আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৩৬- কুরবানীর অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৯৫৫
আন্তর্জাতিক নং: ১৯৭৭-৩
- কুরবানীর অধ্যায়
৭. যে ব্যক্তি যিলহজ্জ মাসের প্রথম দশদিনে প্রবেশ করলো এবং কুরবানী দেওয়ার ইচ্ছা করলো তার জন্য চুল ও নখ কাটা নিষেধ
৪৯৫৫। ইবনে আবু উমর আল-মক্কী (রাহঃ) ......... উম্মে সালামা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ যখন (যিলহজ্জ মাসের) প্রথম দশদিন উপস্থিত হয়, আর তোমাদের কেউ কুরবানী করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখের কিছু স্পর্শ (কর্তন) না করে।
সুফিয়ান (রাহঃ) কে বলা হলো, কেউ কেউ তো হাদীসটিকে মারফু’ (সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে) বর্ণনা করে না। তিনি বললেন, আমি কিন্তু মারফু’-ই (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকেই) বর্ণনা করি।
সুফিয়ান (রাহঃ) কে বলা হলো, কেউ কেউ তো হাদীসটিকে মারফু’ (সরাসরি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে) বর্ণনা করে না। তিনি বললেন, আমি কিন্তু মারফু’-ই (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকেই) বর্ণনা করি।
كتاب الأضاحى
باب نَهْيِ مَنْ دَخَلَ عَلَيْهِ عَشْرُ ذِي الْحِجَّةِ وَهُوَ مُرِيدُ التَّضْحِيَةِ أَنْ يَأْخُذَ مِنْ شَعْرِهِ أَوْ أَظْفَارِهِ شَيْئًا
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ عَوْفٍ سَمِعَ سَعِيدَ بْنَ الْمُسَيَّبِ، يُحَدِّثُ عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " إِذَا دَخَلَتِ الْعَشْرُ وَأَرَادَ أَحَدُكُمْ أَنْ يُضَحِّيَ فَلاَ يَمَسَّ مِنْ شَعَرِهِ وَبَشَرِهِ شَيْئًا " . قِيلَ لِسُفْيَانَ فَإِنَّ بَعْضَهُمْ لاَ يَرْفَعُهُ قَالَ لَكِنِّي أَرْفَعُهُ .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রকৃতপক্ষে যিলহজ্জের প্রথম দশক হজ্জের দিন এবং এদিনে অনেক বিশেষ করণীয় কাজ রয়েছে। কিন্তু হজ্জ পালন করতে হয় মক্কা শরীফে গিয়ে। তাই সামর্থ্যবানের উপর জীবনে কেবল একবার তা আদায় ফরয করা হয়েছে। যে লোক সেখানে গিয়ে হজ্জ পালন করে সেই প্রকৃত অর্থে বিশেষ বরকত লাভ করে। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা প্রত্যেক মু'মিনকে এ রহমত লাভের সুযোগ করে দিয়েছেন এভাবে যে, হজ্জের দিনসমূহে যেন তারা স্ব-স্ব স্থানে থেকে হজ্জ এবং হাজীর কাজসমূহের সাথে সম্পৃক্ত কাজে অংশগ্রহণ করে এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে নেয়। ঈদুল আযহার কুরবানীর মূলে এটাই বিশেষ রহস্য। হাজীগণ ১০ই যিলহজ্জ তারিখে মিনায় আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিজ নিজ কুরবানী করে থাকেন। তবে বিশ্বের যে সকল মুসলমান হজ্জে অংশগ্রহণ করেন নি তাঁদের জন্য নির্দেশ হল, তারা যেন নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী করে। হাজীগণ যেভাবে ইহরাম বাঁধার পর চুল ও নখ কাটেন না তদ্রুপ যে সকল মুসলমান কুরবানী করতে ইচ্ছুক তারাও যেন যিলহাজ্জের চাঁদ দেখার পর চুল অথবা নখ না কাটে। এভাবে যেন তারা হাজীদের সাথে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে। কতই না চমৎকার দিক নির্দেশনা। যার উপর আমল করে প্রাচ্য-প্রতীচ্যের সকল মুসলমান হজ্জের বরকত ও নূর লাভ করে ধন্য হতে পারে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)