আল জামিউস সহীহ- ইমাম বুখারী রহঃ

১৮- তাহাজ্জুদ - নফল নামাযের অধ্যায়

হাদীস নং: ১০৮২
আন্তর্জাতিক নং: ১১৪৯
- তাহাজ্জুদ - নফল নামাযের অধ্যায়
৭৩১. রাতে ও দিনে তাহারাত (পবিত্রতা) হাসিল করার ফযীলত এবং উযু করার পর রাতে ও দিনে নামায আদায় করার ফযীলত।
১০৮২। ইসহাক ইবনে নসর (রাহঃ) ......... আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (ﷺ) একদিন ফজরের নামাযের সময় বিলাল (রাযিঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে বিলাল! ইসলাম গ্রহণের পর সর্বাধিক আশাব্যঞ্জক যে আমল তুমি করেছ, তার কথা আমার নিকট ব্যক্ত কর। কেননা, জান্নাতে আমি আমার সামনে তোমার পাদুকার আওয়াজ শুনতে পেয়েছি। বিলাল (রাযিঃ) বললেন, দিন রাতের যেকোন প্রহরে আমি তাহারাত ও পবিত্রতা অর্জন করেছি, তখনই সে তাহারাত দ্বারা নামায আদায় করেছি, যে পরিমাণ নামায আদায় করা আমার তাকদীরে লেখা ছিল। আমার কাছে এর চাইতে (অধিক) আশাব্যঞ্জক হয়, এমন কোন বিশেষ আমল আমি করিনি।
كتاب التهجّد
باب فَضْلِ الطُّهُورِ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ وَفَضْلِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْوُضُوءِ بِاللَّيْلِ وَالنَّهَارِ
1149 - حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ أَبِي حَيَّانَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ لِبِلاَلٍ: «عِنْدَ صَلاَةِ الفَجْرِ يَا بِلاَلُ حَدِّثْنِي بِأَرْجَى عَمَلٍ عَمِلْتَهُ فِي الإِسْلاَمِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ دَفَّ نَعْلَيْكَ بَيْنَ يَدَيَّ فِي الجَنَّةِ» قَالَ: مَا عَمِلْتُ عَمَلًا أَرْجَى عِنْدِي: أَنِّي لَمْ أَتَطَهَّرْ طَهُورًا، فِي سَاعَةِ لَيْلٍ أَوْ نَهَارٍ، إِلَّا صَلَّيْتُ بِذَلِكَ الطُّهُورِ مَا كُتِبَ لِي أَنْ أُصَلِّيَ " قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ: «دَفَّ نَعْلَيْكَ يَعْنِي تَحْرِيكَ»

হাদীসের ব্যাখ্যা:

এ হাদীসে রাসূলুল্লাহ ﷺ কর্তৃক জান্নাতে হযরত বিলাল (রা)-এর পদধ্বনি শোনার বিষয়টি স্বপ্নে দেখা একটি ঘটনা। ১. এ বিষয়ে এজন্য জানিয়ে দেয়া হল যে, জীবিত থাকা অবস্থায় হযরত বিলাল (রা) কিভাবে জান্নাতে প্রবেশ করলেন, সে প্রশ্ন যাতে উত্থাপিত না হয়। তবে একথা নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, নবী কারীম ﷺ কর্তৃক হযরত বিলাল (রা) কে জান্নাতে দেখা এবং তার বিবরণ দান একথারই সাক্ষ্য দেয় যে, হযরত বিলাল (রা) জান্নাতী। বরং তিনি প্রথম শ্রেণীর জান্নাতীদের অন্যতম।
এ হাদীসের আধ্যাত্মিক দিক হলো এই যে, মানুষ যখনই উযূ করে তখনই যেন সে তার সাধ্য অনুসারে সালাত আদায় করে, চাই ফরয হোক কি নফল কিংবা সুন্নাত।
১. যে সকল বিবেচনায় বিষয়টিকে নবী কারীম ﷺ এর স্বপ্ন বলে বর্ণনা করা হয়েছে তার সবিস্তার বিবরণ জানার জন্য ফাতহুল বারী দ্রষ্টব্য।
ব্যাখ্যা সূত্রঃ_ মা'আরিফুল হাদীস (মাওলানা মনযূর নোমানী রহ.)
tahqiqতাহকীক:বিশুদ্ধ (পারিভাষিক সহীহ)