আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৫১- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়
হাদীস নং: ৬৬১৬
আন্তর্জাতিক নং: ২৭০৪-১
- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়
১৪. আস্তে যিক্র করা মুস্তাহাব
৬৬১৬। আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা (রাহঃ) ......... আবু মুসা আশআরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার আমরা নবী (ﷺ) এর সঙ্গে কোন এক সফরে ছিলাম। তখন লোকেরা জোরে জোরে তাকবীর পাঠ করছিল। নবী (ﷺ) বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের প্রাণের প্রতি সদয় হও। কেননা, তোমরা তো কোন বধির কিংবা কোন অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছ না। নিশ্চয়ই তোমরা ডাকছ এমন এক সত্তাকে যিনি সর্বশ্রোতা, নিকটবর্তী এবং তিনি তোমাদের সঙ্গে আছেন।
আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, আমি তার পিছনে ছিলাম। তখন আমি বললাম, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজের দিকে উদ্যোগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)
তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের কোন একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? তখন আমি বললাম, নিশ্চয়ই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেন, তুমি বল, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজের দিকে উদ্যোগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)
আবু মুসা (রাযিঃ) বলেন, আমি তার পিছনে ছিলাম। তখন আমি বললাম, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজের দিকে উদ্যোগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)
তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, হে আব্দুল্লাহ ইবনে কায়স! আমি কি তোমাকে জান্নাতের ভাণ্ডারসমূহের কোন একটি ভাণ্ডারের সন্ধান দেব না? তখন আমি বললাম, নিশ্চয়ই ইয়া রাসুলাল্লাহ! তখন তিনি বললেন, তুমি বল, لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ (আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত কারো ভাল কাজের দিকে উদ্যোগী হওয়ার এবং মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার সাধ্য নেই)
كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار
باب اسْتِحْبَابِ خَفْضِ الصَّوْتِ بِالذِّكْرِ
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ فُضَيْلٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَجَعَلَ النَّاسُ يَجْهَرُونَ بِالتَّكْبِيرِ فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " أَيُّهَا النَّاسُ ارْبَعُوا عَلَى أَنْفُسِكُمْ إِنَّكُمْ لَيْسَ تَدْعُونَ أَصَمَّ وَلاَ غَائِبًا إِنَّكُمْ تَدْعُونَ سَمِيعًا قَرِيبًا وَهُوَ مَعَكُمْ " . قَالَ وَأَنَا خَلْفَهُ وَأَنَا أَقُولُ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ فَقَالَ " يَا عَبْدَ اللَّهِ بْنَ قَيْسٍ أَلاَ أَدُلُّكَ عَلَى كَنْزٍ مِنْ كُنُوزِ الْجَنَّةِ " . فَقُلْتُ بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ . قَالَ " قُلْ لاَ حَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إِلاَّ بِاللَّهِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ কালিমার জান্নাতের সম্পদভাণ্ডারের সম্পদস্বরূপ হওয়ার মর্ম এ হতে পারে যে, যে ব্যক্তি খালিস অন্তরে এ কালিমা পাঠ করবে, তার জন্যে এ কালিমার বিনিময়ে জান্নাতে অনন্ত ভাণ্ডার সঞ্চিত রাখা হবে, যদ্বারা সে পরকালে ঠিক তেমনিভাবে উপকৃত হতে পারবে, যেমনটি এ পৃথিবীতে মানুষ তার সম্পদ ভাণ্ডার থেকে উপকৃত হয়ে থাকে।
এও বলা যায় যে, হুযুর ﷺ এ শব্দটির দ্বারা এ কালিমার মাহাত্ম্য বুঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ এটা হচ্ছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন। কোন বস্তুর অধিক মূল্য বুঝাবার জন্যে এ শব্দচয়ন হতে পারে।
লা-হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ-এর অর্থ হচ্ছে এই যে, কোন কাজের জন্যে সাধ্য-সাধনা করা ও প্রচেষ্টা চালানোর শক্তি আল্লাহই দান করেন, বান্দা নিজে কিছুই করতে পারে না।
এ অর্থের কাছাকাছি দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এও বলা হয়ে থাকে যে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালন করা তাঁর দেয়া তাওফীক ছাড়া বান্দার সাধ্যের অতীত।
এও বলা যায় যে, হুযুর ﷺ এ শব্দটির দ্বারা এ কালিমার মাহাত্ম্য বুঝাতে চেয়েছেন। অর্থাৎ এটা হচ্ছে জান্নাতের রত্নভাণ্ডারের এক অমূল্য রত্ন। কোন বস্তুর অধিক মূল্য বুঝাবার জন্যে এ শব্দচয়ন হতে পারে।
লা-হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লাবিল্লাহ-এর অর্থ হচ্ছে এই যে, কোন কাজের জন্যে সাধ্য-সাধনা করা ও প্রচেষ্টা চালানোর শক্তি আল্লাহই দান করেন, বান্দা নিজে কিছুই করতে পারে না।
এ অর্থের কাছাকাছি দ্বিতীয় আরেকটি অর্থ এও বলা হয়ে থাকে যে, গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং আল্লাহর আদেশ পালন করা তাঁর দেয়া তাওফীক ছাড়া বান্দার সাধ্যের অতীত।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: