আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
৩৪- ইসলামী রাষ্ট্রনীতির অধ্যায়
হাদীস নং: ৪৭২৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৮৮৪
- ইসলামী রাষ্ট্রনীতির অধ্যায়
৩১. জান্নাতে মুজাহিদদের জন্যে আল্লাহ যে মর্যাদার স্তর রেখেছেন
৪৭২৬। সাঈদ ইবনে মানসুর (রাহঃ) ......... আবু সাঈদ খুদরী (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আবু সাঈদ! যে ব্যক্তি আল্লাহকে রব (প্রতিপালক) রূপে, ইসলামকে দ্বীনরূপে এবং মুহাম্মাদ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নবীরূপে গ্রহণ করে সন্তুষ্ট, তার জন্যে জান্নাত অবধারিত হয়ে গেল। আবু সাঈদ (রাযিঃ) তাতে চমকিত হয়ে গেলেন তিনি বললেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার জন্যে কথাটি আবার বলুন। তিনি তাই করলেন, তারপর বললেনঃ আর একটি (আমল এমন রয়েছে) যদ্বারা বান্দা এমন একশটি মর্যাদার স্তর লাভ করবে যার দুটো স্তরের মধ্যে ব্যবধান হবে আসমান ও যমীনের ব্যবধানের তুল্য। তখন তিনি বললেনঃ সেটি কি ইয়া রাসুলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ, আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ।
كتاب الإمارة
باب بَيَانِ مَا أَعَدَّهُ اللَّهُ تَعَالَى لِلْمُجَاهِدِ فِي الْجَنَّةِ مِنَ الدَّرَجَاتِ
حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ مَنْصُورٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، حَدَّثَنِي أَبُو هَانِئٍ الْخَوْلاَنِيُّ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ الْحُبُلِيِّ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَا أَبَا سَعِيدٍ مَنْ رَضِيَ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالإِسْلاَمِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا وَجَبَتْ لَهُ الْجَنَّةُ " . فَعَجِبَ لَهَا أَبُو سَعِيدٍ فَقَالَ أَعِدْهَا عَلَىَّ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَفَعَلَ ثُمَّ قَالَ " وَأُخْرَى يُرْفَعُ بِهَا الْعَبْدُ مِائَةَ دَرَجَةٍ فِي الْجَنَّةِ مَا بَيْنَ كُلِّ دَرَجَتَيْنِ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالأَرْضِ " . قَالَ وَمَا هِيَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ " الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
প্রকাশ থাকে, যে ব্যক্তি মনে প্রাণে আল্লাহু তা'আলাকে নিজের রব এবং সায়্যিদিনা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিজের রাসূল ও ইসলামকে নিজের দীন বানাবে, তাঁর জীবনও ইসলামী হবে। সে স্বীয় প্রভুর নির্দেশ পালনকারী এবং রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুগত হবে। এ রূপ বান্দাদেরকে তিনি সুসংবাদ প্রদান করেছেন যে, তাঁদের জন্য আল্লাহ্ তা'আলার নিকট জান্নাতের ফায়সালা হয়ে গেছে, জান্নাত তাঁদের জন্য ওয়াজিব হয়ে গেছে। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যবান মুবারক থেকে এ সুসংবাদ শুনে সীমাহীন খুশী হন। (সম্ভবত এজন্য যে, আল্লাহ্ তা'আলার দয়া ও করুণায় এ সম্পদ তাঁর অর্জিত হয়েছিল)। তিনি (আনন্দে ও আবেগের অবস্থায়) হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট নিবেদন করলেন, হুযূর! পুনরায় বলুন। তিনি পুনরায় বলেছিলেন এবং এতদসঙ্গে অতিরিক্ত বললেন, আরেকটি কাজ এরূপ যার সম্পাদনকারীকে শত উঁচু দরজা দান করবেন। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা)-এর জিজ্ঞাসার প্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এটা আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ, আল্লাহর পথে জিহাদ।
উত্তরে তিনি তিনবার বললেন, الجهاد في سبيل الله এতে প্রত্যেক আগ্রহান্বিত ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম হবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয় মুবারকে জিহাদের কীরূপ মর্যাদা, ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল। প্রকাশ থাকে যে, আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্বন্ধে কুরআন ও হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে, তাঁর পূর্ণ রহস্য সেখানে পৌঁছেই জানা যাবে। আমাদের এ জগতে এর কোন উপমা ও দৃষ্টান্ত বিদ্যমান নেই। কেবল অন্তর দিয়ে আমাদের মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করে নেওয়া উচিত যে, আল্লাহ্ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য ও সঠিক। যথা সময়ে তা প্রকাশ পাবে। ইন্শাআল্লাহ্ এটা আমরাও দেখব।
উত্তরে তিনি তিনবার বললেন, الجهاد في سبيل الله এতে প্রত্যেক আগ্রহান্বিত ব্যক্তি বুঝতে সক্ষম হবেন যে, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হৃদয় মুবারকে জিহাদের কীরূপ মর্যাদা, ভালবাসা ও আগ্রহ ছিল। প্রকাশ থাকে যে, আখিরাত, জান্নাত ও জাহান্নাম সম্বন্ধে কুরআন ও হাদীসে যা কিছু বলা হয়েছে, তাঁর পূর্ণ রহস্য সেখানে পৌঁছেই জানা যাবে। আমাদের এ জগতে এর কোন উপমা ও দৃষ্টান্ত বিদ্যমান নেই। কেবল অন্তর দিয়ে আমাদের মেনে নেওয়া ও বিশ্বাস করে নেওয়া উচিত যে, আল্লাহ্ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা সত্য ও সঠিক। যথা সময়ে তা প্রকাশ পাবে। ইন্শাআল্লাহ্ এটা আমরাও দেখব।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: