আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ

৪৭- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল

হাদীস নং: ৫৯৭২
আন্তর্জাতিক নং: ২৩৮৯-২
- সাহাবায়ে কিরামের রাঃ মানাকিব ও ফাযায়েল
২. উমর (রাযিঃ) এর ফযীলত
৫৯৭২। ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... উমর ইবনে সাঈদ (রাযিঃ) থেকে একই সনদে অনুরূপ (হাদীস বর্ণনা করেন)।
كتاب فضائل الصحابة رضى الله تعالى عنهم
باب مِنْ فَضَائِلِ عُمَرَ رضى الله تعالى عنه
وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ، عَنْ عُمَرَ بْنِ سَعِيدٍ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ بِمِثْلِهِ .

হাদীসের ব্যাখ্যা:

হযরত আলী রাযি.-এর এ বক্তব্য কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না। এতে তিনি যে বলেছেন: "আল্লাহর কসম! আমি এটাই ধারণা করতাম যে, আল্লাহ্ আপনাকে আপনার দু'সাথী (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বকর সিদ্দীক)-এর সঙ্গেই করে দিবেন।" এর অর্থ এটাও হতে পারে যে, আমার এটাই আশা ছিল যে, আপনি তাঁদের সাথেই সমাহিত হবেন। আর এ অর্থও হতে পারে যে, আখেরাতে জান্নাতে আপনাকে তাঁদের সাথী বানিয়ে দেওয়া হবে। আর উভয় অর্থও নেওয়া যেতে পারে। অধম সংকলকের নিকট এটাই প্রাধান্যযোগ্য। হযরত আলী রাযি. এ বক্তব্যে এ বাস্তব সত্যটি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করে দিয়েছেন যে, রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর আপন এ দু'সাথীর সাথে তাঁর এমন বিশেষ সম্পর্ক ছিল, যা কেবল তাঁদের ভাগ্যেই জুটেছিল।

হযরত আলী রাযি. নিজের এ বক্তব্যের শুরুতে এই কথা বলেছেন, مَا خَلَّفْتَ أَحَدًا أَحَبَّ إِلَيَّ أَنْ أَلْقَى اللَّهَ بِمِثْلِ عَمَلِهِ مِنْكَ (অর্থাৎ, আপনি আপনার পর আল্লাহর এমন কোন বান্দা ছেড়ে যাননি, যার আমলের মত আমল নিয়ে আল্লাহর দরবারে হাজির হওয়া আমি পছন্দ করব।) এর দ্বারা জানা গেল যে, হযরত আলী রাযি.-এর অপছন্দ ও বাসনা ছিল যে, আমি আল্লাহর দরবারে হযরত উমরের ন্যায় আমল নিয়ে যদি উপস্থিত হতে পারতাম। আর হযরত উমরের পর এমন কোন ব্যক্তি রইলেন না।

হাফেয ইবনে হাজার (রহঃ) এ হাদীসেরই ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছেন:

وَقَدْ أَخْرَجَ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَمُسَدَّدٌ مِنْ طَرِيقِ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيٍّ نَحْوَ هَذَا الْكَلَامِ، وَسَنَدُهُ صَحِيحٌ، وَهُوَ شَاهِدٌ جَيِّدٌ لِحَدِيثِ ابْنِ عَبَّاسٍ، كَوْنُ مُخْرَجِهِ مِنْ آلِ عَلِيٍّ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ.

অর্থাৎ, ইবনে আবী শায়বা ও মুসাদ্দাদ হযরত জাফর সাদেকের সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি নিজের পিতা মুহাম্মদ (বাকের) থেকে স্বয়ং হযরত আলী রাযি.-এর মুখ নিসৃত এ ধরনের বক্তব্য বর্ণনা করেছেন। এর বর্ণনাসূত্র বিশুদ্ধ এবং ইবনে আব্বাসের বর্ণনার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করে। কেননা, এটা স্বয়ং হযরত আলী রাযি.-এর আওলাদের বর্ণনা। -ফতহুল বারী, খণ্ড-১৪, পৃষ্ঠা-৩৭৪
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)