আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

১৯- জানাযার অধ্যায়

হাদীস নং: ১২৫৭
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৩৮
- জানাযার অধ্যায়
৮৫০. মৃত ব্যক্তি (দাফনকারীদের) জুতার শব্দ শুনতে পায়।
১২৫৭। আইয়্যাশ ও খলীফা (রাহঃ) ......... আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দাকে যখন তার কবরে রাখা হয় এবং তাকে পিছনে রেখে তার সাথীরা চলে যায় (এতটুকু দূরে যে,) তখনও সে তাদের জুতার শব্দ শুনতে পায়, এমন সময় তার কাছে দু’জন ফিরিশতা এসে তাকে বসিয়ে দেন। এরপর তাঁরা প্রশ্ন করেন, এই যে মুহাম্মাদ ﷺ, তাঁর সম্পর্কে তুমি কি বলতে? তখন সে বলবে, আমি তো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা এবং তাঁর রাসূল। তখন তাঁকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার অবস্থানের জায়গাটি দেখে নাও, যার পরিবর্তে আল্লাহ পাক তোমার জন্য জান্নাতে একটি স্থান নির্ধারিত করেছেন। নবী (ﷺ) বলেনঃ তখন সে দু’টি স্থান একই সময়ে দেখতে পাবে। আর যারা কাফির বা মুনাফিক, তারা বলবে, আমি জানিনা। (তবে) অন্য লোকেরা যা বলতো আমিও তাই বলতাম। তখন তাকে বলা হবে, না তুমি নিজে জেনেছ, না তিলাওয়াত করে শিখেছ। এরপর তার দু’কানের মধ্যবর্তী স্থানে লোহার মুগুর দিয়ে প্রচণ্ড জোরে আঘাত করা হবে, এতে সে চিৎকার করে উঠবে, মানুষ ও জ্বীন ব্যতীত তার আশেপাশের সকলেই তা শুনতে পাবে।
كتاب الجنائز
باب الْمَيِّتُ يَسْمَعُ خَفْقَ النِّعَالِ
1338 - حَدَّثَنَا عَيَّاشٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، قَالَ: وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " العَبْدُ إِذَا وُضِعَ فِي قَبْرِهِ، وَتُوُلِّيَ وَذَهَبَ أَصْحَابُهُ حَتَّى إِنَّهُ لَيَسْمَعُ قَرْعَ نِعَالِهِمْ، أَتَاهُ مَلَكَانِ، فَأَقْعَدَاهُ، فَيَقُولاَنِ لَهُ: مَا كُنْتَ تَقُولُ فِي هَذَا الرَّجُلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ فَيَقُولُ: أَشْهَدُ أَنَّهُ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، فَيُقَالُ: انْظُرْ إِلَى مَقْعَدِكَ مِنَ النَّارِ أَبْدَلَكَ اللَّهُ بِهِ مَقْعَدًا مِنَ الجَنَّةِ، قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " فَيَرَاهُمَا جَمِيعًا، وَأَمَّا الكَافِرُ - أَوِ المُنَافِقُ - فَيَقُولُ: لاَ أَدْرِي، كُنْتُ أَقُولُ مَا يَقُولُ النَّاسُ، فَيُقَالُ: لاَ دَرَيْتَ وَلاَ تَلَيْتَ، ثُمَّ يُضْرَبُ بِمِطْرَقَةٍ مِنْ حَدِيدٍ ضَرْبَةً بَيْنَ أُذُنَيْهِ، فَيَصِيحُ صَيْحَةً يَسْمَعُهَا مَنْ يَلِيهِ إِلَّا الثَّقَلَيْنِ "

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তিকে তিনটি সওয়াল করেন। আলোচ্য হাদীসে মাত্র একটি প্রশ্নের বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। যেহেতু অবশিষ্ট দুটি প্রশ্ন এ প্রশ্নটির সহায়ক তাই একটি প্রশ্নের জওয়াব প্রদান করলেই তিনটি প্রশ্নের জওয়াব পাওয়া যাবে। এজন্য কোন কোন হাদীসে এই প্রধান প্রশ্ন উল্লেখিত হয়েছে। কুরআন ও হাদীসের পদ্ধতি হল কোন কোন সময় একই ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়। আবার কোন সময় তার অংশ বিশেষ উল্লেখিত হয়।

একটি নীতিগত বিষয় পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর হাদীসে কোন লেখ্য প্রবন্ধ নয় বরং সাধারণ মজলিসে প্রদত্ত ভাষণ। কোন শিক্ষক এবং নেতা যখন কোন মাহফিলে ভাষণ দান করেন তখন খুব স্বাভাবিক ভাবেই কোন সময় একটি ঘটনা বিশদভাবে বর্ণনা করেন আবার কোন সময় তার অংশবিশেষ উল্লেখ করেন।

হযরত আনাস (রা) এর বর্ণিত আলোচ্য হাদীসে কবরের উল্লেখ রয়েছে। অন্যান্য হাদীসেও অনুরূপভাবে কবরের বিষয় উল্লেখিত হয়েছে। এ থেকে এ ধারণা যেন না করা হয় যে, যাদেরকে কবরে দাফন করা হবে শুধুমাত্র তাদের সাথে উক্ত প্রশ্ন সম্পর্কিত। উল্লেখ্য এসব হাদীসে কবরের বর্ণনা এজন্য প্রদান করা হয়েছে যে, সাধারণত মৃত ব্যক্তিদেরকে কবরেই দাফন করা হয় এবং শ্রোতাগণ মৃত ব্যক্তিকে কবরে দাফন করার পদ্ধতি সম্পর্কেই ওয়াকেফহাল ছিলেন। মনে রাখতে হবে যে, ফিরিশতাগণ সকল মৃতব্যক্তিকেই প্রশ্ন করেন, এমন কি মৃত ব্যক্তিকে যদি সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া হয় বা আগুনে পোড়ানো হয় বা হিংস্র প্রাণি মৃতব্যক্তির লাশ খেয়েও ফেলে। পূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, সওয়াল-জওয়াবের ব্যাপারটি মৃতব্যক্তির আত্মার সাথে সম্পর্কিত। শরীর যেখানেই থাকুক এবং যে অবস্থায়ই থাকুক না কেন তার উপর তার প্রভাব অবশ্যই পড়বে। স্বপ্নের উদাহরণের দ্বারা এ বিষয়টি সুস্পষ্ট করা যায়। স্বপ্নে মানুষ অনেক কিছুই করে কথাবার্তা বলে, খাদ্য গ্রহণ করে কিন্তু তার সাথের ব্যক্তি কোন কিছুই দেখতে পায় না বা শুনতে পায় না। অনুরূপভাবে মৃতব্যক্তির লাশ যখন আমাদের সামনে দু'চারদিন পড়ে থাকে তখন ফিরিশতাগণ তাকে যে সাওয়াল জওয়াব করেন বা তাকে যে শাস্তি দান করেন তার আওয়াজ আমরা শুনতে পাই না।

কোন কোন আহাম্মক ব্যক্তি সন্দেহ প্রকাশ করে থাকে যে, কবরের মধ্যে ফিরিশতাগণ কি করে প্রবেশ করেন? তাদের মনে রাখতে হবে যে, ফিরিশতাগণের আকৃতি মানুষের মত নয়। তারা যে কোন স্থানে যে কোন অবস্থায় হাযির হতে পারেন। কবরে প্রবেশ করার জন্য কোনরূপ দরজা জানালা প্রয়োজন নেই। সূর্যের কিরণ যেরূপ কাঁচ ভেদ করতে সক্ষম ঠিক সেরূপ আল্লাহ্ প্রদত্ত কুদরতের দ্বারা ফিরিশতাগণ পাথরও ভেদ করতে পারেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)