কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ১৪৫২
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৫২
নামাযের অধ্যায়
৩৫৫. কুরআন তিলাওয়াতের সাওয়াব সম্পর্কে।
১৪৫২. হাফস ইবনে উমর (রাহঃ) ...... উছমান (রাযিঃ) নবী করীম (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেনঃ তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই উত্তম যে নিজে কুরআন পাঠ করে এবং তা অন্যকে শিক্ষাদান করে।
كتاب الصلاة
باب فِي ثَوَابِ قِرَاءَةِ الْقُرْآنِ
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عُثْمَانَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْآنَ وَعَلَّمَهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ হাদীছটিতে মুমিনদের মধ্যে যারা নিজেরা কুরআন শেখে ও অন্যদেরকে শেখায়, তাদেরকে সকলের শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। হাদীছটি সহীহ। তার মানে এটা নিশ্চিতভাবেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথা। সুতরাং কতইনা সৌভাগ্যবান তারা, যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা কুরআন শিক্ষা করার ও অন্যদেরকে শিক্ষা দেওয়ার তাওফীক দিয়েছেন। কেননা হাদীছটির ঘোষণা অনুযায়ী তারা উম্মতের শ্রেষ্ঠতম লোক।
উল্লেখ্য, কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক। এর মধ্যে কুরআনের পাঠ শেখা ও শেখানো, আয়াতের অর্থ শেখা ও শেখানো, এর ব্যাখ্যা ও মর্মবাণী শেখা ও শেখানো সবই রয়েছে। কুরআনের পাঠ শেখা ও শেখানো হলো কুরআন শিক্ষার প্রথম স্তর। এটা বুনিয়াদ। এর চূড়ান্ত স্তর হলো ব্যাখ্যা ও মর্মবাণী শেখা ও শেখানো। এটাই কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য। পাঠ শিক্ষা হলো এ মূল উদ্দেশ্য অর্জনের উপায় বা অসিলা। উদ্দেশ্য যেহেতু অতি মহৎ, তাই পাঠ শিক্ষারও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। সে কারণেই এর প্রত্যেক হরফ পড়ার দ্বারা একেকটি করে নেকী পাওয়া যায়, যা দশ গুণে বৃদ্ধি করা হয়। কুরআন শিক্ষার প্রতিটি ধাপই শ্রেষ্ঠ কাজ। তবে কুরআনের বার্তা ও মর্মবাণী যেহেতু মূল লক্ষ্যবস্তু, তাই তার শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদান হবে শ্রেষ্ঠতম কাজ। যারা এ কাজে মশগুল থাকে, তারা শ্রেষ্ঠদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ।
বলাবাহুল্য, তারা শ্রেষ্ঠ হবে কেবল তখনই, যখন তাদের এ আমল কেবল আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্যই হবে। কেননা সহীহ নিয়ত ছাড়া কোনও সৎকর্মই আল্লাহ তা'আলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং হাদীছে সতর্ক করা হয়েছে যে-
وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأْتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا ، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِي، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ.
এবং ওই ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে ইলম শিখেছে, অন্যকে তা শিখিয়েছে এবং কুরআন পড়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাকে নিজ নি'আমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। তার তা মনে পড়বে। আল্লাহ বলবেন, তুমি এ ক্ষেত্রে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি ইলম শিখেছি, অন্যকে শিখিয়েছি ও তোমার উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তো ইলম শিখেছিলে এজন্য যে, তোমাকে আলেম বলা হবে। আর কুরআন শিখেছিলে এই উদ্দেশ্যে যে, তোমাকে কারী বলা হবে। তা বলা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর আদেশে তাকে উলটোমুখে টেনে-হ্যাঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহীহ মুসলিম: ১৯০৫; সুনানে নাসাঈ ৩১৩৭; মুসনাদে আহমাদ: ৮২৫৯; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২৫২৪; মুসনাদে ইসহাক ইবন রাহুয়াহ : ৩০৯)
কুরআন নাযিলের প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু জীবনগঠন। অর্থাৎ মানুষ কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়বে। কাজেই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করার জন্য আমল করা শর্ত। যারা কুরআনের পঠন-পাঠনে মশগুল থাকে, কিন্তু কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার চেষ্টা করে না. তারা কিছুতেই উম্মতের শ্রেষ্ঠ লোক বলে গণ্য হতে পারে না।
যেসকল ইহুদী আলেম তাওরাত গ্রন্থ পড়ত, কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করত না, তাদের সম্পর্কে কী কঠোর নিন্দাবাক্যই না কুরআন মাজীদে উচ্চারিত হয়েছে! আল্লাহ তা'আলা বলেন-
مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا
যাদের উপর তাওরাতের ভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা সে ভার বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হলো গাধা, যে বহু কিতাব বয়ে রেখেছে। (সূরা জুমু'আ, আয়াত ৫)
মোটকথা, আমলের চেষ্টা ও সহীহ নিয়তের শর্তে কুরআন মাজীদ নিজে শেখা ও অন্যকে শেখানো সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। এ কাজ যারা করে, তারা শ্রেষ্ঠতম মানুষ। এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া সনদ। এর দাবি হলো তাঁর উম্মত কুরআনের শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। আর যারা এ মহান কাজে মশগুল থাকে, অন্যরা তাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখবে। হযরত উছমান রাযি. এ হাদীছটির একজন শ্রেষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তিনি ছিলেন কুরআনের হাফেজ ও সংকলক। তিনি মুসলিম জাহানের সর্বত্র কুরআন শিক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। নিজে তিলাওয়াতও করতেন অনেক বেশি। তিনি প্রতিদিন সম্পূর্ণ কুরআন একবার পড়তেন। আবূ আব্দুর রহমান সুলামী কূফার মসজিদে দীর্ঘ ৪০ বছর কুরআন শিক্ষাদানের কাজে মশগুল থেকেছেন। তিনি বলতেন, এ হাদীছটিই আমাকে আমার এ স্থানে বসিয়েছে। অর্থাৎ হাদীছটিতে বর্ণিত ফযীলত অর্জনের লক্ষ্যেই আমি এখানে বসে মানুষকে কুরআন শেখাচ্ছি। প্রসিদ্ধ সাত কিরাআতের ইমাম নাফে' ইবন আব্দুর রহমান মাদানী রহ. ৭০ বছরেরও অধিক কাল কুরআন শেখানোর কাজে নিবেদিত থেকেছেন। ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাসে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ সর্বদাই এ কাজকে মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং নিজেরা অতীব গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজে সময় দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকেও এর তাওফীক দান করুন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য গভীর আগ্রহের সঙ্গে নিজে কুরআন শেখা এবং সাধ্যমতো অন্যকে শেখানো।
খ. যারা নিজেরা কুরআন শেখে, অতঃপর অন্যদেরকে শেখানোর কাজে মশগুল থাকে, তাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
গ. মানুষ যাতে আগ্রহের সঙ্গে কুরআনের পঠন-পাঠনের কাজ গ্রহণ করে, সেজন্য তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া উচিত এবং উৎসাহব্যঞ্জক এ হাদীছটি খুব বেশি প্রচার করা উচিত।
উল্লেখ্য, কুরআন শিক্ষা করা ও শিক্ষা দেওয়া কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক। এর মধ্যে কুরআনের পাঠ শেখা ও শেখানো, আয়াতের অর্থ শেখা ও শেখানো, এর ব্যাখ্যা ও মর্মবাণী শেখা ও শেখানো সবই রয়েছে। কুরআনের পাঠ শেখা ও শেখানো হলো কুরআন শিক্ষার প্রথম স্তর। এটা বুনিয়াদ। এর চূড়ান্ত স্তর হলো ব্যাখ্যা ও মর্মবাণী শেখা ও শেখানো। এটাই কুরআন নাযিলের মূল উদ্দেশ্য। পাঠ শিক্ষা হলো এ মূল উদ্দেশ্য অর্জনের উপায় বা অসিলা। উদ্দেশ্য যেহেতু অতি মহৎ, তাই পাঠ শিক্ষারও যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। সে কারণেই এর প্রত্যেক হরফ পড়ার দ্বারা একেকটি করে নেকী পাওয়া যায়, যা দশ গুণে বৃদ্ধি করা হয়। কুরআন শিক্ষার প্রতিটি ধাপই শ্রেষ্ঠ কাজ। তবে কুরআনের বার্তা ও মর্মবাণী যেহেতু মূল লক্ষ্যবস্তু, তাই তার শিক্ষাগ্রহণ ও শিক্ষাদান হবে শ্রেষ্ঠতম কাজ। যারা এ কাজে মশগুল থাকে, তারা শ্রেষ্ঠদের মধ্যেও সর্বশ্রেষ্ঠ।
বলাবাহুল্য, তারা শ্রেষ্ঠ হবে কেবল তখনই, যখন তাদের এ আমল কেবল আল্লাহ তা'আলাকে খুশি করার জন্যই হবে। কেননা সহীহ নিয়ত ছাড়া কোনও সৎকর্মই আল্লাহ তা'আলার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং হাদীছে সতর্ক করা হয়েছে যে-
وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ، فَأْتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا ، قَالَ: فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا؟ قَالَ: تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ ، وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ، قَالَ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ: عَالِمٌ ، وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ: هُوَ قَارِي، فَقَدْ قِيلَ، ثُمَّ أَمَرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ.
এবং ওই ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে ইলম শিখেছে, অন্যকে তা শিখিয়েছে এবং কুরআন পড়েছে। আল্লাহ তা'আলা তাকে নিজ নি'আমতসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দেবেন। তার তা মনে পড়বে। আল্লাহ বলবেন, তুমি এ ক্ষেত্রে কী আমল করেছ? সে বলবে, আমি ইলম শিখেছি, অন্যকে শিখিয়েছি ও তোমার উদ্দেশ্যে কুরআন পড়েছি। আল্লাহ বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছ। তুমি তো ইলম শিখেছিলে এজন্য যে, তোমাকে আলেম বলা হবে। আর কুরআন শিখেছিলে এই উদ্দেশ্যে যে, তোমাকে কারী বলা হবে। তা বলা হয়েছে। অতঃপর আল্লাহর আদেশে তাকে উলটোমুখে টেনে-হ্যাঁচড়ে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সহীহ মুসলিম: ১৯০৫; সুনানে নাসাঈ ৩১৩৭; মুসনাদে আহমাদ: ৮২৫৯; হাকিম, আল মুসতাদরাক: ২৫২৪; মুসনাদে ইসহাক ইবন রাহুয়াহ : ৩০৯)
কুরআন নাযিলের প্রকৃত লক্ষ্যবস্তু জীবনগঠন। অর্থাৎ মানুষ কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়বে। কাজেই শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা লাভ করার জন্য আমল করা শর্ত। যারা কুরআনের পঠন-পাঠনে মশগুল থাকে, কিন্তু কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন গড়ার চেষ্টা করে না. তারা কিছুতেই উম্মতের শ্রেষ্ঠ লোক বলে গণ্য হতে পারে না।
যেসকল ইহুদী আলেম তাওরাত গ্রন্থ পড়ত, কিন্তু সে অনুযায়ী আমল করত না, তাদের সম্পর্কে কী কঠোর নিন্দাবাক্যই না কুরআন মাজীদে উচ্চারিত হয়েছে! আল্লাহ তা'আলা বলেন-
مَثَلُ الَّذِينَ حُمِّلُوا التَّوْرَاةَ ثُمَّ لَمْ يَحْمِلُوهَا كَمَثَلِ الْحِمَارِ يَحْمِلُ أَسْفَارًا
যাদের উপর তাওরাতের ভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা সে ভার বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হলো গাধা, যে বহু কিতাব বয়ে রেখেছে। (সূরা জুমু'আ, আয়াত ৫)
মোটকথা, আমলের চেষ্টা ও সহীহ নিয়তের শর্তে কুরআন মাজীদ নিজে শেখা ও অন্যকে শেখানো সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ। এ কাজ যারা করে, তারা শ্রেষ্ঠতম মানুষ। এটা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেওয়া সনদ। এর দাবি হলো তাঁর উম্মত কুরআনের শিক্ষাদান ও শিক্ষাগ্রহণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। আর যারা এ মহান কাজে মশগুল থাকে, অন্যরা তাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখবে। হযরত উছমান রাযি. এ হাদীছটির একজন শ্রেষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। তিনি ছিলেন কুরআনের হাফেজ ও সংকলক। তিনি মুসলিম জাহানের সর্বত্র কুরআন শিক্ষার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। নিজে তিলাওয়াতও করতেন অনেক বেশি। তিনি প্রতিদিন সম্পূর্ণ কুরআন একবার পড়তেন। আবূ আব্দুর রহমান সুলামী কূফার মসজিদে দীর্ঘ ৪০ বছর কুরআন শিক্ষাদানের কাজে মশগুল থেকেছেন। তিনি বলতেন, এ হাদীছটিই আমাকে আমার এ স্থানে বসিয়েছে। অর্থাৎ হাদীছটিতে বর্ণিত ফযীলত অর্জনের লক্ষ্যেই আমি এখানে বসে মানুষকে কুরআন শেখাচ্ছি। প্রসিদ্ধ সাত কিরাআতের ইমাম নাফে' ইবন আব্দুর রহমান মাদানী রহ. ৭০ বছরেরও অধিক কাল কুরআন শেখানোর কাজে নিবেদিত থেকেছেন। ইসলামের দীর্ঘ ইতিহাসে উম্মতের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিবর্গ সর্বদাই এ কাজকে মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখেছেন এবং নিজেরা অতীব গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজে সময় দিয়েছেন। আল্লাহ তা'আলা আমাদেরকেও এর তাওফীক দান করুন।
হাদীস থেকে শিক্ষণীয়ঃ
ক. প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য গভীর আগ্রহের সঙ্গে নিজে কুরআন শেখা এবং সাধ্যমতো অন্যকে শেখানো।
খ. যারা নিজেরা কুরআন শেখে, অতঃপর অন্যদেরকে শেখানোর কাজে মশগুল থাকে, তাদেরকে সর্বোচ্চ মর্যাদার দৃষ্টিতে দেখা উচিত।
গ. মানুষ যাতে আগ্রহের সঙ্গে কুরআনের পঠন-পাঠনের কাজ গ্রহণ করে, সেজন্য তাদেরকে উৎসাহ দেওয়া উচিত এবং উৎসাহব্যঞ্জক এ হাদীছটি খুব বেশি প্রচার করা উচিত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ রিয়াযুস সালিহীন (অনুবাদ- মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম হাফি.)
বর্ণনাকারী: