (ﷺ) এর দরবারে আসল। তার মেয়েটির হাতে দু'টি মোটা ও ভারী চুড়ি ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জিজ্ঞাসা করলেন: তুমি কি এর যাকাত আদায় কর? উত্তরে সে বলল, না। তিনি তখন বললেন: তোমার কি এটা ভাল লাগবে যে, এ দু'টির (যাকাত আদায় না করার) কারণে আল্লাহ্ তা'আলা কিয়ামতের দিন তোমাকে আগুনের দু'টি চুড়ি পরিয়ে দেন? এ কথা শুনে সে চুড়ি দু'টি খুলে ফেলল এবং নবী করীম (ﷺ) এর সামনে রেখে দিয়ে বলল, এগুলো এখন আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। -আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ্
২. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সোনার আওযাহ (এক বিশেষ ধরনের বালা) পরতাম। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এটা কি কানযের অন্তর্ভুক্ত? (যার উপর জাহান্নামের আযাবের ধমকি এসেছে।) তিনি উত্তর দিলেন: যে মাল যাকাতের নেসাব পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর এর যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, এটা কানয (অন্যায় সঞ্চয় নয়।) -মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ
এসব হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন যে, সোনা-রূপার অলংকার যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তবে ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-এর নিকট অলংকারাদিতে যাকাত কেবল তখনই ফরয- যখন এগুলো ব্যবসার জন্য রাখা হয় অথবা মালকে সংরক্ষণ করার জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু যেসব অলংকার কেবল ব্যবহার ও সাজ-সজ্জার জন্য থাকে, এ তিন ইমামের মতে এগুলোর উপর যাকাত নেই।
এ মাসআলাটিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। তবে হাদীস দ্বারা ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতের সপক্ষেই বেশী সমর্থন পাওয়া যায়। এ জন্যই শাফেয়ী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমগণও এ মাসআলায় হানাফী মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন, তফসীরে কবীরে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) এ নীতিই অবলম্বন করেছেন এবং লিখেছেন যে, প্রকাশ্য দলীলসমূহ এ মতকেই অধিক শক্তি যোগায়।
২. হযরত উম্মে সালামা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি সোনার আওযাহ (এক বিশেষ ধরনের বালা) পরতাম। তাই আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ। এটা কি কানযের অন্তর্ভুক্ত? (যার উপর জাহান্নামের আযাবের ধমকি এসেছে।) তিনি উত্তর দিলেন: যে মাল যাকাতের নেসাব পর্যন্ত পৌঁছে যায়, আর এর যাকাত আদায় করে দেওয়া হয়, এটা কানয (অন্যায় সঞ্চয় নয়।) -মুয়াত্তা মালেক, আবু দাউদ
এসব হাদীসের ভিত্তিতেই ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) বলেন যে, সোনা-রূপার অলংকার যদি নেসাব পরিমাণ হয়, তাহলে এগুলোর যাকাত দিতে হবে। তবে ইমাম মালেক, শাফেয়ী ও আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ)-এর নিকট অলংকারাদিতে যাকাত কেবল তখনই ফরয- যখন এগুলো ব্যবসার জন্য রাখা হয় অথবা মালকে সংরক্ষণ করার জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে। কিন্তু যেসব অলংকার কেবল ব্যবহার ও সাজ-সজ্জার জন্য থাকে, এ তিন ইমামের মতে এগুলোর উপর যাকাত নেই।
এ মাসআলাটিতে সাহাবায়ে কেরামের মধ্যেও মতবিরোধ ছিল। তবে হাদীস দ্বারা ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতের সপক্ষেই বেশী সমর্থন পাওয়া যায়। এ জন্যই শাফেয়ী মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমগণও এ মাসআলায় হানাফী মতকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যেমন, তফসীরে কবীরে ইমাম ফখরুদ্দীন রাযী (রহঃ) এ নীতিই অবলম্বন করেছেন এবং লিখেছেন যে, প্রকাশ্য দলীলসমূহ এ মতকেই অধিক শক্তি যোগায়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)