কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫০৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৫০৩
নামাযের অধ্যায়
৩৬৫. কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠের হিসাব রাখা।
১৫০৩. দাউদ ইবনে উমাইয়া (রাহঃ) .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহে ওয়াসাল্লাম জুওয়ায়রিয়া (রাযিঃ) এর ঘর হতে (সকালে) বের হন এবং তার পূর্বের নাম ছিল বাররা। নবী করীম (ﷺ) তার নাম পরিবর্তন করে জুওয়ায়রিয়া রাখেন। তিনি তার ঘর হতে বের হওয়ার সময়ও তাঁকে জায়নামাযের উপর দেখেন এবং ফিরে এসেও তাঁকে ঐ অবস্থায় দেখতে পান। তিনি তাঁকে জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এতক্ষণ এই জায়নামাযের উপরেই ছিলে? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ।

নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ তোমার এখান থেকে যাওয়ার পর আমি চারটি কলেমা তিনবার করে পড়েছি। তার ওজন করা হলে তোমার পঠিত যিক্‌রের তুলনায় তাদের ওজন বেশী হবে। তার একটি হল “সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি”, এটা আল্লাহর সৃষ্ট সমস্ত মখলুকের সম-সংখ্যক। তা পাঠের ফলে আল্লাহ রাযী হন, তার ওজন পবিত্র আরশের সমান এবং তাঁর (আল্লাহর) সমস্ত বাক্যের সম-সংখ্যক।
كتاب الصلاة
باب التَّسْبِيحِ بِالْحَصَى
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أُمَيَّةَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، مَوْلَى أَبِي طَلْحَةَ عَنْ كُرَيْبٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عِنْدِ جُوَيْرِيَةَ - وَكَانَ اسْمُهَا بَرَّةَ فَحَوَّلَ اسْمَهَا - فَخَرَجَ وَهِيَ فِي مُصَلاَّهَا وَرَجَعَ وَهِيَ فِي مُصَلاَّهَا فَقَالَ " لَمْ تَزَالِي فِي مُصَلاَّكِ هَذَا " . قَالَتْ نَعَمْ . قَالَ " قَدْ قُلْتُ بَعْدَكِ أَرْبَعَ كَلِمَاتٍ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ لَوْ وُزِنَتْ بِمَا قُلْتِ لَوَزَنَتْهُنَّ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ عَدَدَ خَلْقِهِ وَرِضَا نَفْسِهِ وَزِنَةَ عَرْشِهِ وَمِدَادَ كَلِمَاتِهِ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল যে, অধিক যিকির এর দ্বারা যেমন অধিক ছওয়াব হাসিল করা যায়, তেমনি তার একটি সহজ তরীকা বা পন্থা হলো তার সাথে এমন শব্দসমূহ জুড়ে দেয়া, যার দ্বারা সংখ্যার আধিক্য বুঝায়। যেমনটা উপরোক্ত হাদীসে রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন।

এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত জুয়ায়রিয়া (রা)-এর বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।

হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)