আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৪৭- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
হাদীস নং: ৬০১৩
আন্তর্জাতিক নং: ২৪১০-২
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
৫. সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস (রাযিঃ) এর ফযীলত
৬০১৩। কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও মুহাম্মাদ ইবনে রুমহ (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মদীনা আগমনের প্রথম সময়ে এক রাত্রে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জাগ্রত রইলেন। আর তিনি বললেনঃ আমার সাহাবীদের মধ্য হতে কোন নেক ব্যক্তি আমাকে এ রাত্রে পাহারা দিলে কতই না ভালো হতো! আয়িশা (রাযিঃ) বলেন যে, এমতাবস্থায়ই আমরা অস্ত্রের ঝনঝন শব্দ শুনতে পেলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এ কে? তিনি বললেন, সা’দ ইবনে আবু ওয়াক্কাস। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এসেছো? তোমার আসার কারণ? তিনি [সা’দ (রাযিঃ)] বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ব্যাপারে আমার মনে ভয় জেগেছে, তাই তাকে পাহারা দিতে এলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর জন্যে দুআ করলেন, তারপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন। ইবনে রুমহ (রাহঃ) এর বর্ণনায় আছে, “আমরা বললাম, ইনি কে”?
كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم
باب فِي فَضْلِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ رضى الله عنه
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَامِرِ بْنِ رَبِيعَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ سَهِرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَقْدَمَهُ الْمَدِينَةَ لَيْلَةً فَقَالَ " لَيْتَ رَجُلاً صَالِحًا مِنْ أَصْحَابِي يَحْرُسُنِي اللَّيْلَةَ " . قَالَتْ فَبَيْنَا نَحْنُ كَذَلِكَ سَمِعْنَا خَشْخَشَةَ سِلاَحٍ فَقَالَ " مَنْ هَذَا " . قَالَ سَعْدُ بْنُ أَبِي وَقَّاصٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَا جَاءَ بِكَ " . قَالَ وَقَعَ فِي نَفْسِي خَوْفٌ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَجِئْتُ أَحْرُسُهُ . فَدَعَا لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ نَامَ . وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ رُمْحٍ فَقُلْنَا مَنْ هَذَا
হাদীসের ব্যাখ্যা:
যখন কোন বান্দার অন্তরে আল্লাহর কোন খাছ বান্দার প্রতি ঐ খাঁটি ভালবাসা সৃষ্টি হয়ে যায়- যাকে এশক ও প্রেম বলা হয়, তখন অনেক সময় এমন হয় যে, প্রেমাস্পদের অন্তরে যে অবস্থা ও ভাব সৃষ্টি হয়, প্রেমিকের অন্তরে এর প্রভাব পড়ে। হযরত আয়েশা রাযি. যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, এটা ঐ বাস্তবতারই একটি দৃষ্টান্ত। হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.- যিনি প্রথম যুগের মুসলমান, তাঁর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর প্রতি এ পর্যায়ের এশকের সম্পর্ক ছিল। এর ফল এই ছিল যে, কোন সাময়িক আশংকার কারণে ঘুম না আসার যেভাব ও আকাঙ্খা হুযুর (ﷺ)-এর অন্তরে জাগ্রত হল যে, কোন পুণ্যবান ব্যক্তি যদি এ সময় এসে যেত, আর আমার পাহারাদারী করত, তাহলে আমি নিশ্চিন্তে ঘুম যেতে পারতাম। এর প্রভাব হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রাযি.-এর অন্তরে পড়ল এবং তিনি তীর, ধনুক, বল্লম ইত্যাদিতে সজ্জিত হয়ে হুযুর (ﷺ)-এর নিরাপত্তা বিধানের উদ্দেশ্যে এসে গেলেন, নিঃসন্দেহে হযরত সা'দ ইবনে আবী ওয়াক্কাসের অন্তরে হুযূর (ﷺ)-এর প্রতি এ পর্যায়ের এশক আল্লাহ তা'আলার এক বিরাট নেয়ামত এবং তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রতীক।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)