আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
২৩- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৮৫২
আন্তর্জাতিক নং: ১৫৬১
- চাষাবাদ ও সেচকার্য সম্পর্কিত অধ্যায়
৫. গরীবকে সময় দেওয়ার ফযীলত এবং ধনী ও গরীব দেনাদারের নিকট থেকে পাওনা আদায়ের ব্যপারে সহানুভূতি প্রদর্শন
৩৮৫২। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া, আবু বকর ইবনে আবি শাঈবা, আবু কুরায়ব ও ইসহাক ইবনে ইবরাহীম (রাহঃ) ......... আবু মাসউদ (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের মধ্যে এক লোকের হিসাব গ্রহণ করা হয়, কিন্তু তার মধ্যে কোন প্রকার ভাল আমল পাওয়া যায়নি। কিন্তু সে মানুষের সাথে লেন-দেন করত এবং সে ছিল সচ্ছল। তাই দরিদ্র লোকদের মাফ করে দেওয়ার জন্য সে তার কর্মচারীদের নির্দেশ দিত। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ বললেনঃ এ ব্যাপারে আমরা তার চেয়ে অধিকযোগ্য। একে ক্ষমা করে দাও।
كتاب المساقاة والمزارعة
باب فَضْلِ إِنْظَارِ الْمُعْسِرِ
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، وَأَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ وَأَبُو كُرَيْبٍ وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ - وَاللَّفْظُ لِيَحْيَى - قَالَ يَحْيَى أَخْبَرَنَا وَقَالَ الآخَرُونَ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " حُوسِبَ رَجُلٌ مِمَّنْ كَانَ قَبْلَكُمْ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مِنَ الْخَيْرِ شَىْءٌ إِلاَّ أَنَّهُ كَانَ يُخَالِطُ النَّاسَ وَكَانَ مُوسِرًا فَكَانَ يَأْمُرُ غِلْمَانَهُ أَنْ يَتَجَاوَزُوا عَنِ الْمُعْسِرِ قَالَ قَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ نَحْنُ أَحَقُّ بِذَلِكَ مِنْهُ تَجَاوَزُوا عَنْهُ " .
হাদীসের ব্যাখ্যা:
আলোচ্য হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ পূর্ব যুগের কোন এক ব্যক্তির যে ঘটনা বর্ণনা করেছেন, স্পষ্টত তা তিনি ওহীর দ্বারা জ্ঞাত হয়ে থাকবেন। সে এমতাবস্থায় দুনিয়া ছেড়ে গিয়েছে যে, তার দৃষ্টিতে এমন কোন আমল ছিল না যদ্বারা সে ব্যক্তিও জান্নাতের আশা পোষণ করতে পারে। তবে সে ব্যবসায়িক বিষয়েও লেন-দেনে আল্লাহর বান্দাদের সাথে অনুকম্পা করত এবং তাদেরকে সময় দিত এবং যদি কোন দরিদ্র ব্যক্তির নিকট বাকীতে বিক্রি করে থাকত অথবা ঋণ দিত আর সে ব্যক্তি পরিশোধ করতে অক্ষম ছিল তবে তাকে ক্ষমা করে দিত। আর সচ্ছল লোকদেরকে তাড়াতাড়ি আদায়ের জন্য চাপ দিত না। বরং তাদেরকে অবকাশ দিত যাতে ভবিষ্যতে আদায় করে। আল্লাহ তা'আলা তার এ কাজের ভিত্তিতে তাকে ক্ষমা করে দেন। তার জান্নাতের আদেশ হয়। শিক্ষা ও উপদেশ গ্রহণের ইহা ফলপ্রসু পন্থা যে, পূর্ববর্তীদের উপদেশমূলক ঘটনা বর্ণনা করতে হবে। কুরআন মাজীদে নবীগণ ও তাঁদের জাতির অথবা কোন কোন ব্যক্তির যে কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে তার বিশেষ উদ্দেশ্য ও দাবি এটাই। আলোচ্য হাদীসে ও সামনের হাদীসে রাসুলুল্লাহ ﷺ শিক্ষা ও উপদেশের জন্য এ পন্থাই গ্রহণ করেছেন।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
বর্ণনাকারী: