কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ
২. নামাযের অধ্যায়
হাদীস নং: ৭৮১
আন্তর্জাতিক নং: ৭৮১
নামাযের অধ্যায়
১২৯. নামাযের প্রারম্ভে চুপ থাকার বর্ণনা।
৭৮১. আহমদ ইবনে আবু গুআয়ব ..... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কিছুক্ষণ চুপ থাকতেন। তিনি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মাতাপিতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক, আপনি তাকবীরে তাহরীমা ও কিরাআত পাঠের পূর্বে কেন চুপ থাকেন- তা আমাকে অবহিত করুন।
তিনি বলেন, (তখন আমি) চুপে চুপে এই দুআ পাঠ করিঃ আল্লাহুম্মা বায়েদ বায়নী ওয়া বায়না খাতায়ায়া কামা বায়েদতা বায়নাল-মাশরিকে ওয়াল মাগরিবে আল্লাহুম্মা আনকেনী মিন খাতায়ায়া কাছ-ছাওবিল আবয়াদি মিনাদ-দানাসে আল্লাহুম্মা আগসিলনী বিছ-ছালজে ওয়াল-মায়ে ওয়াল-বারদি”।
তিনি বলেন, (তখন আমি) চুপে চুপে এই দুআ পাঠ করিঃ আল্লাহুম্মা বায়েদ বায়নী ওয়া বায়না খাতায়ায়া কামা বায়েদতা বায়নাল-মাশরিকে ওয়াল মাগরিবে আল্লাহুম্মা আনকেনী মিন খাতায়ায়া কাছ-ছাওবিল আবয়াদি মিনাদ-দানাসে আল্লাহুম্মা আগসিলনী বিছ-ছালজে ওয়াল-মায়ে ওয়াল-বারদি”।
كتاب الصلاة
باب السَّكْتَةِ عِنْدَ الاِفْتِتَاحِ
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ أَبِي شُعَيْبٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، عَنْ عُمَارَةَ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، عَنْ عُمَارَةَ، - الْمَعْنَى - عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا كَبَّرَ فِي الصَّلاَةِ سَكَتَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ فَقُلْتُ لَهُ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي أَرَأَيْتَ سُكُوتَكَ بَيْنَ التَّكْبِيرِ وَالْقِرَاءَةِ أَخْبِرْنِي مَا تَقُولُ . قَالَ " اللَّهُمَّ بَاعِدْ بَيْنِي وَبَيْنَ خَطَايَاىَ كَمَا بَاعَدْتَ بَيْنَ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ اللَّهُمَّ أَنْقِنِي مِنْ خَطَايَاىَ كَالثَّوْبِ الأَبْيَضِ مِنَ الدَّنَسِ اللَّهُمَّ اغْسِلْنِي بِالثَّلْجِ وَالْمَاءِ وَالْبَرَدِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ যদিও যাবতীয় পাপাচার ও অশ্লীলতা থেকে পূতঃ পবিত্র ছিলেন। তথাপি আল্লাহর পরম নৈকট্য লাভের পরম আগ্রহ এবং মানবিক বিচ্যুতি ও পদস্খলন থেকে সর্বতোভাবে সংরক্ষিত থাকার লক্ষ্যে যাতে উত্তম মর্যাদার পরিপন্থী কিছু সংঘটিত না হয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টির কারণ না ঘটে সে জন্য সদা সতর্ক থাকতেন। তাই তো বলা হয় قريبا را بیش بود حیرانی এবং جن کے رتبے ہیں سوا ان کو سوا مشکل ہے মর্যাদা যত বেশী, তার পেরেশানী তত বেশী। মোটকথা রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর বিভিন্ন দু'আয় যে خطايا অথবা ذنوب শব্দ এসেছে তার দ্বারা উদ্দেশ্য এরূপ মানবিক পদস্খলন ও বিচ্যুতি। আল্লাহ্ তা'আলা সর্বজ্ঞ।
আলোচ্য হাদীসে যে দু'আ উল্লিখিত হয়েছে তার মূলকথা হচ্ছে এই যে, হে আল্লাহ্! প্রথমত তুমি আমাকে পাপাচার থেকে এই পরিমাণ দূরে রাখ যতদূর ব্যবধান রয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিমের এবং পশ্চিম থেকে পূর্বের। মানবিক দুর্বলতা বশতঃ যদি আমার হতে কোন প্রকার ত্রুটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে, তবে তুমি তা ক্ষমা করে দিয়ে তার দাগ এ ভাবে দূর করে দাও যেভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করে ধবধবে সাদা করা হয়। আর নিজ রহমতের শীতল পানি দ্বারা আমার অভ্যন্তর ভাগ ধুয়ে দাও যাতে ত্রুটি-বিচ্যুতির ফলে সৃষ্ট তোমার ক্রোধের আগুন শীতল হয়ে যায় এবং তার স্থলে আমার অন্তরে তোমার সন্তুষ্টির শীতলতা ও প্রশান্তি নসীব হয়।
এই হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকবীরে তাহরীমা ও কিরা'আত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কখনো কখনো এই দু'আ পাঠ করতেন।
আলোচ্য হাদীসে যে দু'আ উল্লিখিত হয়েছে তার মূলকথা হচ্ছে এই যে, হে আল্লাহ্! প্রথমত তুমি আমাকে পাপাচার থেকে এই পরিমাণ দূরে রাখ যতদূর ব্যবধান রয়েছে পূর্ব থেকে পশ্চিমের এবং পশ্চিম থেকে পূর্বের। মানবিক দুর্বলতা বশতঃ যদি আমার হতে কোন প্রকার ত্রুটি প্রকাশিত হয়ে পড়ে, তবে তুমি তা ক্ষমা করে দিয়ে তার দাগ এ ভাবে দূর করে দাও যেভাবে সাদা কাপড় থেকে ময়লা দূর করে ধবধবে সাদা করা হয়। আর নিজ রহমতের শীতল পানি দ্বারা আমার অভ্যন্তর ভাগ ধুয়ে দাও যাতে ত্রুটি-বিচ্যুতির ফলে সৃষ্ট তোমার ক্রোধের আগুন শীতল হয়ে যায় এবং তার স্থলে আমার অন্তরে তোমার সন্তুষ্টির শীতলতা ও প্রশান্তি নসীব হয়।
এই হাদীস দ্বারা জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকবীরে তাহরীমা ও কিরা'আত পাঠের মধ্যবর্তী সময়ে কখনো কখনো এই দু'আ পাঠ করতেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)