কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

২. নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ৪০৪
আন্তর্জাতিক নং: ৪০৪
নামাযের অধ্যায়
৫. আসরের নামাযের ওয়াক্ত।
৪০৪. কুতায়বা ইবনে সাঈদ ..... আনাস্ ইবনে মালিক (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আসরের নামায এমন সময় আদায় করতেন যখন সূর্য উপরে উজ্জ্বল অবস্থায় থাকত এবং কোন ব্যক্তি নামায শেষে আওয়ালীয়ে মদীনা’* বা মদীনার উচ্চ শহরতলীতে যাওয়ার পরেও সূর্য উপরে দেখতে পেত।

* আওয়ালী হল মদীনার পার্শ্ববর্তী শহরতলীতে অবস্থিত একটি গ্রামের নাম। মদীনা হতে এর নিকটতম দূরত্ব হল দুই মাইল এবং শেষ প্রান্তের দূরত্ব হল আট মাইল। -(অনুবাদক)
كتاب الصلاة
باب فِي وَقْتِ صَلاَةِ الْعَصْرِ
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ بَيْضَاءُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ وَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আনাস (রা) দীর্ঘজীবি ছিলেন। তিনি হিজরী প্রথম শতাব্দীর শেষদিকে ইন্তিকাল করেন। তিনি খুলাফায়ে রাশেদীনের যুগের অবসানের পর উমায়্যা খিলাফতের প্রায় পঁচিশ বছর জীবিত ছিলেন। তাঁর জীবদ্দশায় বনু উমায়‍্যার অনেক শাসক আসরের সালাত বিলম্বে আদায় করত। হযরত আনাস (রা) এ কাজকে ভুল এবং সুন্নাত পরিপন্থী মনে করতেন এবং সময়-সুযোগমত তিনি এ বিষয়ে অভিমত প্রকাশ করতেন। এই হাদীস বর্ণনার মূলে তাঁর এ উদ্দেশ্য ছিল যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ এত বিলম্বে কখনো আসরের সালাত আদায় করতেন না। তিনি যখন আসরের সালাত আদায় করতেন তখন সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে থাকত। দীপ্তিও অপরিবর্তিত থাকত। এমনকি তাঁর সাথে সালাত আদায় করে যদি কেউ মদীনার উপকণ্ঠে যেত তখনো সূর্য ঊর্ধ্বাকাশে দীপ্তিমানই প্রতিভাত হতো। 'আওয়ালী' মদীনার নিকটবর্তী উপকণ্ঠকে বলা হয়। এটি মদীনা থেকে পূর্বদিকে অবস্থিত। এসবের মধ্যে যেটি অদূরে সেটির ব্যবধান দুই মাইল আর যা দূরে তার দূরত্ব পাঁচ থেকে ছয় মাইল।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)