কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১৫০০
আন্তর্জাতিক নং: ১৫০০
নামাযের অধ্যায়
৩৬৫. কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠের হিসাব রাখা।
১৫০০. আহমাদ ইবনে সালেহ (রাহঃ) ..... আয়িশা বিনতে সা’দ, তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ একদা তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে জনৈক মহিলার নিকট গমন করে তার সম্মুখে কিছু দানা অথবা পাথরের টুকরা দেখতে পান, যা দ্বারা তিনি তাসবীহ পাঠে রত ছিলেন। এতদ্দর্শনে তিনি (ﷺ) বলেনঃ আমি তোমাকে এর চেয়ে সহজ পন্থা শিক্ষা দিব।

নবী করীম (ﷺ) বলেনঃ সুবহানাল্লাহ শব্দটি আসমানের যাবতীয় সৃষ্টিবস্তুর সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ যমীনে সৃষ্টি যাবতীয় সৃষ্টির সম-সংখ্যক এবং সুবহানাল্লাহ শব্দটি এতদুভয়ের মধ্যে সৃষ্টি সমস্ত বস্তুর সম-সংখ্যক। সুবহানাল্লাহ শব্দটি ভবিষ্যতে যা কিছু সৃষ্টি হবে, তার সমসংখ্যক এবং “আল্লাহু আকবার” ও “আল-হামদুলিল্লাহ’ও তার (সুবাহানাল্লাহর) অনুরূপ। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ”ও তার অনুরূপ এবং 'লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’ও তার অনুরূপ।
كتاب الصلاة
باب التَّسْبِيحِ بِالْحَصَى
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلاَلٍ، حَدَّثَهُ عَنْ خُزَيْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ فَقَالَ " أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ " . فَقَالَ " سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الأَرْضِ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلُ ذَلِكَ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ . وَلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ مِثْلُ ذَلِكَ . وَلاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ مِثْلُ ذَلِكَ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসের দ্বারা জানা গেল যে, অধিক যিকির এর দ্বারা যেমন অধিক ছওয়াব হাসিল করা যায়, তেমনি তার একটি সহজ তরীকা বা পন্থা হলো তার সাথে এমন শব্দসমূহ জুড়ে দেয়া, যার দ্বারা সংখ্যার আধিক্য বুঝায়। যেমনটা উপরোক্ত হাদীসে রাসূল ﷺ শিক্ষা দিয়েছেন।

এখানে একথা লক্ষ্যণীয় যে, কোন কোন হাদীসে স্বয়ং নবী করীম ﷺ বহুলভাবে যিকির করার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। এজন্যে হযরত সা'দ ইব্‌ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত এ হাদীস দ্বারা যিকিরের আধিক্যের ব্যাপারে তা নিষিদ্ধ হওয়া বা অপসন্দনীয় হওয়া বুঝে নেওয়া মোটেই ঠিক হবে না। উক্ত হাদীসের মর্ম হচ্ছে, যিকিরের দ্বারা অধিক ছওয়াব লাভের একটি সহজতর তরীকা হচ্ছে এটাও, বিশেষত যারা অধিক ব্যস্ততার কারণে আল্লাহর যিকিরের জন্যে বেশি সময় ব্যয় করতে পারেন না, তারা এ পদ্ধতিতেও অনেক ছওয়াব হাসিল করে নিতে পারেন।

হযরত শাহ্ ওলী উল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র) এ ব্যাপারে বলেন, যে ব্যক্তি তাঁর বাতিনকে এবং তার জীবনকে যিকিরের রঙে অনুরঞ্জিত করতে আগ্রহী, বহুল পরিমাণে যিকির করা তার জন্যে অপরিহার্য। আর যিকির এর দ্বারা কেবল পারলৌকিক ছওয়াব হাসিল করাই যার উদ্দিষ্ট, তার উচিত এমন সব কালিমা যিকিরের জন্যে বেছে নেয়া, যা অর্থগত দিক থেকে উন্নততর ও প্রশস্ততর যেমনটি উপরোক্ত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে।

হযরত সা'দ ইব্‌ন আবূ ওক্কাসের বর্ণিত হাদীসের দ্বারা একথাও জানা গেল যে, নবী করীম ﷺ-এর যুগে তসবীহ ব্যবহারের রেওয়াজ ছিল না ঠিক, তবে এ উদ্দেশ্যে কেউ কেউ খেজুর বীচি বা পাথর কণা ইত্যাদি ব্যবহার করেছেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ তাঁদেরকে তা করতে বারণ করেননি। বলাবাহুল্য, তাসবীহ এবং এ পন্থার মধ্যে কোনই প্রভেদ নেই। বরং তাসবীহ তারই উন্নততর সংস্করণ। যারা তাসবীহকে বেদ'আত বলে অভিহিত করেছেন, তাঁরা আসলে অহেতুক বাড়াবাড়ি করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)