কিতাবুস সুনান - ইমাম আবু দাউদ রহঃ

১. পাক-পবিত্রতার অধ্যায়

হাদীস নং: ২০২
আন্তর্জাতিক নং: ২০২
পাক-পবিত্রতার অধ্যায়
৮০. ঘুমানোর পর উযু করা সম্পর্কে।
২০২. ইয়াহইইয়া ইবনে মুঈন .... ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সিজদা করতেন (অর্থাৎ নামায পড়তেন) এবং ঘুম যেতেন এবং নাক ডাকতেন, অতঃপর দাঁড়িয়ে পুনরায় উযু করা ব্যতিরেকে নামায আদায় করতেন। রাবী বলেন, আমি তাকে বলি, আপনি ঘুমানোর পর উযু না করে নামায আদায় করলেন? তিনি বলেন, উযু করা ঐ ব্যক্তির জন্য প্রয়োজন, যে আরামের সাথে হেলান দিয়ে ঘুমায়।*

* দাঁড়ানো বা বসা অবস্থায় ঘুম এলে উযু নষ্ট হবে না। তবে কোন কিছুতে হেলান দিয়ে ঘুমালে উযু নষ্ট হবে। কেননা হেলান দিয়ে ঘুমালে শরীরের বাধন ঢিলা হয়ে যায় এবং এমতাবস্থায় বায়ু নির্গত হলেও অনুভব করা যায় না। – (অনুবাদক)
كتاب الطهارة
باب الْوُضُوءِ مِنَ النَّوْمِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، وَهَنَّادُ بْنُ السَّرِيِّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، عَنْ عَبْدِ السَّلاَمِ بْنِ حَرْبٍ، - وَهَذَا لَفْظُ حَدِيثِ يَحْيَى - عَنْ أَبِي خَالِدٍ الدَّالاَنِيِّ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَسْجُدُ وَيَنَامُ وَيَنْفُخُ ثُمَّ يَقُومُ فَيُصَلِّي وَلاَ يَتَوَضَّأُ . قَالَ فَقُلْتُ لَهُ صَلَّيْتَ وَلَمْ تَتَوَضَّأْ وَقَدْ نِمْتَ فَقَالَ " إِنَّمَا الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا " . زَادَ عُثْمَانُ وَهَنَّادٌ " فَإِنَّهُ إِذَا اضْطَجَعَ اسْتَرْخَتْ مَفَاصِلُهُ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ قَوْلُهُ " الْوُضُوءُ عَلَى مَنْ نَامَ مُضْطَجِعًا " . هُوَ حَدِيثٌ مُنْكَرٌ لَمْ يَرْوِهِ إِلاَّ يَزِيدُ أَبُو خَالِدٍ الدَّالاَنِيُّ عَنْ قَتَادَةَ وَرَوَى أَوَّلَهُ جَمَاعَةٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ وَلَمْ يَذْكُرُوا شَيْئًا مِنْ هَذَا وَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَحْفُوظًا وَقَالَتْ عَائِشَةُ - رضى الله عنها - قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " تَنَامُ عَيْنَاىَ وَلاَ يَنَامُ قَلْبِي " . وَقَالَ شُعْبَةُ إِنَّمَا سَمِعَ قَتَادَةُ مِنْ أَبِي الْعَالِيَةِ أَرْبَعَةَ أَحَادِيثَ حَدِيثَ يُونُسَ بْنِ مَتَّى وَحَدِيثَ ابْنِ عُمَرَ فِي الصَّلاَةِ وَحَدِيثَ الْقُضَاةُ ثَلاَثَةٌ وَحَدِيثَ ابْنِ عَبَّاسٍ حَدَّثَنِي رِجَالٌ مَرْضِيُّونَ مِنْهُمْ عُمَرُ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَذَكَرْتُ حَدِيثَ يَزِيدَ الدَّالاَنِيِّ لأَحْمَدَ بْنِ حَنْبَلٍ فَانْتَهَرَنِي اسْتِعْظَامًا لَهُ وَقَالَ مَا لِيَزِيدَ الدَّالاَنِيِّ يُدْخِلُ عَلَى أَصْحَابِ قَتَادَةَ وَلَمْ يَعْبَأْ بِالْحَدِيثِ .

হাদীসের তাখরীজ (সূত্র):

উসমান ও হান্নাদের বর্ণনায় আরও আছে যে, “কেননা কেউ পার্শদেশে ভর দিয়ে শয়ন করলে তাঁর দেহের বাধন ঢিলা হয়ে যায়”। আবু দাউদ (রাহঃ) বলেন, যে ব্যাক্তি পার্শদেশে ভর দিয়ে ঘুমায় তাকে অযু করতে হবে” - হাদিসের এই অংশটুকু মুনকার (প্রত্যাখ্যাত)। কাতাদার সুত্রে ইয়াজীদ আদ-দালানী ব্যাতিত অপর কেউ তা বর্ণনা করেনি। কিন্তু হাদিসের প্রথমাংশ একদল রাবী ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর সুত্রে রিওয়ায়াত করেছেন এবং তারা উপরোক্ত কথার কিছুই উল্লেখ করেননি।

ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (ﷺ) (অসতর্কতা থেকে) নিরাপদ ছিলেন। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, রাসুল (ﷺ) বলেছেনঃ আমার এই দুই চোখ ঘুমালেও আমার অন্তর ঘুমায় না। শোবা বলেন, কাতাদা (রাহঃ) আবুল আলিয়ার নিকট চারটি হাদিস শুনেনঃ ইউনুস ইবনে মাত্তার হাদিস, নামায সম্পর্কে ইবনে উমর (রাযিঃ) এর হাদীস, তৃতীয় হাদিস বিচারক তিন শ্রেণীর এবং চতুর্থ ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর হাদিস।