আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৫১- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়

হাদীস নং: ৬৬১০
আন্তর্জাতিক নং: ২৭০০-২
- যিকর, দুআ, তাওবা ও ইসতিগফারের অধ্যায়
১১. কুরআন তিলওয়াত ও যিক্‌রের জন্য সমাবেশের ফযীলত
৬৬১০। মুহাম্মাদ ইবনে মুসান্না ও ইবনে বাশশার (রাহঃ) ......... আগারর আবু মুসলিম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আবু হুরায়রা ও আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) সাক্ষ্য দিয়েছেন নবী (ﷺ) বলেছেনঃ কোন সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলার যিক্‌র করতে বসলে একদল ফিরিশতা তাদের পরিবেষ্টন করে নেন এবং রহমত তাদের উপর আচ্ছাদন হয়ে যায়। আর তাদের প্রতি প্রশান্তি অবতীর্ণ হয় এবং আল্লাহ তাআলা তার কাছের ফিরিশতাগণের মাঝে তাদের আলোচনা করেন।

যুহাইর ইবনে হারব (রাহঃ) ......... শু’বা থেকে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
كتاب الذكر والدعاء والتوبة والاستغفار
باب فَضْلِ الاِجْتِمَاعِ عَلَى تِلاَوَةِ الْقُرْآنِ وَعَلَى الذِّكْرِ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ، يُحَدِّثُ عَنِ الأَغَرِّ أَبِي مُسْلِمٍ، أَنَّهُ قَالَ أَشْهَدُ عَلَى أَبِي هُرَيْرَةَ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّهُمَا شَهِدَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ قَالَ " لاَ يَقْعُدُ قَوْمٌ يَذْكُرُونَ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ إِلاَّ حَفَّتْهُمُ الْمَلاَئِكَةُ وَغَشِيَتْهُمُ الرَّحْمَةُ وَنَزَلَتْ عَلَيْهِمُ السَّكِينَةُ وَذَكَرَهُمُ اللَّهُ فِيمَنْ عِنْدَهُ " .

وَحَدَّثَنِيهِ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ نَحْوَهُ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টরূপে জানা গেল যে, আল্লাহর কিছু বান্দা কোথাও একত্রিত হয়ে যিকির করার খাস বরকত রয়েছে। হযরত শাহ্ ওলীউল্লাহ্ (র) এ হাদীছেরই ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে বলেন:

"এ ব্যাপারে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই যে, মুসলমানদের দলবদ্ধভাবে যিকির ইত্যাদি করা রহমত, শান্তি ও ফেরেশতাদের নৈকট্যের খাস ওসীলা বিশেষ।" (হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ২য় জিলদ, পৃ. ৭০)

এ হাদীসে আল্লাহর যিকিরকারী বান্দাদের জন্যে চারটি খাস নিয়ামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে:
১. চতুর্দিক থেকে আল্লাহর ফেরেশতাগণ এসে তাদেরকে ঘিরে ফেলেন,

২. আল্লাহর রহমত তাদেরকে আপন ছায়াতলে নিয়ে নেয়। এবং এ দু'টির ফলশ্রুতিতে তৃতীয় যে নিয়ামত তারা প্রাপ্ত হন তা হলো:

৩. তাদের হৃদয়-মনে শান্তিধারা নেমে আসে আর এটা আল্লাহর এক মহান রূহানী নিয়ামত। এখানে শান্তিধারা বলতে এক বিশেষ ধরনের ও বিশেষ পর্যায়ের আত্মীক ও রূহানী শান্তি বুঝানো হয়েছে, যা আল্লাহর খাস বান্দাদেরকে আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ দান হিসাবে প্রদত্ত হয়ে থাকে। আহলে সুলুক বা আধ্যাত্মবাদী মহলে যা 'জমইয়তে কল্বী' নামে অভিহিত হয়ে থাকে। শান্তিধারা প্রাপ্ত ব্যক্তি এ বিশেষ নিয়ামতটির অস্তিত্ব অনুভব করে থাকেন।

৪. যিকিরকারীকে প্রদত্ত চতুর্থ বস্তু হচ্ছে, যা সর্বশেষে এ হাদীসটিতে উল্লেখিত হয়েছে- আল্লাহ তা'আলা তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণের নিকট যিকিরকারী বান্দাদের কথা উল্লেখ করেন। যেমন তিনি তাঁদেরকে লক্ষ্য করে বলেন: দেখ, আদমেরই সন্তানদের মধ্যে আমার এ বান্দারাও রয়েছে, যারা আমাকে কোনদিন চোখে দেখেনি, অদৃশ্যভাবে আমার উপর ঈমান এনেছে। এতদসত্ত্বেও তাদের মহব্বত ও খাশিয়ত তথা অনুরাগ ও ভীতির কী অবস্থা! কত আগ্রহে উৎসাহে কত আকুতি নিয়ে হৃদয়-মন উজাড় করে আমার যিকির করছে! নিঃসন্দেহে মালিকুল মুলক আহকামুল হাকিমীনের তাঁর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে আপন বান্দাদের সম্পর্কে এরূপ আলোচনা বা উল্লেখ করা এমনি একটি বড় ব্যাপার, যার চাইতে বড় কোন নিয়ামতের কথা কল্পনাও করা যায় না। আল্লাহ তা'আলা যেন এ নিয়ামত থেকে বঞ্চিত না রাখেন।

ফায়দা: এ হাদীস থেকে এ ইঙ্গিতও পাওয়া গেল যে, আল্লাহর যিকিরকারী বান্দা যদি আপন কলবে সকীনত বা শান্তিপ্রবাহের অস্তিত্ব অনুভব না করে (যা একটি অনুভব করার মত ব্যাপার) তা হলে বুঝতে হবে যে, এখনো সে যিকিরের ঐ স্তরে উপনীত হতে পারেনি, যে স্তরে পৌঁছলে এসব নিয়ামতের অঙ্গীকার রয়েছে; অথবা তার জীবনে এমন কিছু প্রতিবন্ধক রয়েছে, যা যিকিরের শুভ প্রভাব লাভে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তার নিজের অবস্থা সংশোধনের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। দয়ালু প্রভুর ওয়াদা সর্বাবস্থায় বরহক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)