আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
২৬- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৪০৭৩
আন্তর্জাতিক নং: ১৬৩০
- অছিয়াত সম্পর্কিত অধ্যায়
২. সাদ্কার সাওয়াব মৃতব্যক্তি পর্যন্ত পৌঁছে
৪০৭৩। ইয়াহয়া ইবনে আইয়ুব, কুতায়বা ইবনে সাঈদ ও আলী ইবনে হুজর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত যে, এক ব্যক্তি নবী (ﷺ) কে জিজ্ঞাসা করলো, আমার পিতা মারা গিয়েছেন এবং তিনি কিছু সম্পদ রেখে গেছেন। কিন্তু ওসিয়াত করেননি। তার পক্ষ থেকে সাদ্কা করা হলে কি তার গুনাহ মাফ হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ।
كتاب الوصية
باب وُصُولِ ثَوَابِ الصَّدَقَاتِ إِلَى الْمَيِّتِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - وَهُوَ ابْنُ جَعْفَرٍ - عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، قَالَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم إِنَّ أَبِي مَاتَ وَتَرَكَ مَالاً وَلَمْ يُوصِ فَهَلْ يُكَفِّرُ عَنْهُ أَنْ أَتَصَدَّقَ عَنْهُ قَالَ " نَعَمْ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ হাদীসে একথাটি স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে, দান-সদাকা ইত্যাদি যেসব নেক আমল কোন মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা হয় অর্থাৎ, এর সওয়াব তাকে পৌঁছানো হয়, এগুলো তার জন্য উপকারী হয়ে থাকে এবং এর সওয়াব তার কাছে পৌছে। বিষয়টি যেন এমন, যেভাবে এ দুনিয়াতে এক ব্যক্তি তার উপার্জিত টাকা-পয়সা আল্লাহর অন্য কোন বান্দাকে দান করে তার সেবা ও সাহায্য করতে পারে এবং সেই বান্দা এর দ্বারা উপকৃত হতে পারে, তেমনিভাবে যদি কোন ঈমানদার বান্দা তার পিতা-মাতা অথবা অন্য কোন মু'মিন বান্দার পক্ষ থেকে দান-খয়রাত করে তাকে আখেরাতে উপকৃত করতে এবং তার খেদমত করতে চায়, তাহলে এসব হাদীস দৃষ্টে বুঝা যায় যে, এটা হতে পারে এবং আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর দরজা খোলা রয়েছে।
সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ্ তা'আলার কি বিরাট দয়া ও অনুগ্রহ যে, এ পথে আমরা আমাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অন্যান্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের খেদমত তাদের মৃত্যুর পরেও করে যেতে পারি এবং নিজেদের হাদিয়া-উপঢৌকন সর্বদা তাদের কাছে পাঠাতে পারি।
এ মাসআলাটি হাদীস দ্বারা সুপ্রমাণিত এবং এর উপর উম্মতের ইমামদের ইজমা ও ঐকমত্যও রয়েছে। আমাদের যুগের এমন কিছু লোক- যারা হাদীসকে কুরআনের পর শরী‘আতের দ্বিতীয় ভিত্তিমূল হিসাবেও স্বীকার করে না এবং এটাকে দ্বীনের দলীল হিসাবে মানতেও নারায, তারা এ মাসআলাটি অস্বীকার করে। এ অধম সংকলক এখন থেকে প্রায় বিশ বছর আগে এ বিষয়ের উপর একটি পৃথক পুস্তিকা লিখেছিল। এতে এ মাসআলার প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে এবং সংশয়বাদীদের প্রতিটি সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আলহামদু লিল্লাহ। পুস্তিকাটি এ বিষয়ের জ্ঞানার্জনের জন্য যথেষ্ট।
সুবহানাল্লাহ। আল্লাহ্ তা'আলার কি বিরাট দয়া ও অনুগ্রহ যে, এ পথে আমরা আমাদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও অন্যান্য হিতাকাঙ্ক্ষীদের খেদমত তাদের মৃত্যুর পরেও করে যেতে পারি এবং নিজেদের হাদিয়া-উপঢৌকন সর্বদা তাদের কাছে পাঠাতে পারি।
এ মাসআলাটি হাদীস দ্বারা সুপ্রমাণিত এবং এর উপর উম্মতের ইমামদের ইজমা ও ঐকমত্যও রয়েছে। আমাদের যুগের এমন কিছু লোক- যারা হাদীসকে কুরআনের পর শরী‘আতের দ্বিতীয় ভিত্তিমূল হিসাবেও স্বীকার করে না এবং এটাকে দ্বীনের দলীল হিসাবে মানতেও নারায, তারা এ মাসআলাটি অস্বীকার করে। এ অধম সংকলক এখন থেকে প্রায় বিশ বছর আগে এ বিষয়ের উপর একটি পৃথক পুস্তিকা লিখেছিল। এতে এ মাসআলার প্রতিটি দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়েছে এবং সংশয়বাদীদের প্রতিটি সন্দেহের উত্তর দেওয়া হয়েছে। আলহামদু লিল্লাহ। পুস্তিকাটি এ বিষয়ের জ্ঞানার্জনের জন্য যথেষ্ট।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)