আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪৮- সদ্ব্যবহার,আত্নীয়তা রক্ষা (মুআশারা) ও বিবিধ শিষ্টাচার
হাদীস নং: ৬৩৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ২৫৮৯
- সদ্ব্যবহার,আত্নীয়তা রক্ষা (মুআশারা) ও বিবিধ শিষ্টাচার
২০. গীবত করা হারাম
৬৩৫৭। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ও ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমরা কি জান, গীবত কী জিনিস? তাঁরা বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভাল জানেন। তিনি বললেন, (গীবত হল) তোমার ভাই এর সম্পর্কে এমন কিছু আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। প্রশ্ন করা হল, আমি যা বলছি তা যদি আমার ভাই এর মধ্যে থেকে থাকে তবে আপনি কি বলেন? তিনি বললেন, তুমি তার সম্পর্কে যা বলছ তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই তুমি তার গীবত করলে। আর যদি তা তার মধ্যে না থাকে তা হলে তো তুমি তার প্রতি অপবাদ আরোপ করলে।
كتاب البر والصلة والآداب
باب تَحْرِيمِ الْغِيبَةِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ، وَابْنُ، حُجْرٍ قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ " . قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ . قَالَ " ذِكْرُكَ أَخَاكَ بِمَا يَكْرَهُ " . قِيلَ أَفَرَأَيْتَ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ قَالَ " إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ فَقَدْ بَهَتَّهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
মানুষের অসাক্ষাতে তার দোষ বর্ণনা করা গীবত। গীবতের দ্বারা সমাজের শান্তি বিঘ্নিত হয়, পারস্পরিক ভালবাসা ও সম্মান বিলুপ্ত হয় এবং অসাক্ষাতে দোষ বর্ণনা করার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি আত্মপক্ষ সমর্থন করা বা তার প্রতিবাদ করার সুযোগ লাভ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে তা এক জঘন্য ধরনের বে-ইনসাফী। গীবত মারাত্মক সামাজিক ব্যধি হওয়ার কারণে আল্লাহ কিয়ামতের দিন গীবতকারীকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন।
বুহতান গীবতের চেয়েও মারাত্মক। তাই ভুলক্রমেও কোন আল্লাহর বান্দার বিরুদ্ধে বুহতান বা অপবাদ আরোপ করা ঠিক নয়।
হাকিমের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষ বর্ণনা করা, পেশাদার চোর, বদমায়েশ, গুন্ডা বা মারাত্মক দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে সমাজের মানুষকে হুঁশিয়ার করা, সংশোধন করার উদ্দেশ্যে শাসক ব্যক্তি বা সরকারী আমলাদের দোষ বর্ণনা করা, বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দোষ-গুণ সম্পর্কে সঠিক রায় দান করা, পদস্থ ব্যক্তির কাছে অধীনস্থ ব্যক্তির দোষ-ত্রুটির উল্লেখ করা ইত্যাদি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
বুহতান গীবতের চেয়েও মারাত্মক। তাই ভুলক্রমেও কোন আল্লাহর বান্দার বিরুদ্ধে বুহতান বা অপবাদ আরোপ করা ঠিক নয়।
হাকিমের কাছে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে দোষ বর্ণনা করা, পেশাদার চোর, বদমায়েশ, গুন্ডা বা মারাত্মক দুষ্কৃতকারী ব্যক্তির অপরাধ সম্পর্কে সমাজের মানুষকে হুঁশিয়ার করা, সংশোধন করার উদ্দেশ্যে শাসক ব্যক্তি বা সরকারী আমলাদের দোষ বর্ণনা করা, বিবাহ-শাদীর ব্যাপারে পাত্র-পাত্রীর দোষ-গুণ সম্পর্কে সঠিক রায় দান করা, পদস্থ ব্যক্তির কাছে অধীনস্থ ব্যক্তির দোষ-ত্রুটির উল্লেখ করা ইত্যাদি গীবতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)