আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৫৩- কিয়ামত, জান্নাত ও জাহান্নামের বিবরণ অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৮১০
আন্তর্জাতিক নং: ২৭৯৮-২
৮. ধুম্র প্রসঙ্গে
৬৮১০। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু সাঈদ আশাজ্জ, উসমান ইবনে আবি শাঈবা, ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া ও আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... মাসরুক (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর নিকট এক ব্যক্তি এসে বলল, আমি মসজিদে এক ব্যক্তিকে দেখে এসেছি, সে কুরআনের মনগড়া তাফসীর করছে! সে يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলছে যে, কিয়ামতের দিন ধোয়া এসে লোকদের আচ্ছন্ন করে ফেলবে, তাদের শ্বাসরুদ্ধ করে ফেলবে, এমনকি এতে লোকদের সর্দির মত অবস্থা হয়ে যাবে।
একথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে তার বলা উচিত, আল্লাহই ভাল জানেন। কারণ, অজানা বিষয় সম্পর্কে আল্লাহই ভাল জানেন, একথা বলাই মানুষের বুদ্ধিমত্তার পরিচালক। কেননা এ বিষয়টি তখনই সংঘটিত হয়েছিল, যখন কুরাইশরা নবী (ﷺ) এর নাফরমানী করেছিল। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দুআ করেন যেন ইউনূফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়ের সাত বছরের মত দুর্ভিক্ষ তাদের উপর আপতিত হয়। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ এবং ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে আপতিত হলো যে, কেউ আসমানের দিকে তাকালে সে ধোঁয়ার মত দেখত, এমনকি তারা হাড্ডি খাওয়া শুরু করল।
তখন এক ব্যক্তি এসে নবী (ﷺ) কে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মূযার গোত্রের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা হয়তো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বললেন, মুযার এর জন্য? তুমি তো বড় দুঃসাহসী। রাবী বলেন, এরপর নবী (ﷺ) তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল! করলেন, “আমি তোমাদের শাস্তি কিছু কালের জন্য তুলে নিচ্ছি। তোমরা তো তোমাদের পৃর্বাবস্থায়ই ফিরে যাবে।”
বর্ণনাকারী বলেন, তাদের উপর বৃষ্টি হলো। অতঃপর তাদের যখন প্রাচুর্য ও স্বচ্ছলতা ফিরে এল তখন তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেল। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন, “অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সেদিনের, যে দিন ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং উহা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। আমি তোমাদের শাস্তি কিছু কালের জন্য তুলে নিব, তোমরা তো পুনরায় এটি (অবাধ্যতা) করবে। যেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সে দিন আমি প্রতিশোধ নিবই (শাস্তি দিবই)।” বর্ণনাকারী বলেন অর্থাৎ বদরের দিন।
একথা শুনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বললেন, যে ব্যক্তি কোন বিষয়ে জানে সে তা বর্ণনা করবে। আর যে না জানে তার বলা উচিত, আল্লাহই ভাল জানেন। কারণ, অজানা বিষয় সম্পর্কে আল্লাহই ভাল জানেন, একথা বলাই মানুষের বুদ্ধিমত্তার পরিচালক। কেননা এ বিষয়টি তখনই সংঘটিত হয়েছিল, যখন কুরাইশরা নবী (ﷺ) এর নাফরমানী করেছিল। তখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে দুআ করেন যেন ইউনূফ (আলাইহিস সালাম) এর সময়ের সাত বছরের মত দুর্ভিক্ষ তাদের উপর আপতিত হয়। তারপর তাদের উপর দুর্ভিক্ষ এবং ক্ষুধার কষ্ট এমনভাবে আপতিত হলো যে, কেউ আসমানের দিকে তাকালে সে ধোঁয়ার মত দেখত, এমনকি তারা হাড্ডি খাওয়া শুরু করল।
তখন এক ব্যক্তি এসে নবী (ﷺ) কে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! মূযার গোত্রের জন্য আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করুন। তারা হয়তো ধ্বংস হয়ে গেল। তিনি বললেন, মুযার এর জন্য? তুমি তো বড় দুঃসাহসী। রাবী বলেন, এরপর নবী (ﷺ) তাদের জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল! করলেন, “আমি তোমাদের শাস্তি কিছু কালের জন্য তুলে নিচ্ছি। তোমরা তো তোমাদের পৃর্বাবস্থায়ই ফিরে যাবে।”
বর্ণনাকারী বলেন, তাদের উপর বৃষ্টি হলো। অতঃপর তাদের যখন প্রাচুর্য ও স্বচ্ছলতা ফিরে এল তখন তারা আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেল। তখন আল্লাহ তাআলা নাযিল করলেন, “অতএব আপনি অপেক্ষা করুন সেদিনের, যে দিন ধুম্রাচ্ছন্ন হবে আকাশ এবং উহা আবৃত করে ফেলবে মানব জাতিকে। এ হবে মর্মন্তুদ শাস্তি। আমি তোমাদের শাস্তি কিছু কালের জন্য তুলে নিব, তোমরা তো পুনরায় এটি (অবাধ্যতা) করবে। যেদিন আমি প্রবলভাবে পাকড়াও করব, সে দিন আমি প্রতিশোধ নিবই (শাস্তি দিবই)।” বর্ণনাকারী বলেন অর্থাৎ বদরের দিন।
باب الدُّخَانِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، وَوَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو سَعِيدٍ، الأَشَجُّ أَخْبَرَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو كُرَيْبٍ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ مُسْلِمِ بْنِ صُبَيْحٍ، عَنْ مَسْرُوقٍ، قَالَ جَاءَ إِلَى عَبْدِ اللَّهِ رَجُلٌ فَقَالَ تَرَكْتُ فِي الْمَسْجِدِ رَجُلاً يُفَسِّرُ الْقُرْآنَ بِرَأْيِهِ يُفَسِّرُ هَذِهِ الآيَةَ ( يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ) قَالَ يَأْتِي النَّاسَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ دُخَانٌ فَيَأْخُذُ بِأَنْفَاسِهِمْ حَتَّى يَأْخُذَهُمْ مِنْهُ كَهَيْئَةِ الزُّكَامِ . فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ مَنْ عَلِمَ عِلْمًا فَلْيَقُلْ بِهِ وَمَنْ لَمْ يَعْلَمْ فَلْيَقُلِ اللَّهُ أَعْلَمُ فَإِنَّ مِنْ فِقْهِ الرَّجُلِ أَنْ يَقُولَ لِمَا لاَ عِلْمَ لَهُ بِهِ اللَّهُ أَعْلَمُ . إِنَّمَا كَانَ هَذَا أَنَّ قُرَيْشًا لَمَّا اسْتَعْصَتْ عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم دَعَا عَلَيْهِمْ بِسِنِينَ كَسِنِي يُوسُفَ فَأَصَابَهُمْ قَحْطٌ وَجَهْدٌ حَتَّى جَعَلَ الرَّجُلُ يَنْظُرُ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرَى بَيْنَهُ وَبَيْنَهَا كَهَيْئَةِ الدُّخَانِ مِنَ الْجَهْدِ وَحَتَّى أَكَلُوا الْعِظَامَ فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ اسْتَغْفِرِ اللَّهَ لِمُضَرَ فَإِنَّهُمْ قَدْ هَلَكُوا فَقَالَ " لِمُضَرَ إِنَّكَ لَجَرِيءٌ " . قَالَ فَدَعَا اللَّهَ لَهُمْ فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( إِنَّا كَاشِفُو الْعَذَابِ قَلِيلاً إِنَّكُمْ عَائِدُونَ) قَالَ فَمُطِرُوا فَلَمَّا أَصَابَتْهُمُ الرَّفَاهِيَةُ - قَالَ - عَادُوا إِلَى مَا كَانُوا عَلَيْهِ - قَالَ - فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ ( فَارْتَقِبْ يَوْمَ تَأْتِي السَّمَاءُ بِدُخَانٍ مُبِينٍ * يَغْشَى النَّاسَ هَذَا عَذَابٌ أَلِيمٌ) ( يَوْمَ نَبْطِشُ الْبَطْشَةَ الْكُبْرَى إِنَّا مُنْتَقِمُونَ) قَالَ يَعْنِي يَوْمَ بَدْرٍ .


বর্ণনাকারী: