কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৪৬৫
আন্তর্জাতিক নং: ৪৬৫
নামাযের অধ্যায়
২২. মসজিদে প্রবেশকালে পড়ার দুআ।
৪৬৫. মুহাম্মাদ ইবনে উছমান .... আবু হুমায়েদ (রাযিঃ) অথবা আবু উসায়েদ (রাযিঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইরশাদ করেনঃ তোমাদের কেউ মসজিদে প্রবেশ কালে সর্বপ্রথম নবী (ﷺ)-এর উপর সালাম, পাঠাবে, অতঃপর এই দুআ পড়বে, (اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ) “আল্লাহুম্মাফ তাহলি আবওয়াবা রাহমাতিকা” “ইয়া আল্লাহ! আমার জন্য তোমার রহমতের দরজাসমূহ খুলে দাও”। অতঃপর যখন কেউ মসজিদ হতে বের হবে তখন এই দুআ পাঠ করবেঃ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ “আল্লাহুম্মা ইন্নি আস আলুকা মিন ফাদলিক” “ইয়া আল্লাহ! আমি তোমার করুণা কামনা করি”
كتاب الصلاة
باب فِيمَا يَقُولُهُ الرَّجُلُ عِنْدَ دُخُولِهِ الْمَسْجِدَ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُثْمَانَ الدِّمَشْقِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ، - يَعْنِي الدَّرَاوَرْدِيَّ - عَنْ رَبِيعَةَ بْنِ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ سَعِيدِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا حُمَيْدٍ، أَوْ أَبَا أُسَيْدٍ الأَنْصَارِيَّ يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " إِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمُ الْمَسْجِدَ فَلْيُسَلِّمْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ لْيَقُلِ اللَّهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابَ رَحْمَتِكَ فَإِذَا خَرَجَ فَلْيَقُلِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ مِنْ فَضْلِكَ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কুরআন মজীদ থেকে বুঝা যায় যে, 'রহমত' শব্দটি বিশেষত রূহানী ও পারলৌকিক নিয়ামতসমূহের ব্যাপারেই প্রযোজ্য। যেমন নবুয়ত, বেলায়েত, আল্লাহ্ সন্তুষ্টি ও নৈকট্য এবং জান্নাতের নিয়ামতসমূহ। যেমন সূরা যুখরুফে আছেঃ

وَرَحْمَةُ رَبِّكَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُوْنَ

"তোমার প্রভুর রহমত তাদের সে অর্থ-সম্পদের চাইতে উত্তম যা তারা সঞ্চয় করে থাকে।"

পক্ষান্তরে 'ফযল' শব্দটি প্রধানত দুনিয়াবী নিয়ামতসমূহের ব্যাপারই প্রযোজ্য হয়ে থাকে। যেমন জীবিকার সচ্ছলতা, জীবনের স্বাচ্ছন্দ্য বা প্রাচুর্য ইত্যাদি। যেমন সূরা জুমু'আয় বলা হয়েছে:

فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلٰوةُ فَانْتَشِرُوْا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوْا مِنْ فَضْل اَللّٰهِ

"যখন সালাত সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন তোমার যমীনে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর ফযল অন্বেষণ কর।"
সুতরাং মসজিদ যেহেতু সে সমস্ত আমলের জন্য নির্দিষ্ট স্থান, যেগুলো দ্বারা রূহানী ও পারলৌকিক নিয়ামতসমূহ লাভ করা যায়, এজন্যে মসজিদে প্রবেশকালে রহমতের দরজা খুলে দেওয়ার প্রার্থনা এবং মসজিদ থেকে নির্গমনকালে আল্লাহ্ ফযল বা পার্থিব নিয়ামতসমূহ প্রার্থনার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।১

টিকা ১. আবু দাউদ বা ইব্‌ন মাজার উদ্ধৃতিসহ মসজিদে নববীর ঠিক হুযুর ﷺ-এর মাযার শরীফ সংলগ্ন গেটে একখানি হাদীস দেখার সুযোগ এ অনুবাদকের ১৯৯৪ সালের হজ্বের সময় হয়েছে, যাতে হুযুর ﷺ মসজিদে প্রবেশকালে এরূপ দু'আ করতে বলেছেন:

بِسْمِ اللّٰهِ وَالصَّلٰوةُ عَلَى رَسُوْلِ اللَّهِ اَللّٰهُمَّ افْتَحْ لِي أَبْوَابِ رَحْمَتِكَ

অর্থাৎ বিসমিল্লাহ ও দুরূদের পর রহমতের দু'আ করতে সে হাদীসে বলা হয়েছে।
"হে আল্লাহ! তোমার স্তব-স্তুতির সাথে সাথে আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ব্যতীত অন্য কোন উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট গুনাহসমূহ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দরবারে তওবা করছি।" তা হলে আল্লাহ তা'আলা ঐ মজলিসে কৃত তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেবেন।
-(জামে' তিরমিযী)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)