আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৫৫- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা
হাদীস নং: ৬৯৯৯
আন্তর্জাতিক নং: ২৮৯১-২
- ফিতনাসমূহ ও কিয়ামতের আলামতের বর্ণনা
৬. কিয়ামত পর্যন্ত ঘটিতব্য বিষয়াদি সম্পর্কে নবীজী (ﷺ) এর খবর প্রদান করা।
৬৯৯৯। উসমান ইবনে আবি শাঈবা ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... হুযাইফা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মাঝে দণ্ডায়মান হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত ঘটমান সমস্ত ফিতনার কথাই বর্ণনা করলেন। অতঃপর যে স্মরণ রাখবার সে স্মরণ রাখল এবং যে ভুলে যাবার সে ভুলে গেল। তিনি বলেন, আমার এই সাথীগণ জানেন যে, এর কতিপয় বিষয় এমন আছে, যা আমি ভুলে গিয়েছি। কিন্তু তা সংঘটিত হতে দেখে আমার তা পূনরায় স্মরণ হয়ে যায়। বিষয়টি ঠিক তদ্রূপ যেমন এক ব্যক্তি কোন ব্যক্তির চেহারা দেখে, অতঃপর সে তার থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবার পর পুনরায় দেখে সে তাকে চিনে নেয়।
كتاب الفتن وأشراط الساعة
بَابُ إِخْبَارِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَكُونُ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ
وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا وَقَالَ، إِسْحَاقُ أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقَامًا مَا تَرَكَ شَيْئًا يَكُونُ فِي مَقَامِهِ ذَلِكَ إِلَى قِيَامِ السَّاعَةِ إِلاَّ حَدَّثَ بِهِ حَفِظَهُ مَنْ حَفِظَهُ وَنَسِيَهُ مَنْ نَسِيَهُ قَدْ عَلِمَهُ أَصْحَابِي هَؤُلاَءِ وَإِنَّهُ لَيَكُونُ مِنْهُ الشَّىْءُ قَدْ نَسِيتُهُ فَأَرَاهُ فَأَذْكُرُهُ كَمَا يَذْكُرُ الرَّجُلُ وَجْهَ الرَّجُلِ إِذَا غَابَ عَنْهُ ثُمَّ إِذَا رَآهُ عَرَفَهُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
হযরত হুযাইফা (রা) ছাড়া অন্যান্য সাহাবা কিরাম থেকেও এ বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে যে, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনেক দীর্ঘ বয়ান করেন। তাতে তিনি কিয়ামত পর্যন্ত সংঘটিতব্য ঘটনাবলি ও বিপর্যয়সমূহের উল্লেখ করেন। এর প্রকাশ্য অর্থ এটাই যে, এরূপ অস্বাভাবিক ঘটনাবলি ও দুর্যোগ এবং এরূপ গুরুত্বপূর্ণ ফিতনাসমূহের উল্লেখ করেছেন, যে ব্যাপারে উম্মতকে জ্ঞাত করা তিনি আবশ্যক মনে করেছেন। এটাই ছিল তাঁর নবুওতী স্তরের চাহিদা ও তাঁর মহান মর্যাদার উপযুক্ত।
তবে যাদের আকীদা হচ্ছে, জগত সৃষ্টির সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আসমান যমীনের সব সৃষ্টি ও প্রাণীর এবং খুঁটিনাটি ক্ষুদ্র বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞান তিনি রাখেন তারা হযরত হুযাইফা (রা)-এর এ হাদীস ও এ বিষয়ক অন্যান্য হাদীসসমূহ থেকে দলীল পেশ করেন। তাদের নিকট এসব হাদীসের অর্থ হচ্ছে- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় সেই বর্ণনায়, তাদের পরিভাষা মুতাবিক ماكان وما يكون সব বিষয় বর্ণনা করেছিলেন।
অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের সব রাষ্ট্র-হিন্দুস্থান, ইরান, আফগানিস্তান, চীন, জাপান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক, রাশিয়া ইত্যাদি দুনিয়ার সব রাষ্ট্রে কিয়ামত পর্যন্ত জন্মলাভকারী সব মানুষ, পশু-পাখী, পিঁপড়া, মাছি, মশা, কীট-পতঙ্গ এবং সমুদ্রে জন্মলাভকারী প্রাণীসমূহ, সবার সব অবস্থা তিনি বলেছিলেন। এ সবও ماكان وما يكون এর অন্তর্ভুক্ত। এভাবে বিভিন্ন দেশের রেডিও থেকে যে সব সংবাদ ও গান বাজনা প্রচারিত হচ্ছে, আর বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার সংবাদপত্রে বিভিন্ন ভাষায় যা প্রকাশিত হচ্ছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত প্রকাশিত হবে মসজিদে নববীর সেই ভাষণে তিনি সাহাবা কিরামকে বলেছিলেন। কেননা, এ সবই ماكان وما يكون এর অন্তর্ভুক্ত।
যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা সামান্য পরিমাণও জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন সে বুঝতে পারে, হাদীসের এ অর্থ বর্ণনা করা আর এ ধরনের দাবি করা কী রূপ মুর্খতা ও বোকামীপূর্ণ কথা। এ ছাড়া এ ধারাবাহিকতায় এ কথাও চিন্তাযোগ্য যে, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় ভাষণে তাদের দাবি অনুযায়ী ماكان ومايكون এবং সর্ব প্রকার খণ্ডিত বিপর্যয় ও ঘটনাবলি বর্ণনা করেছিলেন, তবে এটা তো অবশ্যই বলেছিলেন যে, আমার পর প্রথম খলীফা হবে আবু বকর (রা), আর তাঁর খিলাফতকালে এসব হবে। তাঁর পর দ্বিতীয় খলীফা উমর ইবনুল খাত্তাব এবং তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান হবে। আর তার যুগে এবং তার পরে এসব ঘটনাবলি সামনে আসবে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় جميعُ مَا كَانَ وَمَا يَكون সবই বর্ণনা করে দিয়ে থাকেন তবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর খলীফা নির্বাচনের বিষয়ে কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শের প্রয়োজন দেখা দিত না এবং সাকীফা বনী সা'দায় যা কিছু হয়েছিল তা হত না। সবারই তো স্মরণ হত যে, কয়েক দিন পূর্বেই হুযূর সব বলে দিয়েছেন যে, আমার পর আবূ বকর (রা) খলীফা হবে।
এভাবে হযরত উমর (রা)-এর শাহাদাতের পর খলীফা নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় কোন চিন্তা ভাবনা ও পরামর্শের প্রয়োজন দেখা দিত না। স্বয়ং হযরত উমর (রা) এবং সেই ছয় ব্যক্তি যাদেরকে তিনি খলীফা নির্বাচক মণ্ডলী করেছিলেন, তাঁদের অবশ্যই স্মরণ হত যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের পর তৃতীয় খলীফা হবে হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা)। এসব ব্যক্তিত্ব তখন উম্মতের মধ্যে প্রাথমিক যুগের সর্বাধিক উত্তম ও 'আশারা মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
যদি এ কথা বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ভাষণে এসব তো বলেছিলেন, কিন্তু সবাই তা ভুলে গিয়েছিলেন। এ কথার পর দীনের কোন কথাই নির্ভরযোগ্য থাকে না। সাহাবা কিরামের মাধ্যমে ও তাঁদের বর্ণনা থেকে উম্মত গোটা দীন লাভ করেছে। যখন তাঁদের প্রাথমিক যুগের প্রথম সারির 'আশারা মুবাশারা সম্বন্ধে এ কথা মেনে নেওয়া হয় যে, তাঁদের সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্ব পূর্ণ কথা ভুলে বসেছিলেন, আর হুযূর (সা)-এর সেই ভাষণ তাঁদের মধ্যে কোন এক জনেরও স্মরণে ছিল না, তখন তাঁদের উদ্ধৃতি ও বর্ণনার ওপর কখনো ভরসা করা যেতে পারে না। হাদীসের কোন বর্ণনাকারী সম্বন্ধে যদি প্রমাণিত হয় যে, তিনি বিস্মৃতকারী ছিলেন তখন মুহাদ্দিসীন তার কোন বর্ণনাই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন না। বর্ণনায় তাকে সাকিতুল ই'তিবার (অবিশ্বস্ত) নির্ধারণ করা হয়।
বস্তুত হযরত হুযাইফা (রা)-এর আলোচ্য হাদীসে এবং এ বিষয়ক অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় মসজিদের সেই ভাষণে তাদের দাবি ও ভাষ্য অনুযায়ী جميع ما كان ومايكون বর্ণনা করে ছিলেন। উপরিবর্ণিত কারণে এ দাবি হচ্ছে চূড়ান্ত সীমার বোকামী ও মুর্খতা। সেই জাতীয় হাদীসের উদ্দেশ্য ও ফায়দা কেবল এই যে, তিনি সেই ভাষণে ও খুতবায় কিয়ামত পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য অসাধারণ ঘটনাবলি ও বিপর্যয়সমূহ এবং বড় বড় ফিতনাসমূহের কথা বর্ণনা করেছিলেন, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর প্রতিভাত করেছিলেন এবং যে সব বিষয়ে উম্মতকে সর্তক করে দেওয়া তিনি আবশ্যক মনে করেছিলেন। এটাই নবুওতী মর্যাদার চাহিদা ও তাঁর মহান শানের উপযুক্ত।
তবে যাদের আকীদা হচ্ছে, জগত সৃষ্টির সূচনা থেকে কিয়ামত পর্যন্ত আসমান যমীনের সব সৃষ্টি ও প্রাণীর এবং খুঁটিনাটি ক্ষুদ্র বিষয়ের পরিপূর্ণ জ্ঞান তিনি রাখেন তারা হযরত হুযাইফা (রা)-এর এ হাদীস ও এ বিষয়ক অন্যান্য হাদীসসমূহ থেকে দলীল পেশ করেন। তাদের নিকট এসব হাদীসের অর্থ হচ্ছে- হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় সেই বর্ণনায়, তাদের পরিভাষা মুতাবিক ماكان وما يكون সব বিষয় বর্ণনা করেছিলেন।
অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠের সব রাষ্ট্র-হিন্দুস্থান, ইরান, আফগানিস্তান, চীন, জাপান, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আমেরিকা, আফ্রিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, তুরস্ক, রাশিয়া ইত্যাদি দুনিয়ার সব রাষ্ট্রে কিয়ামত পর্যন্ত জন্মলাভকারী সব মানুষ, পশু-পাখী, পিঁপড়া, মাছি, মশা, কীট-পতঙ্গ এবং সমুদ্রে জন্মলাভকারী প্রাণীসমূহ, সবার সব অবস্থা তিনি বলেছিলেন। এ সবও ماكان وما يكون এর অন্তর্ভুক্ত। এভাবে বিভিন্ন দেশের রেডিও থেকে যে সব সংবাদ ও গান বাজনা প্রচারিত হচ্ছে, আর বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার সংবাদপত্রে বিভিন্ন ভাষায় যা প্রকাশিত হচ্ছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত প্রকাশিত হবে মসজিদে নববীর সেই ভাষণে তিনি সাহাবা কিরামকে বলেছিলেন। কেননা, এ সবই ماكان وما يكون এর অন্তর্ভুক্ত।
যে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা'আলা সামান্য পরিমাণও জ্ঞান বুদ্ধি দিয়েছেন সে বুঝতে পারে, হাদীসের এ অর্থ বর্ণনা করা আর এ ধরনের দাবি করা কী রূপ মুর্খতা ও বোকামীপূর্ণ কথা। এ ছাড়া এ ধারাবাহিকতায় এ কথাও চিন্তাযোগ্য যে, যদি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় ভাষণে তাদের দাবি অনুযায়ী ماكان ومايكون এবং সর্ব প্রকার খণ্ডিত বিপর্যয় ও ঘটনাবলি বর্ণনা করেছিলেন, তবে এটা তো অবশ্যই বলেছিলেন যে, আমার পর প্রথম খলীফা হবে আবু বকর (রা), আর তাঁর খিলাফতকালে এসব হবে। তাঁর পর দ্বিতীয় খলীফা উমর ইবনুল খাত্তাব এবং তারপর তৃতীয় খলীফা হযরত উসমান ইবনে আফ্ফান হবে। আর তার যুগে এবং তার পরে এসব ঘটনাবলি সামনে আসবে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যদি সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় جميعُ مَا كَانَ وَمَا يَكون সবই বর্ণনা করে দিয়ে থাকেন তবে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইন্তিকালের পর খলীফা নির্বাচনের বিষয়ে কোন প্রকার চিন্তা-ভাবনা ও পরামর্শের প্রয়োজন দেখা দিত না এবং সাকীফা বনী সা'দায় যা কিছু হয়েছিল তা হত না। সবারই তো স্মরণ হত যে, কয়েক দিন পূর্বেই হুযূর সব বলে দিয়েছেন যে, আমার পর আবূ বকর (রা) খলীফা হবে।
এভাবে হযরত উমর (রা)-এর শাহাদাতের পর খলীফা নির্বাচনের ধারাবাহিকতায় কোন চিন্তা ভাবনা ও পরামর্শের প্রয়োজন দেখা দিত না। স্বয়ং হযরত উমর (রা) এবং সেই ছয় ব্যক্তি যাদেরকে তিনি খলীফা নির্বাচক মণ্ডলী করেছিলেন, তাঁদের অবশ্যই স্মরণ হত যে, উমর ইবনুল খাত্তাবের পর তৃতীয় খলীফা হবে হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা)। এসব ব্যক্তিত্ব তখন উম্মতের মধ্যে প্রাথমিক যুগের সর্বাধিক উত্তম ও 'আশারা মুবাশশারার অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
যদি এ কথা বলা হয় যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই ভাষণে এসব তো বলেছিলেন, কিন্তু সবাই তা ভুলে গিয়েছিলেন। এ কথার পর দীনের কোন কথাই নির্ভরযোগ্য থাকে না। সাহাবা কিরামের মাধ্যমে ও তাঁদের বর্ণনা থেকে উম্মত গোটা দীন লাভ করেছে। যখন তাঁদের প্রাথমিক যুগের প্রথম সারির 'আশারা মুবাশারা সম্বন্ধে এ কথা মেনে নেওয়া হয় যে, তাঁদের সবাই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর গুরুত্ব পূর্ণ কথা ভুলে বসেছিলেন, আর হুযূর (সা)-এর সেই ভাষণ তাঁদের মধ্যে কোন এক জনেরও স্মরণে ছিল না, তখন তাঁদের উদ্ধৃতি ও বর্ণনার ওপর কখনো ভরসা করা যেতে পারে না। হাদীসের কোন বর্ণনাকারী সম্বন্ধে যদি প্রমাণিত হয় যে, তিনি বিস্মৃতকারী ছিলেন তখন মুহাদ্দিসীন তার কোন বর্ণনাই গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন না। বর্ণনায় তাকে সাকিতুল ই'তিবার (অবিশ্বস্ত) নির্ধারণ করা হয়।
বস্তুত হযরত হুযাইফা (রা)-এর আলোচ্য হাদীসে এবং এ বিষয়ক অন্যান্য হাদীসের ভিত্তিতে রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বীয় মসজিদের সেই ভাষণে তাদের দাবি ও ভাষ্য অনুযায়ী جميع ما كان ومايكون বর্ণনা করে ছিলেন। উপরিবর্ণিত কারণে এ দাবি হচ্ছে চূড়ান্ত সীমার বোকামী ও মুর্খতা। সেই জাতীয় হাদীসের উদ্দেশ্য ও ফায়দা কেবল এই যে, তিনি সেই ভাষণে ও খুতবায় কিয়ামত পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য অসাধারণ ঘটনাবলি ও বিপর্যয়সমূহ এবং বড় বড় ফিতনাসমূহের কথা বর্ণনা করেছিলেন, যা আল্লাহ তা'আলা তাঁর ওপর প্রতিভাত করেছিলেন এবং যে সব বিষয়ে উম্মতকে সর্তক করে দেওয়া তিনি আবশ্যক মনে করেছিলেন। এটাই নবুওতী মর্যাদার চাহিদা ও তাঁর মহান শানের উপযুক্ত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: