আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
২৩- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৯৬৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৬০১-২
- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
১৬. জীবজন্তু ধার লওয়া বৈধ এবং তার কাছে প্রাপ্যের চেয়ে উৎকৃষ্ট (জন্তু) দ্বারা ধার পরিশোধ করা মুস্তাহাব
৩৯৬৬। আবু কুরায়ব (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একটি (বিশেষ বয়সের) উট ধার করে আনেন। অতঃপর এর চেয়ে বড় একটি উট তাকে দেন এবং বলেন, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি উত্তম, যে উত্তম ভাবে ধার পরিশোধ করে।
كتاب المساقاة والمزارعة
باب جواز اقتراض الحيوان واستحباب توفيته خيرا مما عليه
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ صَالِحٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ كُهَيْلٍ، عَنْ أَبِي، سَلَمَةَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ اسْتَقْرَضَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم سِنًّا فَأَعْطَى سِنًّا فَوْقَهُ وَقَالَ " خِيَارُكُمْ مَحَاسِنُكُمْ قَضَاءً " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বরং তার আগে আরবে সাধারণ প্রচলিত প্রথা ছিল, এক ব্যক্তি তার প্রয়োজনে অন্য ব্যক্তি হতে উট কর্জ গ্রহণ করত। আর এটা টাকা পয়সার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। বরং এরূপে ধার্য হত যে, এর সমবয়সী এ জাতীয় অন্য উট-এর পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময়ে দিতে হবে। তাই রাসুলুল্লাহ ﷺ প্রথানুযায়ী এক সময় কোন লোকের নিকট হতে উট কর্জ গ্রহণ করেছিলেন। সম্ভবত নির্ধারিত সময় এলে সে তাগাদা দিতে এসেছিল। সে শিষ্টাচার ও ভদ্রতার বিপরীতে কঠোর নীতি অবলম্বন করল। সাহাবীগণের মধ্যে যারা তখন উপস্থিত ছিলেন তাঁরা তার সাথে কঠোরতা অবলম্বনের ইচ্ছা করলেন। তিনি তাঁদের বললেন, তাকে কিছু বলো না। আমার প্রতি তার অধিকার রয়েছে। পাওনাদারের শক্ত কথা বলার অধিকার আছে। তবে তোমরা তার উটের ন্যায় একটি উট ক্রয় করে তাকে দিয়ে দাও। সাহাবীগণ অনুরূপ উট খুঁজলেন। কোথাও পেলেন না; তবে বয়স ও গঠনে সেটি থেকে বড় ও উত্তম পাওয়া যাচ্ছিল। তাঁরা ফেরত এসে নবী করীম ﷺকে একথাই বললেন। তিনি বললেন, যেটি বড় ও উত্তম সেটিই ক্রয় করে তাকে দাও। সাথে সাথে বললেন, যে ব্যক্তি অধিক ভাল ও শ্রেষ্ঠ পরিশোধ করে সেই অধিক উত্তম। আলোচ্য হাদীসে উন্মতের জন্য যে শিক্ষা রয়েছে, তা কোন ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজন রাখে না।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
কোন প্রকারেই এটা জানা যায়নি যে, হাদীসে উল্লিখিত ব্যক্তি যে তাগাদা দিতে এসে শিষ্টাচার বিরোধী নীতি অবলম্বন করেছিল লোকটি কে ছিল? প্রবল ধারণা এটাই যে, কোন অমুসলিম ইয়াহুদী ইত্যাদি হবে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)