আল মুসনাদুস সহীহ- ইমাম মুসলিম রহঃ
১৯- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
হাদীস নং: ৩৫৯১
আন্তর্জাতিক নং: ১৪৮৯
- ত্বালাক - বিবাহ বিচ্ছেদ অধ্যায়
৮. স্বামীর মৃত্যুকালীন ইদ্দতে বিধবা স্ত্রীর শোক পালন করা ওয়াজিব এবং অন্যান্যদের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হারাম
৩৫৯১। ইয়াহয়া ইবনে ইয়াহয়া (রাহঃ) ......... হুমায়দ ইবনে নাফি (রাহঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যায়নাব বিনতে আবু সালামা (রাযিঃ) তাকে এই তিনটি হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি (হুমায়দ ইবনে নাফি) বলেন,
১. যায়নাব (রাযিঃ) বলেছেন, যখন নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর পিতা আবু সুফিয়ান ইন্তিকাল করেন তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হলদে বর্ণের মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন অথবা অন্য কোন প্রসাধনী চেয়ে পাঠালেন। এরপর তা থেকে একটি বালিকাকে নিজ হাতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তার দুই কপালে হাত মুছে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিলনা। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে মহিলার জন্য তার কোন আত্মীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।
২. যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি (নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী) যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। সে সময় তার ভাই ইন্তিকাল করেছিলেন। আমি দেখলাম, তিনিও সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার থেকে স্পর্শ করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে তার জন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।
৩. এরপর যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার মা উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, একবার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কন্যাকে রেখে তার স্বামী ইন্তিকাল করেছেন। তার (শোক পালন করতে গিয়ে) চোখে অসুখ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কি তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না। এরপর সে দুই কি তিনবার জিজ্ঞাসা করল। প্রতিবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, তার ইদ্দত তো চার মাস দশদিন। অথচ জাহিলী যুগে তোমাদের একজন মহিলা বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত।
হুমায়দ বলেন, আমি যায়নাবকে বললাম, এ বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার তাৎপর্য কি? যায়নাব (রাযিঃ) বললেন, সেকালে কোন স্বামী ইন্তিকাল করলে তাকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে (কুঠূরিতে) প্রবেশ করতে হত। ছিড়ে-ফাড়া কাপড় চোপড় পরিধান করতে হত। সে কোন প্রসাধনী দ্রব্য স্পর্শ করতে পারত না কিংবা অন্য কোন সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করত না। এমনিভাবে একটি বছর কেটে যেত। এরপর তার সামনে আনা হত গাধা বকরী কিংবা পাখি জাতীয় কোন প্রাণী এবং সে ঐ প্রাণীকে স্পর্শ করে ইদ্দত পূর্ণ করত। সে যে প্রাণীকে স্পর্শ করত তা খুব কমই বাঁচত। এরপর সে ঐ সংকীর্ণ থেকে বের হয়ে আসত। তখন তার হাতে উটের বিষ্ঠা দেওয়া হত এবং সে তা মারত। এরপর সে তার পছন্দসই প্রসাধনী সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রতি মনযোগী হত।
১. যায়নাব (রাযিঃ) বলেছেন, যখন নবী (ﷺ) এর সহধর্মিনী উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর পিতা আবু সুফিয়ান ইন্তিকাল করেন তখন আমি তাঁর কাছে গেলাম। আমি দেখতে পেলাম যে, উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) হলদে বর্ণের মিশ্রিত সুগন্ধি আনালেন অথবা অন্য কোন প্রসাধনী চেয়ে পাঠালেন। এরপর তা থেকে একটি বালিকাকে নিজ হাতে লাগিয়ে দিলেন। এরপর তিনি তার দুই কপালে হাত মুছে নিলেন। এরপর তিনি বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিলনা। তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও পরকালে ঈমান রাখে, সে মহিলার জন্য তার কোন আত্মীয়ের মৃত্যুতে তিন দিনের বেশী শোক পালন করা হালাল নয়। তবে বিধবা স্ত্রী তার স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।
২. যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, এরপর আমি (নবী (ﷺ) এর সহধর্মিণী) যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাযিঃ) এর কাছে গেলাম। সে সময় তার ভাই ইন্তিকাল করেছিলেন। আমি দেখলাম, তিনিও সুগন্ধি চেয়ে পাঠালেন এবং তার থেকে স্পর্শ করলেন। এরপর বললেন, আল্লাহর কসম! আমার সুগন্ধি ব্যবহারের কোন প্রয়োজন ছিল না তবে আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছি যে, যে মহিলা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে তার জন্য মৃত ব্যক্তির জন্য তিনদিনের অধিক শোক পালন করা হালাল নয়। তবে স্বামীর মৃত্যুতে চার মাস দশদিন শোক পালন করবে।
৩. এরপর যায়নাব (রাযিঃ) বলেন, আমি আমার মা উম্মে সালামা (রাযিঃ) কে বলতে শুনেছি যে, একবার এক মহিলা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমার কন্যাকে রেখে তার স্বামী ইন্তিকাল করেছেন। তার (শোক পালন করতে গিয়ে) চোখে অসুখ হয়েছে। এ অবস্থায় আমরা কি তার চোখে সুরমা ব্যবহার করতে পারি? তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না। এরপর সে দুই কি তিনবার জিজ্ঞাসা করল। প্রতিবারই তিনি বললেন, না। এরপর তিনি বললেন, তার ইদ্দত তো চার মাস দশদিন। অথচ জাহিলী যুগে তোমাদের একজন মহিলা বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করত।
হুমায়দ বলেন, আমি যায়নাবকে বললাম, এ বছরান্তে উটের বিষ্ঠা নিক্ষেপ করার তাৎপর্য কি? যায়নাব (রাযিঃ) বললেন, সেকালে কোন স্বামী ইন্তিকাল করলে তাকে একটি সংকীর্ণ কক্ষে (কুঠূরিতে) প্রবেশ করতে হত। ছিড়ে-ফাড়া কাপড় চোপড় পরিধান করতে হত। সে কোন প্রসাধনী দ্রব্য স্পর্শ করতে পারত না কিংবা অন্য কোন সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহার করত না। এমনিভাবে একটি বছর কেটে যেত। এরপর তার সামনে আনা হত গাধা বকরী কিংবা পাখি জাতীয় কোন প্রাণী এবং সে ঐ প্রাণীকে স্পর্শ করে ইদ্দত পূর্ণ করত। সে যে প্রাণীকে স্পর্শ করত তা খুব কমই বাঁচত। এরপর সে ঐ সংকীর্ণ থেকে বের হয়ে আসত। তখন তার হাতে উটের বিষ্ঠা দেওয়া হত এবং সে তা মারত। এরপর সে তার পছন্দসই প্রসাধনী সুগন্ধি ইত্যাদি ব্যবহারের প্রতি মনযোগী হত।
كتاب الطلاق
باب وُجُوبِ الإِحْدَادِ فِي عِدَّةِ الْوَفَاةِ وَتَحْرِيمِهِ فِي غَيْرِ ذَلِكَ إِلاَّ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ نَافِعٍ، عَنْ زَيْنَبَ بِنْتِ أَبِي سَلَمَةَ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ هَذِهِ الأَحَادِيثَ الثَّلاَثَةَ، قَالَ قَالَتْ زَيْنَبُ دَخَلْتُ عَلَى أُمِّ حَبِيبَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم حِينَ تُوُفِّيَ أَبُوهَا أَبُو سُفْيَانَ فَدَعَتْ أُمُّ حَبِيبَةَ بِطِيبٍ فِيهِ صُفْرَةٌ خَلُوقٌ أَوْ غَيْرُهُ فَدَهَنَتْ مِنْهُ جَارِيَةً ثُمَّ مَسَّتْ بِعَارِضَيْهَا ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " . قَالَتْ زَيْنَبُ ثُمَّ دَخَلْتُ عَلَى زَيْنَبَ بِنْتِ جَحْشٍ حِينَ تُوُفِّيَ أَخُوهَا فَدَعَتْ بِطِيبٍ فَمَسَّتْ مِنْهُ ثُمَّ قَالَتْ وَاللَّهِ مَا لِي بِالطِّيبِ مِنْ حَاجَةٍ غَيْرَ أَنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ عَلَى الْمِنْبَرِ " لاَ يَحِلُّ لاِمْرَأَةٍ تُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ تُحِدُّ عَلَى مَيِّتٍ فَوْقَ ثَلاَثٍ إِلاَّ عَلَى زَوْجٍ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا " . قَالَتْ زَيْنَبُ سَمِعْتُ أُمِّي أُمَّ سَلَمَةَ، تَقُولُ جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ ابْنَتِي تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا وَقَدِ اشْتَكَتْ عَيْنُهَا أَفَنَكْحُلُهَا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لاَ " . مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا كُلَّ ذَلِكَ يَقُولُ لاَ ثُمَّ قَالَ " إِنَّمَا هِيَ أَرْبَعَةُ أَشْهُرٍ وَعَشْرٌ وَقَدْ كَانَتْ إِحْدَاكُنَّ فِي الْجَاهِلِيَّةِ تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ " . قَالَ حُمَيْدٌ قُلْتُ لِزَيْنَبَ وَمَا تَرْمِي بِالْبَعَرَةِ عَلَى رَأْسِ الْحَوْلِ فَقَالَتْ زَيْنَبُ كَانَتِ الْمَرْأَةُ إِذَا تُوُفِّيَ عَنْهَا زَوْجُهَا دَخَلَتْ حِفْشًا وَلَبِسَتْ شَرَّ ثِيَابِهَا وَلَمْ تَمَسَّ طِيبًا وَلاَ شَيْئًا حَتَّى تَمُرَّ بِهَا سَنَةٌ ثُمَّ تُؤْتَى بِدَابَّةٍ حِمَارٍ أَوْ شَاةٍ أَوْ طَيْرٍ فَتَفْتَضُّ بِهِ فَقَلَّمَا تَفْتَضُّ بِشَىْءٍ إِلاَّ مَاتَ ثُمَّ تَخْرُجُ فَتُعْطَى بَعَرَةً فَتَرْمِي بِهَا ثُمَّ تُرَاجِعُ بَعْدُ مَا شَاءَتْ مِنْ طِيبٍ أَوْ غَيْرِهِ .
বর্ণনাকারী: