কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১. পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

হাদীস নং: ৩৪০
আন্তর্জাতিক নং: ৩৪০
পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
১২৯. জুমআর দিনের গোসল সম্পর্কে।
৩৪০. আবু তাওবা আর-রবী ইবনে নাফে ..... আব্দুর রহমান (রাহঃ) থেকে আবু হুরায়রা (রাযিঃ) এর সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা (রাযিঃ) আবু সালামাকে অবহিত করেন যে, একদিন উমর ইবনুল খাত্তাব (রাযিঃ) জুমআর খুতবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় সেখানে এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। উমর (রাযিঃ) তাকে জিজ্ঞাসা করেন, জুমআর নামাযের জন্য সঠিক সময়ে উপস্থিত হওয়ায় কিসে তোমাকে বাধা দিল? আগন্তুক (উছমান) বিনয়ের সাথে বলেন, নামাযের জন্য সঠিক সময়ে আগমনে আমাকে কিছু বাধা দেয়নি। আমি আযান শুনার পর উযু করে আসতে যতটুকু বিলম্ব হয়েছে। উমর (রাযিঃ) বলেন, তুমি কি কেবল উযুই করেছ? তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)কে বলতে শুননি ‘যখন তোমাদের কেউ জুমআর নামায আদায়ের ইরাদা করবে সে যেন গোসল করে'।*

* জুমআর নামাযের পূর্বে গোসল করা সুন্নত - অনুবাদক
كتاب الطهارة
باب فِي الْغُسْلِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ
حَدَّثَنَا أَبُو تَوْبَةَ الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا مُعَاوِيَةُ، عَنْ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ بَيْنَا هُوَ يَخْطُبُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ إِذْ دَخَلَ رَجُلٌ فَقَالَ عُمَرُ أَتَحْتَبِسُونَ عَنِ الصَّلاَةِ فَقَالَ الرَّجُلُ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ سَمِعْتُ النِّدَاءَ فَتَوَضَّأْتُ . فَقَالَ عُمَرُ وَالْوُضُوءَ أَيْضًا أَوَلَمْ تَسْمَعُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِذَا أَتَى أَحَدُكُمُ الْجُمُعَةَ فَلْيَغْتَسِلْ " .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে জুমু'আর দিনে গোসল করার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বুখারী ও মুসলিমে আবু সাঈদ খুদরী (রা) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে আছে যে, জুমু'আর দিন গোসল করা 'ওয়াজিব'। কিন্তু প্রাজ্ঞ আলিমগণের মতে, 'ওয়াজিব' দ্বারা ওয়াজিব উদ্দেশ্য নয় বরং গুরুত্বারোপ করা উদ্দেশ্য। কারণ ইবনে উমার ও আবূ হুরায়রা (রা) বর্ণিত হাদীসদ্বয় থেকে তা পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা) ইরাকীদের এক প্রশ্নের উত্তরে যে জবাব দিয়েছেন তা উল্লেখ করলে বিষয়টি অধিকতর স্পষ্ট হয়ে ওঠবে। সুনানে আবূ দাউদে ইবনে আব্বাস (রা) এর প্রখ্যাত ছাত্র ইকরামা সূত্রে বিস্তারিত প্রশ্ন উত্তর বর্ণিত হয়েছে। এর বিবরণ নিম্নরূপ।

ইকরামার সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার ইরাকের কিছু সংখ্যক লোক হযরত ইবনে আব্বাস (রা)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে ইবনে আব্বাস! আপনি কি জুমু'আর দিনের গোসলকে ওয়াজিব মনে করেন? তিনি বললেন: না। তবে যে ব্যক্তি গোসল করবে তা হবে তার জন্য পবিত্র ও ভাল কাজ। আর যে ব্যক্তি গোসল করবে না সে গুনাহগার হবে না। কেননা তার উপর তা ওয়াজিবও নয়। কিরূপে জুমু'আর গোসলের সূচনা হয় আমি তোমাদেরকে সে বিষয় অবহিত করছি। তদানীন্তন যুগের লোকেরা ছিল দরিদ্র এবং তারা মোটা পশমী কাপড় পরিধান করত। এতদ্ব্যতীত তাঁরা পিঠে বোঝা বহন করত। অথচ তাদের মসজিদ ছিল ছোট ও নিচু ছাদ বিশিষ্ট খেজুর শাখার ছাপড়া। এমতাবস্থায় একদিন প্রচণ্ড গরমের সময় রাসূলুল্লাহ ﷺ মসজিদের উদ্দেশ্যে বের হন। এমন সময় মোটা পশমী কাপড় পরিহিত লোকেরা ধর্মাক্ত হয়ে পড়েছিল এবং তাঁদের শরীর থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছিল, যাতে অন্যান্য লোকদের কষ্ট হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ ﷺ দুর্গন্ধ অনুভব করে বললেনঃ হে লোক সকল। যখন এ দিন (জুমু'আর দিন) আসবে তখন তোমরা গোসল করবে এবং প্রত্যেকে সাধ্যানুসারে তেল ও সুগন্ধি ব্যবহার করবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রা) বলেন, তারপর আল্লাহ্ তা'আলা তাদের প্রাচুর্য দান করেন। ফলে তারা মোটা পশমী কাপড় ছাড়াও অন্য কাপড় পরিধান করতে থাকে এবং তাদের সীমাহীন কষ্টেরও অবসান ঘটে তাঁদের মসজিদও সম্প্রসারিত করা হয় এবং একের দ্বারা অন্যের ঘামে কষ্ট পাওয়ার বিষয়টিও তিরোহিত হয়ে যায়। হযরত আবদুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রা)-এর এ ভাষ্য থেকে জানা যায় যে, ইসলামের প্রাথমিক যুগের বর্ণিত অবস্থায় জুমু'আ বারে গোসল করা অত্যাবশ্যক ছিল। তারপর যখন উক্ত অবস্থার অবসান ঘটে, তখন ঐ বিধানও রহিত হয়ে যায়। মোটকথা, পবিত্র অবস্থা আল্লাহর কাছে সব সময়ের জন্যই পসন্দনীয় এবং তাতে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ ও সাওয়াব। অর্থাৎ এ ধরনের গোসল সুন্নাত কিংবা মুস্তাহাবের অন্তর্ভুক্ত। হযরত সামুরা ইবনে জুনদুব (রা) বর্ণিত হাদীস থেকে এটা পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন: যে ব্যক্তি জুমু'আর দিন উযু করল সে ভাল কাজই করল। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি গোসল করল, সে গোসলই হলো অধিকতর উত্তম কাজ। (আহমাদ, তিরমিযী, নাসায়ী ও দারিমী)
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)