আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
২৩- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৯১৬
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৮৭-১
- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
১৩. সুদ
৩৯১৬। উবাইদুল্লাহ ইবনে উমর কাওয়ারীরী (রাহঃ) ......... আবু কিলাবা (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি শামে (সিরিয়ায়) এক মজলিসে উপস্থিত ছিলাম। তথায় মুসলিম ইবনে ইয়াসার (রাযিঃ)ও ছিলেন। এমন সময় আবুল আশ’আস আগমন করলেন। তারা বলল, আবুল আশ’আস, আমিও বললাম, আবুল আশ-আস (এসেছেন)। অতঃপর তিনি বসলেন। আমি তাঁকে বললাম, আমাদের ভাইদের নিকট উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) এর হাদীসটি শোনান। তিনি বললেন, আচ্ছা; আমরা একবার এক যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। মুআবিয়া (রাযিঃ) ছিলেন সেনাপতি। প্রচুর পরিমাণ গনিমত আমাদের হস্তগত হয়। আমাদের এই গনিমতের মধ্যে রূপার একটা পাত্রও ছিল। মুআবিয়া (রাযিঃ) সেটি লোকদের বেতন-ভাতার বিনিময়ে বিক্রি করার জন্য একজনকে আদেশ দান করেন। এ ব্যাপারে সকলেই আগ্রহ প্রকাশ করল।
উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি দণ্ডায়মান হন এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিষেধ করতে শুনেছি- স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবনের বিনিময়ে লবন বিক্রি করতে, পরিমাণে সমান সমান ও নগদ নগদ ব্যতিরেকে। যে অতিরিক্ত দিবে বা অতিরিক্ত গ্রহণ করবে সে সুদের কাজ কারবার করল।
এরপর লোকজন যা কিছু নিয়েছিল তা ফেরত দিল এবং মুআবিয়া (রাযিঃ) এর নিকট এ সংবাদ পৌছে দিল। তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, মানুষের একি আবস্থা হল, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এমন বহু হাদীস বর্ণনা করেন যা আমরা তাঁর থেকে শুনি নাই অথচ আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত থাকতাম এবং তাঁরই সান্নিধ্য লাভ করতাম। এরপর উবাদা (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং বর্ণনার পুনরাবৃত্তি করে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা কিছু শুনেছি তা অবশ্যই বর্ণনা করব, যদিও মুআবিয়া (রাযিঃ) তা অপছন্দ করেন অথবা বলেছেন যে, যদিও মুআবিয়া তাতে অপমানিত বোধ করেন। আমি পরোয়া করি না যে, তার বাহিনীতে এক কালো রাত্র না থাকি। হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, তিনি এ কথাই বলেছেন কিংবা এর অনুরূপ কিছু।
উবাদা ইবনে সামিত (রাযিঃ) এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছলে তিনি দণ্ডায়মান হন এবং বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে নিষেধ করতে শুনেছি- স্বর্ণের বিনিময়ে স্বর্ণ, রৌপ্যের বিনিময়ে রৌপ্য, গমের বিনিময়ে গম, যবের বিনিময়ে যব, খেজুরের বিনিময়ে খেজুর ও লবনের বিনিময়ে লবন বিক্রি করতে, পরিমাণে সমান সমান ও নগদ নগদ ব্যতিরেকে। যে অতিরিক্ত দিবে বা অতিরিক্ত গ্রহণ করবে সে সুদের কাজ কারবার করল।
এরপর লোকজন যা কিছু নিয়েছিল তা ফেরত দিল এবং মুআবিয়া (রাযিঃ) এর নিকট এ সংবাদ পৌছে দিল। তিনি ভাষণ দিতে দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেন, মানুষের একি আবস্থা হল, তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে এমন বহু হাদীস বর্ণনা করেন যা আমরা তাঁর থেকে শুনি নাই অথচ আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত থাকতাম এবং তাঁরই সান্নিধ্য লাভ করতাম। এরপর উবাদা (রাযিঃ) দাঁড়ালেন এবং বর্ণনার পুনরাবৃত্তি করে বললেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে যা কিছু শুনেছি তা অবশ্যই বর্ণনা করব, যদিও মুআবিয়া (রাযিঃ) তা অপছন্দ করেন অথবা বলেছেন যে, যদিও মুআবিয়া তাতে অপমানিত বোধ করেন। আমি পরোয়া করি না যে, তার বাহিনীতে এক কালো রাত্র না থাকি। হাম্মাদ (রাহঃ) বলেন, তিনি এ কথাই বলেছেন কিংবা এর অনুরূপ কিছু।
كتاب المساقاة والمزارعة
باب الرِّبَا
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، قَالَ كُنْتُ بِالشَّامِ فِي حَلْقَةٍ فِيهَا مُسْلِمُ بْنُ يَسَارٍ فَجَاءَ أَبُو الأَشْعَثِ قَالَ قَالُوا أَبُو الأَشْعَثِ أَبُو الأَشْعَثِ . فَجَلَسَ فَقُلْتُ لَهُ حَدِّثْ أَخَانَا حَدِيثَ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ . قَالَ نَعَمْ غَزَوْنَا غَزَاةً وَعَلَى النَّاسِ مُعَاوِيَةُ فَغَنِمْنَا غَنَائِمَ كَثِيرَةً فَكَانَ فِيمَا غَنِمْنَا آنِيَةٌ مِنْ فِضَّةٍ فَأَمَرَ مُعَاوِيَةُ رَجُلاً أَنْ يَبِيعَهَا فِي أَعْطِيَاتِ النَّاسِ فَتَسَارَعَ النَّاسُ فِي ذَلِكَ فَبَلَغَ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ فَقَامَ فَقَالَ إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَنْهَى عَنْ بَيْعِ الذَّهَبِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ بِالْفِضَّةِ وَالْبُرِّ بِالْبُرِّ وَالشَّعِيرِ بِالشَّعِيرِ وَالتَّمْرِ بِالتَّمْرِ وَالْمِلْحِ بِالْمِلْحِ إِلاَّ سَوَاءً بِسَوَاءٍ عَيْنًا بِعَيْنٍ فَمَنْ زَادَ أَوِ ازْدَادَ فَقَدْ أَرْبَى . فَرَدَّ النَّاسُ مَا أَخَذُوا فَبَلَغَ ذَلِكَ مُعَاوِيَةَ فَقَامَ خَطِيبًا فَقَالَ أَلاَ مَا بَالُ رِجَالٍ يَتَحَدَّثُونَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَحَادِيثَ قَدْ كُنَّا نَشْهَدُهُ وَنَصْحَبُهُ فَلَمْ نَسْمَعْهَا مِنْهُ . فَقَامَ عُبَادَةُ بْنُ الصَّامِتِ فَأَعَادَ الْقِصَّةَ ثُمَّ قَالَ لَنُحَدِّثَنَّ بِمَا سَمِعْنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَإِنْ كَرِهَ مُعَاوِيَةُ - أَوْ قَالَ وَإِنْ رَغِمَ - مَا أُبَالِي أَنْ لاَ أَصْحَبَهُ فِي جُنْدِهِ لَيْلَةً سَوْدَاءَ . قَالَ حَمَّادٌ هَذَا أَوْ نَحْوَهُ.
হাদীসের ব্যাখ্যা:
এ-বিষয়ক হাদীসসমূহ হযরত আবূ সাঈদ খুদরী (রা) হযরত উমর (রা) হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা) হযরত আবু বকর (রা) হযরত আবু হুরায়রা (রা) প্রমুখসহ আরো অনেক সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। এসব হাদীসের দাবি ও উদ্দেশ্য এই যে, যে ছয় জিনিসের কথা এ হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে (অর্থাৎ সোনা, রূপা, গম, যব (বার্লি), খেজুর, লবণ) যদি এ সবের কোন জাতের সাথে সে জাতীয় জিনিস দ্বারা বিনিময় করা হয় (যেমন গম দিয়ে এর বিনিময়ে গম নেয়া হয়) তবে এ বিষয় তখনই বৈধ হবে যখন উভয় দ্রব্য সমান ও নগদ আদান-প্রদান হবে। যদি কম বেশি হয় অথবা লেন-দেন নগদ (হাতে হাতে) না হয়, বরং ঋণ ও ধারের কথাবার্তা হয় তবে তা বৈধ হবে না বরং এটা এক প্রকার সুদের ব্যাপার হবে। এতে উভয় পক্ষ সুদের পাপে জড়িত হবে।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (র) 'হজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে এ সব হাদীসের ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তার মর্মকথা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে এবং তাঁর পূর্বে জাহিলী যুগে যে সুদের প্রচলন ছিল এবং যাকে 'রিবা' বলা হত তা যখন ঋণ ও ধার জাতীয় সুদ ছিল। যার নমুনা (যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) এরূপ ছিল যে, যে সব পুঁজিপতি মহাজন সুদী ব্যবসা করত অভাবী লোকজন তাদের নিকট থেকে ঋণ করত এবং এ বিষয় নির্ধারিত হত যে, এতে অতিরিক্তসহ অমুক সময় পর্যন্ত পরিশোধ করবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ে সে পরিশোধ করতে সক্ষম না হত তবে আরো সময় নিত আর এ সময়ের হিসাবের মধ্যে সুদের টাকায় আরো অতিরিক্ত নির্ধারিত হত। (শাহ্ সাহেব বলেন,) এ সুদী কারবারেরই প্রচলন ছিল। আর এটাকেই রিবা বলা হত। কুরআন মাজীদে সরাসরি ইহাকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলারই নির্দেশে ক্রয়-বিক্রয়ের কোন কোন পন্থাও রিবার নির্দেশে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেন এবং এ থেকেও বাঁচার তাকিদ প্রদান করেন। এসব হাদীসে এ ঘোষণাই করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ও দাবি হচ্ছে হাদীসে বর্ণিত উপরোল্লিখিত ছয়টি দ্রব্যের মধ্যে কোন প্রকার যদি অনুরূপ জাতীয় দ্রব্যের সাথে বিনিময় করা হয় তবে শর্ত হচ্ছে কোন ভাগে কম-বেশি হবে না, বরং সমান সমান হবে এবং লেন-দেন নগদ হবে। যদি বিনিময়ের মধ্যে কম-বেশি হয় অথবা লেন-দেন নগদ না হয় তবে তা এক প্রকার সুদ হবে এবং উভয় পক্ষ গুনাহগার হবে
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (র) স্বীয় রীতি অনুযায়ী এ নির্দেশের যে দর্শন বর্ণনা করেছেন, তার সারকথা হচ্ছে- আল্লাহ তা'আলা বিলাসী ও অতি উঁচুস্তরের জাঁক-জমকের জীবন-যাপন পছন্দ করেন না। কেননা যে ব্যক্তি অতি উচুস্তরের বিলাসী জীবন-যাপন করবে সে অবশ্যম্ভাবীরূপে দুনিয়া অম্বেষণে বেশি জড়িত হবে। পক্ষান্তরে আখিরাতের জীবনকে সুন্দর করতে ও আত্মার পবিত্রতার চিন্তা থেকে অতটুকুই গাফিল হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত উঁচুনিচুর ফলে সমাজে যে বিভিন্ন প্রকার ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয় তা সৃষ্টি হবে। বিলাসী ও উঁচু পর্যায়ের জীবনের দাবি হচ্ছে প্রতিটি জিনিস উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টতর ও উন্নত মানের ব্যবহার করা হবে। গম উন্নত মানের খাওয়া হবে, খেজুর উন্নতমানের খাওয়া হবে, সোনা-রূপা উৎকৃষ্ট মানের ব্যবহার করা হবে। যার বাস্তব নমুনা প্রায়ই এরকম হয়ে থাকে যে, যদি নিজের নিকট উত্তম দ্রব্য না থাকে বরং নিম্নমানের থাকে তবে সে বেশি পরিমাণ দিয়ে তার পরিবর্তে উত্তম মানের অল্প পরিমাণ নিয়ে নেয়। বস্তুত কম-বেশি করে এক দ্রব্য অনুরূপ দ্রব্য দিয়ে বিনিময় করা সাধারণত বিলাসী ও উঁচু জীবন যাপনের দাবি থেকে হত। তাই এর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এ পথে বাধা প্রদান করা হয়। এবং একটা সীমা পর্যন্ত তা বন্ধ করা হয়।
আল্লাহই এ নির্দেশের রহস্য ভাল জানেন। হাদীসে কেবল উল্লেখিত ছয়টি জিনিস সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উম্মতের ফকীহ-মুজতাহিদগণ এ বিষয়ে প্রায় ঐক্যমত পোষণ করেন যে, এই ছয়টি জিনিস ছাড়াও যে সব জিনিস উক্ত প্রকারের সেগুলোরও হুকুম এটাই। যদিও বিস্তারিত বিবরণে ফকীহগণের অভিমতের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য ও মতভেদ রয়েছে।
হযরত শাহ ওয়ালী উল্লাহ (র) 'হজ্জাতুল্লাহিল বালিগা' গ্রন্থে এ সব হাদীসের ব্যাখ্যায় যা বলেছেন তার মর্মকথা হচ্ছে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে এবং তাঁর পূর্বে জাহিলী যুগে যে সুদের প্রচলন ছিল এবং যাকে 'রিবা' বলা হত তা যখন ঋণ ও ধার জাতীয় সুদ ছিল। যার নমুনা (যেমন পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে) এরূপ ছিল যে, যে সব পুঁজিপতি মহাজন সুদী ব্যবসা করত অভাবী লোকজন তাদের নিকট থেকে ঋণ করত এবং এ বিষয় নির্ধারিত হত যে, এতে অতিরিক্তসহ অমুক সময় পর্যন্ত পরিশোধ করবে। এরপর যদি নির্ধারিত সময়ে সে পরিশোধ করতে সক্ষম না হত তবে আরো সময় নিত আর এ সময়ের হিসাবের মধ্যে সুদের টাকায় আরো অতিরিক্ত নির্ধারিত হত। (শাহ্ সাহেব বলেন,) এ সুদী কারবারেরই প্রচলন ছিল। আর এটাকেই রিবা বলা হত। কুরআন মাজীদে সরাসরি ইহাকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে। এরপর রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা'আলারই নির্দেশে ক্রয়-বিক্রয়ের কোন কোন পন্থাও রিবার নির্দেশে অন্তর্ভুক্তির ঘোষণা দেন এবং এ থেকেও বাঁচার তাকিদ প্রদান করেন। এসব হাদীসে এ ঘোষণাই করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ও দাবি হচ্ছে হাদীসে বর্ণিত উপরোল্লিখিত ছয়টি দ্রব্যের মধ্যে কোন প্রকার যদি অনুরূপ জাতীয় দ্রব্যের সাথে বিনিময় করা হয় তবে শর্ত হচ্ছে কোন ভাগে কম-বেশি হবে না, বরং সমান সমান হবে এবং লেন-দেন নগদ হবে। যদি বিনিময়ের মধ্যে কম-বেশি হয় অথবা লেন-দেন নগদ না হয় তবে তা এক প্রকার সুদ হবে এবং উভয় পক্ষ গুনাহগার হবে
হযরত শাহ ওয়ালীউল্লাহ (র) স্বীয় রীতি অনুযায়ী এ নির্দেশের যে দর্শন বর্ণনা করেছেন, তার সারকথা হচ্ছে- আল্লাহ তা'আলা বিলাসী ও অতি উঁচুস্তরের জাঁক-জমকের জীবন-যাপন পছন্দ করেন না। কেননা যে ব্যক্তি অতি উচুস্তরের বিলাসী জীবন-যাপন করবে সে অবশ্যম্ভাবীরূপে দুনিয়া অম্বেষণে বেশি জড়িত হবে। পক্ষান্তরে আখিরাতের জীবনকে সুন্দর করতে ও আত্মার পবিত্রতার চিন্তা থেকে অতটুকুই গাফিল হবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত উঁচুনিচুর ফলে সমাজে যে বিভিন্ন প্রকার ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয় তা সৃষ্টি হবে। বিলাসী ও উঁচু পর্যায়ের জীবনের দাবি হচ্ছে প্রতিটি জিনিস উৎকৃষ্ট থেকে উৎকৃষ্টতর ও উন্নত মানের ব্যবহার করা হবে। গম উন্নত মানের খাওয়া হবে, খেজুর উন্নতমানের খাওয়া হবে, সোনা-রূপা উৎকৃষ্ট মানের ব্যবহার করা হবে। যার বাস্তব নমুনা প্রায়ই এরকম হয়ে থাকে যে, যদি নিজের নিকট উত্তম দ্রব্য না থাকে বরং নিম্নমানের থাকে তবে সে বেশি পরিমাণ দিয়ে তার পরিবর্তে উত্তম মানের অল্প পরিমাণ নিয়ে নেয়। বস্তুত কম-বেশি করে এক দ্রব্য অনুরূপ দ্রব্য দিয়ে বিনিময় করা সাধারণত বিলাসী ও উঁচু জীবন যাপনের দাবি থেকে হত। তাই এর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে এ পথে বাধা প্রদান করা হয়। এবং একটা সীমা পর্যন্ত তা বন্ধ করা হয়।
আল্লাহই এ নির্দেশের রহস্য ভাল জানেন। হাদীসে কেবল উল্লেখিত ছয়টি জিনিস সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে উম্মতের ফকীহ-মুজতাহিদগণ এ বিষয়ে প্রায় ঐক্যমত পোষণ করেন যে, এই ছয়টি জিনিস ছাড়াও যে সব জিনিস উক্ত প্রকারের সেগুলোরও হুকুম এটাই। যদিও বিস্তারিত বিবরণে ফকীহগণের অভিমতের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য ও মতভেদ রয়েছে।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: