আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

১৯- জানাযার অধ্যায়

হাদীস নং: ১২৪৯
আন্তর্জাতিক নং: ১৩৩০
- জানাযার অধ্যায়
৮৪৪. কবরের উপরে মসজিদ বানানো অপছন্দনীয়।
হাসান ইবনে আলী (রাযিঃ)-এর ওফাত হলে তাঁর স্ত্রী এক বছর যাবৎ তাঁর কবরের উপর একটি কুব্বা (তাবু) স্থাপন করে রাখেন, পরে তিনি সেটা উঠিয়ে নেন। তখন লোকেরা (অদৃশ্য) আওয়াজ দাতাকে বলতে শুনলেন, ওহে! তারা কি হারানো বস্তু ফিরে পেয়েছে? অপর একজন জওয়াব দিল, না; বরং নিরাশ হয়ে ফিরে গিয়েছে।
১২৪৯। উবাইদুল্লাহ ইবনে মুসা (রাহঃ) ......... আয়িশা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (ﷺ) যে রোগে ইনতিকাল করেছিলেন, সে রোগাবস্থায় তিনি বলেছিলেনঃ ইয়াহুদী ও নাসারা সম্প্রদায়ের প্রতি আল্লাহর লা’নত, তারা তাদের নবীদের কবরকে মসজিদে পরিণত করেছে। আয়িশা (রাযিঃ) বলেন, সে আশঙ্কা না থাকলে তাঁর (নবী (ﷺ) এর) কবরকে উম্মুক্ত রাখা হত, কিন্তু আমার আশঙ্কা যে, (খুলে দেয়া হলে) একে মসজিদে পরিণত করা হবে।*

*কবরকে মসজিদে পরিনত করার অর্থ হচ্ছে, কবরে সিজদা করা, যা অজ্ঞ লোকজন কবরস্থ নবী-রাসূল ও ওলীগণের সম্মানার্থে করে থাকে অথচ এটা হচ্ছে অন্যতম শিরক।
كتاب الجنائز
بَابُ مَا يُكْرَهُ مِنَ اتِّخَاذِ المَسَاجِدِ عَلَى القُبُورِوَلَمَّا «مَاتَ الحَسَنُ بْنُ الحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ» ضَرَبَتِ امْرَأَتُهُ القُبَّةَ عَلَى قَبْرِهِ سَنَةً، ثُمَّ رُفِعَتْ، فَسَمِعُوا صَائِحًا يَقُولُ: أَلاَ هَلْ وَجَدُوا مَا فَقَدُوا، فَأَجَابَهُ الآخَرُ: بَلْ يَئِسُوا فَانْقَلَبُوا "
1330 - حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُوسَى، عَنْ شَيْبَانَ، عَنْ هِلاَلٍ هُوَ الوَزَّانُ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ فِي مَرَضِهِ الَّذِي مَاتَ فِيهِ: «لَعَنَ اللَّهُ اليَهُودَ وَالنَّصَارَى، اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسْجِدًا» ، قَالَتْ: وَلَوْلاَ ذَلِكَ لَأَبْرَزُوا قَبْرَهُ غَيْرَ أَنِّي أَخْشَى أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا

হাদীসের ব্যাখ্যা:

কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূলুল্লাহ্ এ কথাটিও ঐ ভাষণে বলেছিলেন, যা তিনি ওফাতের পাঁচ দিন পূর্বে মিম্বরে বসে দিয়েছিলেন। অপর কোন কোন রিওয়ায়াত দ্বারা জানা যায় যে, হুযুর (ﷺ) রোগের তীব্রতার সময়-যখন তিনি নিজের বিছানায়ই ছিলেন, এ কথাটি বলেছিলেন। যুক্তির কথা এই যে, এ কথাটি তিনি রোগের তীব্রতার সময় বিছানায় শুয়েই বলেছিলেন এবং মসজিদের সাধারণ ভাষণেও বলেছিলেন। কেননা, হুযুর (ﷺ)-এর এ ব্যাপারে বিরাট দুশ্চিন্তা ছিল যে, আমার পর আমার উম্মতের লোকেরা আমার কবরের সাথে ঐ আচরণ করে কিনা, যে আচরণ ইয়াহুদী ও নাসারাগণ তাদের নবীদের কবরের সাথে করেছে এবং এর ফলে তারা আল্লাহর অভিশাপের পাত্র হয়ে গিয়েছে।

হুযুর (ﷺ) তো এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত ছিলেন যে, আমার উম্মতের লোকেরা মূর্তিপূজার মত শিরকে কখনো লিপ্ত হবে না। কিন্তু তাঁর এ আশংকা ছিল যে, শয়তান তাদেরকে আমার ভালবাসা ও আমার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বাহানায় এ শিরকে লিপ্ত করে দিবে যে, তারা আমার কবরকে সেজদা করতে শুরু করবে। এ জন্য এ ব্যাপারে তিনি বার বার ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন শিরোনামে উম্মতকে সতর্ক করেছেন। বিশেষ করে ওফাতকালীন অসুস্থতার সময় তিনি এর প্রতি অধিক গুরুত্ব আরোপ করেছেন- সাধারণ ভাষণেও বলেছেন এবং ঘরে রোগশয্যায়ও।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)